দুখান বা ধোঁয়া কেয়ামতের বড় আলামত সম্পর্কে ব্যাখ্যা ও উদাহরণসহ কেয়ামতের আলামত ও ভবিষ্যতবাণী

কেয়ামতের আলামত ও ভবিষ্যতবাণী মোহাম্মাদ (স) future আখেরী বা শেষ জামানার ফিতনা ফ্যাসাদ (الروم) রোম সম্রাজ্য ও মুসলীম উম্মাহ গাজওয়াতুল হিন্দ বা ভারতের যুদ্ধ ও ইমাম মাহদীর নেতৃত্ব দাজ্জালের আগমন ও ফিতনা দাজ্জাল মাসীহুদ-দাজ্জাল মাসীহ দুখান বা ধোঁয়া
দুখান বা ধোঁয়া কেয়ামতের বড় আলামত সম্পর্কে ব্যাখ্যা ও উদাহরণসহ কেয়ামতের আলামত ও ভবিষ্যতবাণী

[আমরা ইতিপূর্বে কেয়ামতের আলামত ও ভবিষ্যতবাণী সম্পর্কে পর্ব ভিত্তিক অনেকগুলো হাদিস ও আছার পেশ করেছি। সেগুলো দেখতে এখানে ক্লিক করুন ।]
[প্রথমেই বলে রাখি কিয়ামতের জ্ঞান শুধুমাত্র আল্লাহ’র কাছে আছে ।
‘(হে নবী মুহাম্মাদ!) মানুষ তোমাকে কিয়ামত (কবে হবে, সে) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। তুমি বলো, এর (একেবারে সঠিক) জ্ঞান শুধুমাত্র আল্লাহ’র কাছে আছে। আর (হে নবী !) তুমি কি জানো, কিয়ামত (ঘটার) সম্ভাবনা নিকটে চলে এসেছে !’ [সূরা আহযাব ৬৩]
এখানে শুধুমাত্র হাদিস ও কিছু অনুমানের ভিত্তিতে আমরা কিয়ামতের আলামতগুলো ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছি । সুতরাং এখানের সকল বক্তব্য কে আমরা কখনো চূড়ান্ত বলে মনে করি না । এগুলো শুধু উল্লেখ করছি, যাতে এই রেওয়ায়েতসমূহে বর্ণিত কোনো ঘটনা ঘটতে দেখলে তা চিনে নিতে পারেন এবং রেওয়াতের হক্ব আদায় করতে পারেন।
উল্লেখ্য, যেহুতু হয়তো এখানে বর্ণিত অল্প কিছু হাদিসের সনদগত ও অন্যান্য দূর্বলতা থাকতে পারে তাই এখানে উল্লেখিত হাদিসসমূহ কোনো বিজ্ঞ মুহাদ্দেস আলেমের পরামর্শ ব্যাতীত কারো কাছে বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছি।]

আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন-

فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُّبِينٍ – يَغْشَى النَّاسَ ۖ هَٰذَا عَذَابٌ أَلِيمٌ – رَّبَّنَا اكْشِفْ عَنَّا الْعَذَابَ إِنَّا مُؤْمِنُونَ

‘অতএব তুমি সেই দিনের অপেক্ষায় থাকো, যে দিন স্পষ্ট ধোঁয়া দিয়ে (তোমাদের নিকটবর্তী) আকাশ ছেঁয়ে যাবে, (যা পৃথিবীর) মানুষকে ঢেকে নিবে। এটা (পৃথিবীর মানুষের উপরে আল্লাহ’র একটি) কঠিন আযাব (স্বরূপ হবে)। (তারা নিরুপায় হয়ে বলবে:) হে আমাদের রব! আমাদের থেকে এই আযাবকে হটিয়ে দাও, নিশ্চই আমরা (কুফর ও মুনাফেকী ত্যাগ করে আজ) মুমিন (হয়ে গেলাম)’। [সুরা দুখান ১০-১২]

হুযাইফা ইবনে আসিদ আল-গিফারী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: اطلع النبي صلى الله عليه وسلم علينا ونحن نتذاكر فقال ما تذاكرون قالوا نذكر الساعة قال إِنَّهَا لَنْ تَقُومَ حَتَّى تَرَوْنَ قَبْلَهَا عَشْرَ آيَاتٍ. فذكر -الدُّخَانَ، وَالدَّجَّالَ، وَالدَّابَّةَ، وَطُلُوعَ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا، وَنُزُولَ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَيَأَجُوجَ وَمَأْجُوجَ، وَثَلَاثَةَ خُسُوفٍ: خَسْفٌ بِالْمَشْرِقِ، وَخَسْفٌ بِالْمَغْرِبِ، وَخَسْفٌ بِجَزِيرَةِ الْعَرَبِ، وَآخِرُ ذَلِكَ نَارٌ تَخْرُجُ مِنَ الْيَمَنِ، تَطْرُدُ النَّاسَ إِلَى مَحْشَرِهِمْ . رواه مسلم , كتاب الفتن وأشراط الساعة , باب في الآيات التي تكون قبل الساعة : ٤/٢٢٢٥ رقم ٢٩٠١ ; وأبو داود : ٤٣١١ ، والترمذي : ٢١٨٣ – ‘আমরা আলোচনা করছিলাম এমন সময় রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাদের কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন- তোমরা কি অলোচনা করছো? তারা বললেন: আমরা কিয়ামতের আলোচনা করছি। রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ কবলেন- إنها لن تقوم حتى تروا قبلها عشر آيات – ওটা ততক্ষন পর্যন্ত সংঘটিত হবে না, যাবৎ না তোমরা (মুসলমানরা) ১০ টি আলামত দেখে নাও। তারপর উল্লেখ করলেন- (১) الدخان (দুখান/ধুয়া), (২) الدجال (দাজ্জাল), (৩) الدابة (দাব্বাহ/জন্তু), (৪) طلوع الشمس من مغربها (পশ্চিম দিক থেকে সূর্যদয়), (৫) نزول عيسى ابن مريم (ঈসা ইবনে মারইয়ামের অবতরণ), (৬) يأجوج ومأجوج (ইয়াজুজ মাজুজ), এবং তিনটি ভূমিধ্বস (৭) خسف بالمشرق (পশ্চিমাঞ্চলের ভূমিধ্বস), (৮) خسف بالمغرب (পূর্বাঞ্চলের ভূমিধ্বস) ও (৯) خسف بجزيرة العرب (জাজিরাতুল আরবের ভূমিধ্বস), এবং সর্বশেষে (১০) نار تخرج من اليمن تطرد الناس إلى محشرهم (আগুন যা ইয়ামেন থেকে বের হয়ে মানুষকে ধেয়ে নিয়ে যাবে তাদের একত্র হওয়ার স্থানে)। [সহিহ মুসলীম– ৪/২২২৫ হাদিস ২৯০১; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪৩১১; সুনানে তিরমিযী, হাদিস ২১৮৩; মুসনাদে আহমাদ-৪/৬]

কোথায় যাচ্ছেন? আরো নতুন কিছু জানার জন্য এই লেখাটি পড়ুনঃ   দাজ্জালের আগমন ও ফিতনা সম্পর্কে ব্যাখ্যা ও উদাহরণসহ কেয়ামতের আলামত ও ভবিষ্যতবাণী পর্ব-৩

আবু মালেক আশআরী রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন: إِنَّ رَبَّكُمْ أَنْذَرَكُمْ ثَلَاثًا الدُّخَانُ يَأْخُذُ الْمُؤْمِنَ كَالزُّكْمَةِ ، وَيَأْخُذُ الْكَافِرَ فَيَنْتَفِخُ حَتَّى يَخْرُجَ مِنْ كُلِّ مَسْمَعٍ مِنْهُ ، وَالثَّانِيَةُ الدَّابَّةُ ، وَالثَّالِثَةُ الدَّجَّالُ . رواه الطبري في جامع البيان في تأويل القرآن : ٦٨/٢٥ ، ورواه الطبراني في الكبير: ٣/٢٩٢ ، قال ابن كثير في تفسير القران العظيم : و هذا إسناد جيد – ‘তোমাদের রব (আল্লাহ তাআলা) তিনটি বিষয়ে (বিশেষ ভাবে) সতর্ক করেছেন: (১) আদ-দুখান (ধোঁয়া), যা মুমিনদেরকে সর্দির মতো ধরবে, আর কাফেরকে ধরে ফুলিয়ে তুলবে, এমনকি তার প্রত্যেক কান থেকে তা বেড় হবে। (২) আদ-দাব্বাহ (জন্তু), (৩) দাজ্জাল’। [আল-মু’জামুল কাবির, ত্বাবরাণী- ৩/২৯২ হাদিস ৩৪৪০; জামেউল বয়ান, ইমাম তাবারী- ২৫/৬৮]

About MuslimPoint Organization

MuslimPoint একটি অনলাইন ভিত্তিক ইসলামী প্রশ্নোত্তর, গ্রন্থাগার, ব্লগিং, কুরআন, হাদিস, কুইজ এবং বিষয় ভিত্তিক রেফারেন্স প্ল্যাটফর্ম।

View all posts by MuslimPoint Organization →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *