জেনে নিই হজ্জ ও উমরা এর বিস্তারিত(পর্ব ৫)।

হজ্জ-হাজী-muslimpoint
পর্ব ৫ঃ

 ❌❌হজের ক্ষেত্রে ভুলত্রুটি ও বিদ‘আত
=======================

দীর্ঘ ১৪০০ বছর সময় ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের দেশগুলোতে হজের রীতি-নীতি মৌখিক ও লিখিত আকারে পৌঁছেছে। দুঃখের বিষয় হলো এ দীর্ঘ্য সময়ের ব্যাবধানে কিছু লোক অথবা দল হজের কিছু রীতি-নীতির মূল ধারা থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং এটা হওয়া স্বাভাবিকভাবে অনিবার্য ছিল।

কিছু লোক অথবা দল হজের কিছু রীতি-নীতি ভুলভাবে বুঝেছে এবং তারা তাদের সেই বোধ থেকেই হজের রীতিনীতি পালন করছে। আবার অনেকে হজের পদ্ধতিতে নতুন রীতি ও বিভিন্ন দো‘আ যোগ করেছে। সাধারণভাবে দেখলে এসব রীতি সঠিকই মনে হবে, এর কোনো ত্রুটিই খুজে পাবেন না। মনে হবে এসব রীতি পালন করাও ভালো।

কিন্তু কথা হলো কেন এসব ভ্রান্ত রীতি বা অতিরিক্ত রীতি পালন করবেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজে যা যা করেছেন তার থেকে বেশি করে আপনি কি বেশি আমল অর্জন করতে পারবেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে করেছেন এবং করার জন্য উপদেশ দিয়েছেন সে সম্পর্কে আপনি যতটুক শুদ্ধ ভাবে জানতে পারেন বা আপনার জ্ঞান অনুসারে আমল করাই কি ভালো নয়? আপনি কি জানেন, ইবাদতে বা আমলে নতুন রীতি তৈরি অথবা নতুন কিছু যোগ করার ফলে আপনার ইবাদতই বাতিল হয়ে যেতে পারে; কেননা তা বিদ‘আত!

এখন প্রশ্ন আসতে পারে; রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হজের নিয়ম-কানুন আমি কোথায় পাবো বা কীভাবে জানবো? উত্তর সহজ: সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী-এর হজ অধ্যায়ের হাদীস পড়ুন। যদি সব হাদীস পড়ার মতো যথেষ্ট সময় না পান বা সকল হাদীস বই না থাকে তাহলে নির্ভরযোগ্য সুপরিচিত আলেমদের দলীল ভিত্তিক লেখা বই পড়ুন। কয়েকটি বই পড়ে যাচাই করুন। হজের শুদ্ধ রীতি-নীতির সবকিছুই বিভিন্ন বই থেকে পেয়ে যাবেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, ‘‘তোমরা হজের নিয়ম-কানুন শিখে নাও আমার কাছ থেকে”।[1]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, ‘‘আমি তোমাদের যা কিছু করতে বলেছি সেই সব ব্যতীত আর কোনো কিছুই তোমাদের জান্নাতের নিকটবর্তী করবে না এবং যে সকল বিষয় সতর্ক করেছি সেগুলো ব্যতীত কোনো কিছুই তোমাদের জাহান্নামের নিকটবর্তী করবে না”।[2]

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, ‘‘যে দীনের মধ্যে এমন কাজ করবে যার প্রতি আমার নির্দেশনা নেই তা প্রত্যাখ্যাত (বাতিল)”।[3]

হুযায়ফাহ ইবন আল ইয়ামান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, ‘‘যেসব ইবাদাত (আমল) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ করেন নি, তা তোমরাও করো না”।[4]

ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, ‘‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ মেনে চলো ও নতুন কিছু সৃষ্টি করো না, রাসূলের দেখানো এ পথ আঁকড়ে ধরাই তোমাদের জন্য যথেষ্ট’’।

কোথায় যাচ্ছেন? আরো নতুন কিছু জানার জন্য এই লেখাটি পড়ুনঃ   জেনে নিই হজ্জ ও উমরা এর বিস্তারিত(পর্ব ৬)।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘প্রত্যেক নতুন সৃষ্টিই (বিদ‘আত) পথভ্রষ্টতা, এবং সকল পথভ্রষ্টতা আগুনে (জাহান্নামে) নিক্ষিপ্ত হবে”।[5]

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ সম্পন্ন করার পর আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ٱلۡيَوۡمَ أَكۡمَلۡتُ لَكُمۡ دِينَكُمۡ وَأَتۡمَمۡتُ عَلَيۡكُمۡ نِعۡمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ ٱلۡإِسۡلَٰمَ دِينٗاۚ﴾ [المائ‍دة: ٣]
‘‘আজ আমি তোমাদের দ্বীনকে তোমাদের জন্য পূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের ওপর আমার নি‘আমতও পূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের জন্য দীন হিসেবে ইসলামকেই মনোনিত করলাম”। [সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৩]

ইসলামের যেকোনো ইবাদতের নির্দেশিকা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। কারো এর কম বা বেশি করার কোনো অধিকার বা ক্ষমতা নেই। আমাদের শুধু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করা দরকার।

এ বইয়ে হজের বিভিন্ন বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট বিবিধ ভুলত্রুটি ও বিদ‘আত বিষয়গুলো সংযোজন করেছি; কারণ এগুলো আলাদাভাবে উল্লেখ না করলে হজযাত্রীরা এগুলোকে সাধারণ রীতি-নীতি হিসেবে ধরে নিতে পারেন। এ ভুলত্রুটি ও বিদ‘আত বিষয়গুলো বিগত শতাব্দীর প্রথিতযশা হাদীস বিশারদ, আরব বিশ্বে অত্যন্ত সুপরিচিত নাম শাইখ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আলবানীর ‘আহায্যুকা সাহীহুন’ (আপনার হজ শুদ্ধ হচ্ছে কি?) ও Innovations of Hajj, Umrah & Visiting Madinah. বই থেকে সংগ্রহ করেছি।

[1] আস-সুনানুল কাবরা লিল-বায়হাকী, হাদীস নং ৯৩০৯

[2] মুসনাদে আস শাফে‘ঈ

[3] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৫৮৯; সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৬৯৭

[4] সহীহ বুখারী

[5] তিরমিযী, হাদীস নং ২৬৭৬

 ❌❌হজ যাত্রার পূর্বে প্রচলিত ভুলত্রুটি ও বিদ‘আত
=======================

হজ যাত্রাকে উপলক্ষ্য করে যাত্রা শুরুর পূর্ব মুহূর্তে দুই রাকাত নফল সালাত পড়া এবং ১ম ও ২য় রাকাতে সূরা আল-কাফিরূন ও সূরা আল-ইখলাস নির্ধারিতভাবে তিলাওয়াত করাকে হজের নিয়ম মনে করা। তবে যে কোনো সফরে বের হওয়ার পূর্বে নফল সালাত পড়ে বের হওয়া সুন্নাত।

হজযাত্রার আগে মিলাদ দেওয়া, মিষ্টি বিতরণ করা এবং আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে কান্নাকাটি করা।

হজে যাওয়ার সময় আযান দেওয়া অথবা এ উপলক্ষে ইসলামী সঙ্গীত বাজানো।

কিছু সুফীদের মতো করে ‘একমাত্র আল্লাহকে সঙ্গী করে’ একাই হজযাত্রায় রওয়ানা হওয়া।

একজন পুরুষের কোনো মহিলা হজযাত্রীর সঙ্গে তার মাহরাম হওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হওয়া।

একজন মহিলা হজযাত্রী কোনো অনাত্মীয়কে ভাই হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাকে মাহরাম করা।

নারীর ক্ষেত্রে কোনো একটি আস্থাভাজন মহিলা দলের সঙ্গে মাহরাম ছাড়াই হজে যাওয়া এবং একইভাবে এমন কোনো পুরুষের সঙ্গে গমন করা যিনি পুরো মহিলা দলের মাহরাম হিসেবে নিজেকে দাবি করেন।

এ কথা মানা যে, হজের পরিপূর্ণতা হচ্ছে নিজ এলাকার ভিতরেই ইহরাম বাঁধা।

হজ যাত্রার পূর্ব মুহূর্তে অথবা বিভিন্ন স্থানে পৌছানোর পর উচ্চস্বরে যিকির করা এবং উচ্চস্বরে আল্লাহু আকবার ধ্বনি তোলা।

এ কথা বিশ্বাস করা যে, পায়ে হেঁটে হজ করার সাওয়াব ৭০ হজ আর আরোহনে হজ করলে ৩০ হজের সাওয়াব।

কোথায় যাচ্ছেন? আরো নতুন কিছু জানার জন্য এই লেখাটি পড়ুনঃ   জেনে নিই হজ্জ ও উমরা এর বিস্তারিত(পর্ব 3)।

প্রতি যাত্রা বিরতিতে দুই রাকাত সালাত আদায় করা এবং এ কথা বলা, (হে আল্লাহ তুমি আমার জন্য এ যাত্রা বিরতির স্থানকে তোমার আশির্বাদপুষ্ট কর এবং তুমিই উত্তম আশ্রয়দাতা।)

✅ হজের উদ্দ্যেশে ঘর থেকে বের হওয়া
=========================

হজ ফ্লাইটের শিডিউল ও বিমানবন্দর থেকে দুরত্বের ওপর ভিত্তি করে আপনার হজ এজেন্সি আপনাকে ফ্লাইটের দিনই বিমানবন্দরে অথবা এর দুই/একদিন আগে ঢাকা হজ ক্যাম্পে নিয়ে যাবেন।

যেহেতু অধিকাংশ হজযাত্রী বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসেন, তাই তাদেরকে কেন্দ্র করে এখানে একটি দৃশ্যপট চিন্তা করি; ধরুন প্রথমে আপনি ঢাকা হজ ক্যাম্পে যাবেন।

চেক লিস্ট অনুযায়ী ব্যাগ গোছান; বড় আকারের একটি মেইন ব্যাগ করবেন (ওজন ৮-১০ কেজি) এবং ছোট আকারের একটি হাত ব্যাগ করবেন (ওজন ৫-৭ কেজি) এবং ছোট ব্যাগটিতে দরকারী কাগজপত্র (পাসপোর্ট, টিকেট, অনাপত্তিপত্র, ওষুধপত্র ইত্যাদি) নিবেন। আপনার ব্যাগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আরও ৩টি জিনিস নিতে ভুলবেন না তা হল; ধৈর্য, ত্যাগ ও ক্ষমা!

বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় শান্ত ও খুশি মনে আপনার পরিবারের কাছ থেকে বিদায় নিন। ভালো হয় যদি আপনার পরিবারের দুই একজন সদস্য আপনাকে বিদায় জানানোর জন্য কিছু পথ এগিয়ে দিতে আসেন।

যাদের ছেড়ে হজের সফরে বের হচ্ছেন তাদেরকে উদ্দেশ্য বলতে পারেন:

أَسْتَوْدِعُكمُ اللهُ الَّذِيْ لَا تضِيْعُ وَدَائِعُهُ
“আসতাওদি‘উ কুমুল্লাহুল্লাযী লা তাদী‘উ ওয়াদা-য়ী‘উহু”।
অর্থাৎ “আমি তোমাদেরকে আল্লাহর হিফাযতে রেখে যাচ্ছি যার হিফাযতে থাকা কেউই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না”।[1]

ঘর থেকে বের হওয়ার সময় আপনি নিম্নোক্ত দো‘আটি পাঠ করতে পারেন:

بسم الله توكلت على الله ولا حول ولا قوة إلا بالله
‘‘বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহি ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ”।
অর্থ “আল্লাহর নামে, সকল ভরসা তারই ওপর এবং আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত ভালো করার বা মন্দকে প্রতিহত করার ক্ষমতা নেই”।[2]

সিঁড়ি অথবা লিফটে করে উপরে ওঠার সময় বলুন ‘আল্লাহু আকবার’। নামার সময় বলুন ‘সুবহানাল্লাহ’। পরিবহনে ওঠার সময় বলুন ‘বিসমিল্লাহ’। আসনে বসার সময় বলুন ‘আলহামদুলিল্লাহ’।[3]

রিক্সা, ট্যাক্সি, কার, বাস, ট্রেন ও বিমানে আরোহন করে আপনি নিম্মোক্ত যাত্রা পথের দো‘আটি পড়তে পারেন:

اَللهُ أَكْبر، اَللهُ أَكْبَر، أَللهُ أَكْبَر سُبۡحَٰنَ ٱلَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَٰذَا وَمَا كُنَّا لَهُۥ مُقۡرِنِينَ وإنا إلى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُوْنَ
“আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর, সুবহানাল্লাযি সাখ্খারালানা হাযা ওয়ামা কুন্না লাহু মুক্বরিনীন ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুনক্বালিবূন”।
অর্থ: “আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান। পবিত্র সত্তা তিনি, যিনি এ বাহনকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন। একে বশীভূত করতে আমরা সক্ষম ছিলাম না। আমরা অবশ্যই আমাদের পালনকর্তার দিকে ফিরে যাবো”।[4]

কোথায় যাচ্ছেন? আরো নতুন কিছু জানার জন্য এই লেখাটি পড়ুনঃ   বিকাশ(bKash) থেকে সুদ বা ইন্টারেস্ট নেওয়া বন্ধ করবেন যেভাবে ।

নৌকা, লঞ্চ ও জাহাজে উঠে আপনি নিম্নোক্ত দো‘আ পাঠ করতে পারেন:

﴿بِسۡمِ ٱللَّهِ مَجۡرٜىٰهَا وَمُرۡسَىٰهَآۚ إِنَّ رَبِّي لَغَفُورٞ رَّحِيمٞ﴾ [هود: ٤١]
উচ্ছারণ: বিসমিল্লাহি মাজরিহা ওয়া মুরছাহা ইন্না রাব্বিবলা গাফুরুর রাহীম।
অর্থ: আল্লাহর নামেই এ বাহন চলাচল করে এবং থামে। নিশ্চয় আমার প্রভু ক্ষমাশীল ও দয়ালু”। [সূরা হুদ, আয়াত: ৪১]

যারা দূর থেকে আসবেন তারা বাস অথবা ট্রেন স্টেশনে এসে আপনার হজ সঙ্গীদের সঙ্গে মিলিত হবেন। তাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। আপনার দলনেতা অথবা আমীরের নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। অতঃপর আপনার ব্যাগপত্র নিয়ে পরিবহনে উঠুন এবং চূড়ান্তভাবে আপনার পরিচিতজনদের কাছ থেকে বিদায় নিন।

যখন তিনজন বা এর অধিক লোক কোনো দূরবর্তী স্থানে সফরের উদ্দেশ্যে বের হবে তখন তাদের মধ্য থেকে একজনকে আমীর নির্বাচন করে নেওয়া উত্তম। তাই আমীরের নির্দেশনা শুনুন ও দলের শৃংখলা বজায় রাখুন।[5]

ভ্রমণ অবস্থায় আপনি রিলাক্স হয়ে বসুন। সম্ভব হলে হজ বিষয়ে বই পড়ুন বা মনে মনে দো‘আ ও যিকির করুন। মুসাফিরের দো‘আ আল্লাহ কবুল করেন।

সফরে আপনি ঘুমাতে অভ্যস্থ হলে আপনি ঘুমিয়ে যেতে পারেন। অথবা আপনি আপনার অন্য সঙ্গীদের সঙ্গে হজ সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনা করতে পারেন। তবে সময় কাটানোর জন্য অযথা গল্পে লিপ্ত না হওয়াই ভালো।

মুসাফির অবস্থায় ভ্রমণে সালাত কসর করে আদায় করতে পারেন। কসর সালাত আদায় এর নিয়ম-কানুন ভালোভাবে জেনে নিন। যোহর ও আসরকে একত্রে কসর করে যোহর বা আসরের সময় এবং মাগরিব ও এশাকে একত্রে কসর করে মাগরিব বা এশার সময় জমা করেও আদায় করতে পারেন।[6]

সফররত অবস্থায় জুমু‘আর সালাত-এর পরিবর্তে যোহর সালাত আদায় করতে পারেন। কিবলা কোন দিকে তা একটু চিন্তা-ভাবনা বা জিজ্ঞাসা করে নির্ণয় করে নিবেন, তবে নির্ণয় করা সম্ভব না হলে বা জটিলতার কারণে কোনো এক দিককে কিবলা নির্ধারণ করবেন।[7]

যাত্রা পথে কোথাও অবতরণ করে এ দো‘আ পাঠ করা:

أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
উচ্ছারণ: আউযু বিকালিমাতিল্লা-হিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খলাক্ব।
অর্থ: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাক্য দ্বারা তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় কামনা করছি।[8]

[1] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১০৯৬; ইবন মাজাহ

[2] আবু দাউদ, হাদীস নং ৫০৯৬; তিরমিযী, হাদীস নং ৩৪২৬

[3] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৯৯৩

[4] সূরা-আল যুখরূফ ৪৩:১৩-১৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৩৪২

[5] আবু দাউদ, হাদীস নং ২২৪১

[6] সহীহ মুসলিম

[7] সূরা-বাকারা ২:২৩৯, আবু দাউদ, হাদীস নং ১২২৪-২৮

[8] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭০৮

 

MuslimPoint Organization

About MuslimPoint Organization

MuslimPoint একটি অনলাইন ভিত্তিক ইসলামী প্রশ্নোত্তর, গ্রন্থাগার, ব্লগিং, কুরআন, হাদিস, কুইজ এবং বিষয় ভিত্তিক রেফারেন্স প্ল্যাটফর্ম।

View all posts by MuslimPoint Organization →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *