আশেক মাশুক বা এস্কে এলাহী বইয়ের মিথ্যাচার বা ভুল ভ্রান্তি

বই ভুল ভ্রান্তি মিথ্যা জাল যয়ীফ জয়ীফ দূর্বল বেহেস্তী জেওর হেদায়া কুদুরী এহিয়াও ঊলুমূদ্দিন মসনবী শরীফ নেয়ামুল কোরাণ দোয়ায় গঞ্জল আরশ খাবনামা ও ফালনামা তাজকিরাতুল আওলিয় ভেদে মারেফত ইয়াদে খোদা আশেকে মাশুক এস্কে এলাহী ফাজেয়েলে আমল গ্রন্থ সাবধান সতর্ক
আশেক মাশুক বা এস্কে এলাহী বইয়ের মিথ্যাচার বা ভুল ভ্রান্তি

আল্লাহ্‌ তায়ালার সাথে চরম বেয়াদবী ও অশালীন উপমাঃ -১
”ওগো আমার মাশুক মাওলা!
আপনি আপনার কুদরতি নজরে আমার দিকে চাহিয়া দেখুন,
আমি এখন আমি নাই,আমি আপনি হইয়াছি,
আর আপনি আমি হইয়াছেন;
আমি হইয়াছি তন, আপনি হয়াছেন জান” (নাউজুবিল্লাহ)
(সৈয়দ মোহাম্মাদ এছহাক এর রচনাবলী; আল-এছহাক পাবলিকেশন্স; বাংলাবাজার প্রকাশকাল ফেব্রুয়ারি ২০০৭; আশেক মাশুক পৃষ্ঠা নঃ ৪১)
পীর সাহেবের এই আকীদার নাম হলোঃ “হালুল” বিভ্রান্ত সূফীদের একটি জঘন্য শিরকি আকীদাহ এটি, ‘হালুল’ বলতে তারা(বিভ্রান্ত সুফিরা) বুঝায় যে, আল্লাহ তার প্রিয় বান্দার মধ্যে প্রবেশ করেন (নাউযুবিল্লাহ), এই ‘হালুল’ এর আকীদার প্রবরতক হলোঃ “হোসাইন বিন মানসুর আল-হাল্লাজ” নামক এক জালিম, এই জামিল নিজেকে হক্ক বা আল্লাহ বলে দাবী করেছিল, এবং সে বলতো যে তার বাহ্যিক রুপ তার অন্তরের রুপকে সিজদাহ করে কেননা তার বিশ্বাস ছিল যে, সে বাহির থেকে মানুষ কিন্তু ভিতর থেকে আল্লাহ।(নাউযুবিল্লাহ) তার এই শিরকি আকীদার জন্য তাকে কেটে ঝুলিয়ে রাখা হয় অতঃপর তাকে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। ঠিক একই আকীদা পীর সাহেব থেকেও পাওয়া যাচ্ছে, তাই পীর সাহেবকেও মানসুর হাল্লাজের মত শাস্তি দেওয়া উচিত, যাই হোক পীর সাহেবতো এটাও জানেন না যে, তিনি মুসলিম না অগ্নিপুজক!!!
মুসলিমরা জানেন যে, আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় বান্দা হলেন রাসুল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যদি আল্লাহ তার প্রিয় বান্দাদের মধ্যে প্রবেশ করতেন তাহলে তিনি রাসুল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মধ্যেই প্রবেশ করতেন, মুসলিমরা জানেন যে কোন সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহর প্রবেশ করা আল্লাহর শানের বা সম্মানের বাহিরে।
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
”তারা আল্লাহ্‌র যথাযোগ্য মর্যাদা দেয় না। কিয়ামতের দ্বীন সমগ্র পৃথিবী তাঁর হাতের মুষ্টিতে থাকবে, আর আকাশমণ্ডলী থাকবে ভাজ করা অবস্থায় তাঁর ডান হাতে। মাহাত্ম তাঁরই, তারা যাদেরকে তাঁর শরীক করে, তিনি তাদের থেকে বহু উরধে” সুরা আয-যুমার আয়াত নঃ ৬৭
”আর তিনি মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিকা নারী, মুশরিক পুরুষ ও মুশরিকা নারীকে শাস্তি দিবেন যারা আল্লাহ্‌ সম্পর্কে খারাপ ধারনা পোষণ করে। তাদের জন্য আছে অশুভ চক্র। আল্লাহ্‌ তাদের উপর রাগান্বিত হয়েছেন আর তাদেরকে লা’নাত করেছেন। তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন জাহান্নাম। তা কতই না নিকৃষ্ট আবাসস্থল” সুরা আল-ফাতহ আয়াত নঃ ৬
তায়ালার সাথে চরম বেয়াদবী ও অশালীন উপমাঃ -২
মহান আল্লাহকে প্রেমিকা হিসাবে সম্বোধন!!! (নাউজুবিল্লাহ)
”হে আমার মাশুক! আপনি আমাকে আপনার এস্কে রাত-দিন মত্ত, মাতোয়ারা, বে-ক্বারার ও অস্থির করিয়া রাখুন‘’
সৈয়দ মোহাম্মাদ এছহাক এর রচনাবলী; আল-এছহাক পাবলিকেশন্স; বাংলাবাজার প্রকাশকাল ফেব্রুয়ারি ২০০৭; আশেক মাশুক পৃষ্ঠা নঃ ৫
======================
আল্লাহ্‌ তায়ালার সাথে চরম বেয়াদবী ও অশালীন উপমাঃ ৩
‘’অতিশয় খুব ছুরাত সুন্দরী পর্দার আড়ালে লুকাইয়া থাকিতে অক্ষম; তুমি তাহাকে পর্দায় রাখার জন্য দরওয়াজা বন্ধ করিলেও তিনি জানালা দিয়া মুখ বাহির করিয়া রুপ দেখাইবেন।
তাই হে মাশুকে হাক্বীক্বী মাওলা! আপনিও আর একা থাকিতে না পারিয়া আমাদিগকে নিজ হাতে পয়দা করিয়া, নিজরুপ দেখাইয়া যখন আশেক বানাইয়াছেন, এখন কেন গোপন থাকিবেন? দয়া করিয়া দেখা দেন, প্রান তো মানে না গো”
সৈয়দ মোহাম্মাদ এছহাক এর রচনাবলী; আল-এছহাক পাবলিকেশন্স; বাংলাবাজার; প্রকাশকাল ফেব্রুয়ারি ২০০৭; আশেক মাশুক পৃষ্ঠা নঃ ১০-১১
===================
কথাগুলো আসলে কিরুপ অর্থ বহন করে?
পীর সাহবে বলেছেনঃ “আপনিও আর একা থাকিতে না পারিয়া আমাদিগকে নিজ হাতে পয়দা করিয়া” অর্থাৎ আল্লাহ আর একা থাকতে না পেরে আমাদের সৃষ্টি করেছেন, অর্থাৎ পীর সাহেবের মতে আল্লাহ একা থাকতে সক্ষম নন তাই বাধ্য হয়ে আমাদের সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু আল্লাহ বলেছেনঃ “তিনি কোন কিছুরই মুখাপেক্ষী নন” (সুরা ইখলাসঃ৪)অর্থাৎ তিনি কোন কিছুরই বাধ্য নন, সুতরাং প্রমানিত হল যে, পীর সাহবে কোরআন এর স্পষ্ট আয়াতের বিরুদ্ধে অবস্থান করছেন।
এছাড়াও পীর সাহেবের অপবিত্র বানীঃ “আপনিও আর একা থাকিতে না পারিয়া আমাদিগকে নিজ হাতে পয়দা করিয়া” দ্বারা প্রমানিত হয় যে, যখন আল্লাহ আর একা থাকতে পারছিলেন না তখন তার একাকীত্ব দূর করার জন্য আমাদের সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু দুর্ভাগ্য এটিও কোরআন এর স্পষ্ট আয়াতের বিরুদ্ধে, মহান ও পবিত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেছেনঃ “আমি জীন এবং মানব জাতিকে একমাত্র আমার ইবাদাত করার জন্য সৃষ্টি করেছি” কিন্তু পীর সাহেব তো বলছেন ভিন্ন কথা,
পীর সাহেব আরও এগিয়ে বলেছেনঃ “নিজরুপ দেখাইয়া যখন আশেক বানাইয়াছেন”, অর্থাৎ পীর সাহেবকে আল্লাহ তার নিজের রুপ দেখিয়েছেন, সুতরাং পীর সাহবে আল্লাহকে দেখেছেন!!! চিন্তা করেছেন যে, পীর সাহেব কত বড় ব্যক্তি???!!! যেখানে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই পৃথিবীতে অবস্থান কালে আল্লাহকে দেখতে পারেন নি এমন কি মিরাজ এ গিয়েও আল্লাহকে দেখতে পারেন নি সেখানে চরমনাই পীর সাহেব আল্লাহকে দুনিয়াতে বসে দেখেছেন!!!
আল্লাহকে এই পৃথিবীতে দেখা সম্ভব নয়, কেননা মুসা আলাইহি ওয়া সালাম তাঁর রবকে বললেন ‘’হে আমার প্রতিপালক আমাকে দেখা দেও, আমি তোমাকে দেখব। তিনি বললেন, তুমি আমাকে কক্ষনো দেখতে পাবে না, বরং তুমি পাহাড়ের দিকে তাকাও, যদি তা নিজ স্থানে স্থির থাকতে পারে তাহলে তুমি আমাকে দেখতে পাবে।’’ অতঃপর তাঁর প্রতিপালক যখন পাহারে নিজ জ্যোতি বিচ্ছুরিত করলেন, তখন তা পাহারকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিল আর মুসা চৈতন্য হারিয়ে পড়ে গেল ” সুরা আ’রাফঃ ১৪৩ ,
আল্লাহকে আখেরাতে দেখা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদীসঃ
‘’তোমরা মৃত্যুবরণ করার পূর্বে কিছুতেই তোমাদের মহা প্রভুকে দেখতে পাবে না’’ ফাতহুল বারীঃ ৮৪৯৩
আল্লাহ্‌ তায়ালার সাথে চরম বেয়াদবী ও অশালীন উপমাঃ ৪
”আসুন গো ওহে আমাদের মাশুক!
নিরালা নির্জনে বসি প্রেম আলাপ করি গো”
সৈয়দ মোহাম্মাদ এছহাক এর রচনাবলী; আল-এছহাক পাবলিকেশন্স; বাংলাবাজার; প্রকাশকাল ফেব্রুয়ারি ২০০৭; আশেক মাশুক পৃষ্ঠা নঃ ১৫
====================
পীর সাহেব আল্লাহকে এই পৃথিবীতে ডাকছেন প্রেম আলাপ করার জন্য! (নাউযুবিল্লাহ)
লক্ষণীয় বিষয়, পীর সাহেব আল্লাহকে এই পৃথিবীতে ডাকছেন, কিন্তু আমি আগেই কোরআনের আয়াত দিয়ে প্রমান করেছি যে, আল্লাহকে এই পৃথিবীতে দেখা সম্ভব নয়, যেখানে আল্লাহর পাঠানো নূর বা আলো পৃথিবীর পাহাড় সহ্য করতে না পেরে পাহাড় ধ্বংস হয়ে গেছে সেখানে আল্লাহ এই পৃথিবীতে আসলে এই পৃথিবী কি টিকে থাকতে পারবে? না কখনই না, কেননা মুসা আলাইহি ওয়া সালাম এই পৃথিবীতে আল্লাহকে দেখতে চেয়েছিলেন কিন্তু তিনি পারেন নি, এবং আল্লাহ এই পৃথিবীতে আসার মুখাপেক্ষী নন,
আল্লাহ্‌ তায়ালার সাথে চরম বেয়াদবী ও অশালীন উপমাঃ ৫
”ওগো মাওলা!
তোমার বিচ্ছেদের আগুন যেন দোজখের আগুন!
আমি ভুল বলিয়াছি,
তোমার মতো সুন্দর মাশুকের জুদাইর অগ্নি সম কোন অগ্নি নাই।
তাই বলি, আর দূরে রাখিয়া আমারে জালাইও না গো ,
কত আর জ্বালাইবা, সহিতে পারি না গো”
সৈয়দ মোহাম্মাদ এছহাক এর রচনাবলী; আল-এছহাক পাবলিকেশন্স; বাংলাবাজার; প্রকাশকাল ফেব্রুয়ারি ২০০৭; আশেক মাশুক পৃষ্ঠা নঃ ১৬
====================
পীর সাহেব যেমন শব্দগুলো আল্লাহর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করছেন ঠিক সেই শব্দগুলো সাধারণত প্রেমিক-প্রেমিকারা প্রয়োগ করে থাকেন, এরুপ শব্দ মহাম আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা জঘন্য বেয়াদবী, পীর সাহেবের সাহস থেকে আমার অবাক লাগে যে তিনি মুসলিমদের মধ্যে এসব কথা ছড়াচ্ছেন, অবশ্য তার সাহসও হওয়ারই কথা, যেহেতু তার কিছু অন্ধ ও মূর্খ অনুসারীও রয়েছে, যেমন অনুসারী রয়েছে ভারত উপমহাদেশে শিরক ও বিদআত এর প্রধান ধারক ও বাহক আহমাদ রেযা খান বেরেলভীর। পীর সাহেবের বানীঃ “তোমার বিচ্ছেদের আগুন” থেকে প্রমানিত হয় যে আল্লাহ এবং পীর সাহেবের কোন দিন মিলন হয়েছিল(নাউযুবিল্লাহ), কেননা মিলন না হলে বিচ্ছেদ হয় না, আর যেহেতু বিচ্ছেদ হয়েছে সেহেতু মিলনও হয়েছিল, কিন্তু মিলন হওয়ার জন্য আল্লাহকে এই পৃথিবীতে আস্তে হবে কেননা পীর সাহেবতো এই পৃথিবীতে থাকেন, কিন্তু আমি আগেই প্রমান করেছি যে আল্লাহ এই পৃথিবীতে আসবেন না, আর বাকী থাকলো আরেকটি পথ তা হল পীর সাহেবকে যেতে হবে আল্লাহর কাছে, অর্থাৎ, মিরাজ-এ, কিন্তু মিরাজ ছিল একমাত্র রাসুল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্য, অর্থাৎ মিরাজ এরও আর সুযোগ থাকলো না, তাহলে আল্লাহর আর পীর সাহেবের মিলন হলো কিভাবে? পীর সাহেব আরও বলেছেনঃ “আর দূরে রাখিয়া আমারে জালাইও না গো” অর্থাৎ, আল্লাহ পীর সাহেবকে দূরে রেখে জ্বালাচ্ছেন! তাহলে প্রশ্ন হলো পীর সাহেবকে আল্লাহ কাছে রেখেছিলেন কবে? যদি পীর সাহেবকে দূরে রেখে আল্লাহ এখন জ্বালিয়ে থাকেন তাহলে প্রমান হয় যে কোন দিন আল্লাহ পীর সাহেবকে কাছেও রেখেছিলেন! কিন্তু আমিতো আগেই প্রমান করেছি যে, পীর সাহেব নয় কখনও আল্লাহকে দেখেছেন, না তিনি আল্লাহর সাথে মিলেছেন, সুতরাং এটাও প্রমান হয়ে গেল যে, পীর সাহেব কোন দিনও আল্লাহর কাছে ছিলেন না। কেননা না আল্লাহ এই পৃথিবীতে এসেছেন এবং না পীর সাহেব মিরাজ করে আল্লাহর কাছে গিয়েছেন। সুতরাং আবারও পীর সাহেব মিথ্যা বলেছেন, পীর সাহেব আরও বলেছেনঃ “কত আর জালাইবা” জ্বালানো শব্দটিকে দুভাবে প্রয়োগ করা যায়, এক হলো কোন কাওকে জ্বালানো অর্থাৎ ‘কষ্ট দেওয়া’ বা ‘বিরক্ত করা’ আর ২য় অর্থটি হল প্রেমিক-প্রেমিকাদের ক্ষেত্রে, যেহেতু পীর সাহেব চরম বেয়াদবী ইতিপূর্বেও বহুবার করেছেন সেহেতু জ্বালানো শব্দের ২য় অর্থটিকেই ধরে নিচ্ছি কিন্তু ২য় অর্থটি আল্লাহর ক্ষেত্রে চরম বেয়েদবীর অর্থ বহন করে, আর যদি প্রথম অর্থটি ধরে নেই তাহলে হলো কষ্ট দেওয়া কিন্তু আল্লাহ একমাত্র তার নাফরমান বান্দাকেই কষ্টদেন, মুমিন বান্দাকে না, আর ‘বিরক্ত করা’ আল্লাহর সম্মানের বাহিরে, বিরক্ত করা আল্লাহর মাখলুকের গুন কিন্তু আল্লাহর নয়, তাই বিরক্ত শব্দটি আল্লাহর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যাবে না। কেননা এতে করে তাওহীদুল আসমা ওয়া সিফাত এর ৫টি শর্ত হতে একটি শর্ত ভঙ্গ হয়ে শিরক সম্পাদিত হয়, তাওহীদুল আসমা ওয়া সিফাত এর ৫টি শর্ত হতে একটি শর্ত হলোঃ “আল্লাহর কোন গুন তার মাখলুককে দেওয়া যাবে না যা তিনি সাব্যস্ত করেন নি এবং মাখলুক এর কোন গুনও আল্লাহকে দেওয়া যাবে না যা তিনি নিজের জন্য সাব্যস্ত করেন নি” সুতরাং পীর সাহেবের কথাগুলো যেই অর্থেই নেই না কেন তা বেয়াদবী এবং শিরক এর অর্থই বহন করে
আল্লাহ্‌ তায়ালার সাথে চরম বেয়াদবী ও অশালীন উপমাঃ ৬
”ওগো আমার মাশুক!
আপনি বেপর্দা হইয়া আমার এই বাসায় আসুন’’
সৈয়দ মোহাম্মাদ এছহাক এর রচনাবলী; আল-এছহাক পাবলিকেশন্স; বাংলাবাজার; প্রকাশকাল ফেব্রুয়ারি ২০০৭; আশেক মাশুক পৃষ্ঠা নঃ ৫০
=================
এখানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলাকে তার ঘরে আসতে বলছে, তিনি আল্লাহ যিনি সমস্ত কিছুকে সৃষ্টি করেছেন, যিনি কোন কিছুর মুখাপেক্ষী নন তাকে পৃথিবীর সামান্যতম একটি ঘরে আসতে বলছে পীর সাহেব, আমি পূর্বেই প্রমান করেছি যে মহাম আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা এই পৃথিবীতে আসবেন না যার ফলে মুসা আলাইহি ওয়া সালাম আল্লাহকে দেখতে পারেন নি, এই পৃথিবীকে আল্লাহ তার মাখলুককে ধারন করার জন্য সৃষ্টি করেছেন আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা রয়েছেন আসমানের উপর আরশের উপর, এবং সেখানে থাকাটাই তার(আল্লাহর) শান, পীর সাহেবের কথাগুলো আমাকে হিন্দুদের আকীদার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে, হিন্দুরা মনে করে যে, আমাদের প্রতিপালক মাঝে মাঝে এই পৃথিবীতে আসেন যাকে তারা(হিন্দুরা) ‘অবতার’ বলে থাকে, যদিও হিন্দু পণ্ডিতদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে এই “অবতার” শব্দটি নিয়ে।
আল্লাহ্‌ তায়ালার সাথে চরম বেয়াদবী ও অশালীন উপমাঃ ৭
”মাহবুবের (অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালার) নাম জেকের করা আশেকের নিকট শরাবের মতো মজা”
সৈয়দ মোহাম্মাদ এছহাক এর রচনাবলী; আল-এছহাক পাবলিকেশন্স; বাংলাবাজার; প্রকাশকাল ফেব্রুয়ারি ২০০৭; আশেক মাশুক পৃষ্ঠা নঃ ২৪
পীর সাহেব মহান আল্লাহর জিকীরকে শরাব বা মদের সাথে তুলনা করলেন, এবং তিনি মদকে মজা বলেও উল্লেখ করলেন, কিন্তু ইসলামী শারিয়াত অনুসারে শরাব বা মদ একটি জঘন্য পানীয়, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর জিকীরকে অপবিত্র মদের সাথে তুলনা করতে পারেন, সেই ব্যক্তি কি ঈমানদার হতে পারেন? প্রশ্নটি থেকে গেল,
ইসলামি শরিয়তের সাথে মারাত্মক ধৃষ্টতাঃ
‘’কামেল পীরের আদেশ পাইলে,
নাপাক শারাব(মদ) দ্বারাও জায়নামাজ রঙ্গিন করিয়া তাহাতে নামাজ পড়’’
সৈয়দ মোহাম্মাদ এছহাক এর রচনাবলী; আল-এছহাক পাবলিকেশন্স; বাংলাবাজার প্রকাশকাল ফেব্রুয়ারি ২০০৭; আশেক মা’শুক বা এস্কে এলাহী; পৃষ্ঠা নঃ ৩৫
পীর সাহেবের উক্ত নির্দেশ থেকে এটি স্পষ্ট যে, কোরআন এবং সুন্নাহতে কি আছে তা তার জানার দরকার নেই, বরং পীর সাহেবের নির্দেশ পালন করাই জরুরী। অবশ্য শুধু মাত্র মুসলিমরাই কোরআন এবং সুন্নাহ এর নির্দেশ পালন করেন এবং এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন,
কুরআন নয় তাদের লিখিত কিতাব ‘খতম’ করার জন্য ও সেই অনুযায়ী আমল করার জন্য চরমনাই পীরের ধৃষ্টতাপূর্ণ নাসীহাতঃ
‘’আপনারা প্রত্যেকেই আমার লিখিত কিতাবগুলোর প্রত্যেকটি কিতাব খরিদ করিয়া বারবার পড়িয়া খতম করিবেন, এবং তদানুযায়ি আমল করিবেন’’
সৈয়দ মোহাম্মাদ এছহাক এর রচনাবলী; আল-এছহাক পাবলিকেশন্স; বাংলাবাজার প্রকাশকাল ফেব্রুয়ারি ২০০৭; আশেক মা’শুক বা এস্কে এলাহী; পৃষ্ঠা নঃ ১১১
===================
আমরা যারা মুসলিম আমাদের হিদায়াতের জন্য কুরআন ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বানীই যথেষ্ট। চরমনাই পীরের শিরকী কিতাবের কোনই প্রয়োজন নেই।

কোথায় যাচ্ছেন? আরো নতুন কিছু জানার জন্য এই লেখাটি পড়ুনঃ   কিছু ভুল ভ্রান্ত বা মিথ্যা যুক্ত বইয়ের নামের তালিকা

About MuslimPoint Organization

MuslimPoint একটি অনলাইন ভিত্তিক ইসলামী প্রশ্নোত্তর, গ্রন্থাগার, ব্লগিং, কুরআন, হাদিস, কুইজ এবং বিষয় ভিত্তিক রেফারেন্স প্ল্যাটফর্ম।

View all posts by MuslimPoint Organization →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *