হিন্দু ধর্মেই গরুর মাংস খেতে বলা হয়েছে বা বৈধ। গবেষণাধর্মী লেখা ।

গরু-muslimpoint
হিন্দু ধর্মেই গরুর মাংস খেতে বলা হয়েছে বা বৈধ। গবেষণাধর্মী লেখা ।

সনাতন শাস্র সামবেদের একটি উদৃতি :
সামবেদে বলা হয়েছে – যার নামের প্রথম অক্ষর ‘ম’ এবং শেষ অক্ষর ‘দ’ হবে এবং গো মাংস খাওয়ার আদেশ দিবেন, সেই দেবতাই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় দেবতা ।
“মদৌ বর্তিতা দেবা দকারান্তেপ্রকৃত্তিতা।
বৃষানাং বক্ষয়েত্‍ সদা মেদাশাস্ত্রেচস্মৃতা \\”
অর্থঃ “যে দেবের নামের প্রথম অক্ষর”ম” ও শেষ অক্ষর “দ” এবং
যিনি বৃষমাংস (গরুর মাংস) ভক্ষণ সর্বকালের জন্য পুনঃ বৈধ করিবেন,
তিনিই হইবেন বেদানুযায়ী ঋষি।”

গরু নিয়ে কি না হচ্ছে ভারতে। ভারতের হিন্দু জনসমষ্টি গো মাংস খায় না। গো হত্যা ও গো মাংস খাওয়াকে তারা পাপ হিসেবে গণ্য করে। এ প্রসঙ্গে আমরা হিন্দু ধর্মীয় অনুশাসনে গরুর অবস্থান সম্পর্কে আলোকপাত করতে পারি। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসতে পারে আসলেই কি গরু খাওয়া হিন্দু ধর্মে নিষিদ্ধ ?

স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন,
“এই ভারতবর্ষেই এমন এক দিন ছিল যখন কোন ব্রাহ্মণ গরুর মাংস না খেলে ব্রাহ্মণই থাকতে পারতেন না। যখন কোন সন্ন্যাসী, রাজা, কিংবা বড় মানুষ বাড়ীতে আসতেন, তখন সবচেয়ে ভালো ষাঁড়টিকে কাটা হতো। (Collected works of Swami Vivekananda, Advaita Asharama,1963, Vol III, page 172)।
ঋগ্বেদের প্রাচীন ভাষ্যকার হিসেবে সায়না চার্যের নাম বিখ্যাত। তাঁর আগেও বিভিন্ন ভাষ্যকার, যেমন স্কন্দস্বামী, নারায়ণ, প্রমুখ ঋগ্বেদের ভাষ্য করেছেন।
ভাষ্যকর আচার্য সায়ন লিখেছেন তার অনুবাদে, “You (O Indra), eat the cattle offered as oblations belonging to the worshippers who cook them for you. (Atharvaveda 9/4/1)”

“হে ইন্দ্র গ্রহন কর সেসব গরুর মাংস যা তোমাকে তোমার ভক্তরা রন্ধন করে উৎসর্গ করেছে।”
ঋগ্বেদ ১০/৮৬/১৩ তে গরু রান্না করার কথা পাওয়া যায়।
ঋগ্বেদ ১০/৮৬/১৪ তে ইন্দ্রের জন্য গোবৎস উৎসর্গ করা হয়েছে।
Rig Veda 10.86.১৪ [Indra speaks 🙂 The worshippers dress for me fifteen (and) twenty bulls : I eat them and (become) fat, they fill both sides of my belly ;Indra is above all (the world).

উপনিসদে ও গরু খাওয়ার কথা বলা হয়েছে। ভালো সন্তান পাবার জন্য ষাঁড়ের মাংস খাওয়া উচিত।
Brihadaranyak Upanishad 6/4/18 suggests a ‘super-scientific’ way of giving birth to a super intelligent child.
এ ব্যাপারে আরো স্পষ্ট বিধান দিয়েছে মনুসংহিতা। মনুসংহিতা ৫/৪৪ বলা হয়েছে, “শ্রুতিবিহিত যে পশুহত্যা, তাহাকে অহিংসাই বলিতে হইবে, যেহেতু বেদ ইহা বলিতেছে।”
অগ্নির কাছে নিবেদনে বলদ, ষাঁড় এবং দুগ্ধহীনা গাভী বলিদানের উল্লেখ আছে। (ঋগবেদ সংহিতা, ১/১৬২/১১-১৩, ৬/১৭/১১,১০/৯১/১৪)।
মহাভারতেও গরু খাওয়ার কথা আছে, মহাভারত বন পর্ব, খন্ড ২০৭, অনুবাদে কিশোরী মোহন গাংগুলি।
বিষ্ণুপুরাণ বলছে,ব্রাহ্মণদের গো-মাংস খাইয়ে হবিষ্য করালে পিতৃগণ ১১ মাস পর্যন্ত তৃপ্ত থাকেন। আর এ স্থায়িত্ব কালই সবচেয়ে দীর্ঘ (বিষ্ণুপুরাণ ৩/১৬)। বৃষের মাংস [বেদ:১/১৬৪/৪৩],মহিষের মাংস [বেদ: ৫/২৯/৮],অজের মাংস [বেদ:১/১৬২/৩] খাওয়া হত। আরও বলা হয়েছে পরস্বিনী গাভী মানুষের ভজনীয় [বেদ:৪/১/৬]।

আর এজন্যই হয়তোবা স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন,
“You will be astonished ifI tell you that, according to the old ceremonials, he is not a good Hindu who does not eat beef. On certain occasions he must sacrifice a bull and eat it. [The complete works of Swami Vivekananda, Volume 3, Pg 536]”
জগত গুরু আদি শংকরাচার্য,যিনি ৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহন করেন। তিনি অদ্বৈত বেদান্ত শাখার প্রতিষ্ঠাতা। শংকরাচার্যের গীতাভাষ্য হিন্দু ধর্মীয় পন্ডিত মহলে অত্যন্ত বিখ্যাত। তিনি ব্রাক্ষসুত্র অধ্যায় ৩, পাদ্য ১, সূত্র ২৫ এ লিখেছেন, “যজ্ঞে পশু হত্যা পাপ হিসেবে বিবেচিত হবে না, কারন শাস্ত্রই ইহার অনুমোদন দিয়েছে।”

বেদে স্পষ্ট ভাবে গরু খাওয়ার কথা থাকলেও হিন্দুরা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।
হিন্দুরা হাজির করে ঋগ্বেদ (৭/৫৬/১৭) এই শ্লোক। ঋগবেদের ঐ শ্লোকে নাকি গোহত্যা কে মানুষ হত্যার সমকক্ষ বলা হয়েছে। নীচে তুলসীরামের উক্ত শ্লোকের অনুবাদ দিলাম দেখুন তো এরকম কিছু আছে কিনা।
এরপর আবার হিন্দুরা ,অথর্ব বেদের (৮/৩/১৫) এই শ্লোক দেখায় যেখানে বলা হয়েছে গো হত্যা ও ঘোড়া হত্যা উভয়ই নিষিদ্ধ। এখানে হিন্দুরা সত্য লুকিয়ে লেখে ঘোড়ার মাংস ও যেকোন প্রানীর মাংস খেতে নিষেধ করেছে। কিন্তু সত্য হলো ঐ শ্লোকে বলা হয়েছে,
– যারা বহিঃশত্রু দেশকে আক্রমণ করবে এবং প্রানীর মাংস, ঘোড়ার মাংস ও মানুষের মাংস খায় তাদেরকে হত্যা কর। ধারাবাহিক ভাবে এই মন্ত্রগুলো যেমন ৭,৮,৯ পড়লেই পরিষ্কার বোঝা যাবে।
অথর্ব বেদের (৮/৩/১৫) এই শ্লোকে স্পষ্টভাবে গরুর দুধ গ্রহনকারীরও একি শাস্তি দেয়ার কথা আছে। তার মানে কি গরুর দুধ খাওয়াও বেদের নিষেধ ? এটি আরো স্পষ্ট আছে ১৭ নাম্বার মন্ত্রে, এখানে বলা গরুর দুধ যে খায় তার বুকে বর্শা মারার কথা।
এখন এই মন্ত্রগুলোর অর্থ সার্বজনীন ভাবে নিলে হিন্দুরা কি বলবে যে বেদ অনুসারে দুধ খাওয়াও মানা ? এরপর হিন্দুরা ঋগ্বেদের ১/১৬৪/৮০ এবং অথর্ব বেদের ৯/১০/২০ ও ৭/৭৩/১১ এইসব শ্লোক দেখিয়ে বলে এইসব শ্লোকে গরুকে (আঘ্ন্যা) বলা হয়েছে। আঘ্ন্যা মানে যাকে হত্যা করা উচিত নয় । অথচ এইসব শ্লোকে শুধুমাত্র মা গরুকে অর্থাৎ যে গরু থেকে দুধ পাওয়া যায় সেই গরুর প্রসংগে (আঘ্ন্যা) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে অর্থাৎ যে গরু দুধ দেয় সেই গরু হত্যা করতে নিষেধ করা হয়েছে। নীচের স্ক্রীনশটে দেখুন (ঋগ্বেদ ১/১৬৪/৮০) শ্লোকের তুলসীরামের অনুবাদ। তুলসীরাম লিখেছেন,Invioable ( (আঘ্ন্যা) as Mother Cow.
তুলসীরাম অথর্ব বেদ ৯/১০/২০ শ্লোকেও একই কথা লিখেছেন, Invioable (আঘ্ন্যা) as Mother Cow. হিন্দুরা আবার হাজির করে ঋগ্বেদের ৮/১০১/১৫ এই শ্লোক…. (Do not kill the cow. Cow is innocent and aditi – that ought not to be cut into pieces)

কোথায় যাচ্ছেন? আরো নতুন কিছু জানার জন্য এই লেখাটি পড়ুনঃ   সমাজে প্রচলিত কিছু শিরক এর তালিকা জেনে নিই (পর্ব ৩)।

মহাত্মা গান্ধী বলেছেন,
“I know there are scholars who tell us that cow-sacrifice is mentioned in the Vedas. I… read a sentence in our Sanskrit text-book to the effect that Brahmins of old (period) used to eat beef. ( M.K.Gandhi, Hindu Dharma, New Delhi, 1991, p. 120).
অর্থাৎ, “আমি জানি (কিছু সংখ্যক পণ্ডিত আমাদের বলেছেন) বেদে গো-উৎসর্গ করার কথা উল্লেখ আছে। আমি আমাদের সংস্কৃত বইয়ে এরূপ বাক্য পড়েছি যে,পূর্বে ব্রাহ্মণরা গো-মাংস ভক্ষণ করতেন।” (হিন্দুধর্ম,এম.কে. গান্ধী,নিউ দিল্লি,১৯৯১,পৃ. ১২০)

চলুন আরো কিছু বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাকঃ 

হিন্দু ধর্মে গরুকে ‘পবিত্র মাতা’ বলা হয়ে থাকে। গরু নানাভাবে মানুষের উপকার করে বলে হিন্দু ধর্মে গো-হত্যা নিষিদ্ধ। তবে গরুর চামড়া দিয়ে জুতো তৈরী করে তা ব্যবহার করা কিন্তুহিন্দু ধর্মে নিষিদ্ধ নয়।
অবশ্য বৌদ্ধ যুগের আগ পর্যন্ত হিন্দুরা প্রচুর গোমাংস ভক্ষণ করতেন এ তথ্যও অনেকেই জানেন। ব্যাসঋষী স্বয়ং বলেছেন, ‘রন্তিদেবীর যজ্ঞে একদিন পাচক ব্রাক্ষ্মণগণ চিৎকার করে ভোজনকারীদেরকে সতর্ক করে দিয়ে বললেন,মহাশয়গণ! অদ্য অধিক মাংস ভক্ষণ করবেন না, কারণ অদ্য অতি অল্পই গো-হত্যা করা হয়েছে; কেবলমাত্র একুশ হাজার গোহত্যা করা হয়েছে। (সাহিত্য সংহিতা-3য় খন্ড, পৃষ্ঠা-476)
বৌদ্ধযুগের পূর্ব পর্যন্ত হিন্দুরা যে প্রচুর গরু গোশত খেতেন ডাঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ প্রণীত Beef in Ancient India গ্রন্থে, স্বামী ভুমানন্দ প্রণীত ‘সোহংগীত’, ‘সোহং সংহিতা, ‘সোহং স্বামী’ গ্রন্থগুলোতে, আচার্য্য প্রফুলস্ন চন্দ্র রায়ের ‘জাতি গঠনে বাধা’ গ্রন্থে উলেস্নখ আছে। এসব গ্রন্থ থেকে জানা যায়, বৌদ্ধযুগের আগে পর্যন্ত গো-হত্যা, গো-ভক্ষণ মোটেই নিষিদ্ধ ছিল না। মধু ও গো-মাংস না খাওয়ালে তখন অতিথি আপ্যায়নই অপূর্ন থেকে যেতো। এখন প্রশ্ন হলো-ধর্মীয় গ্রন্থে গো-মাংস ভক্ষণের প্রমাণাদি থাকার পরও হিন্দুরা গো-মাংস ভক্ষণ করে না কেন?

নিচে দেখুন এক হিন্দু – ব্রাহ্মণ কি বলছে
গোমাংস খাওয়া নিয়ে প্রচুর তর্ক বিতর্ক হয়েছে । তাই কয়েকটা কথা বলি । অনেকেরই ধারণা হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা গোমাংস খায় না বা খেত না । এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। প্রথমেই বলি, সংস্কৃতে একটা প্রাচীন শব্দ আছে । “ গো-সঙ্খ্য” । এই শব্দটার অর্থ হলো- গো পরীক্ষক । পরে অর্থ সঙ্কুচিত হয়ে “গোপ” হয়েছে। এই পরীক্ষা কেন হতো ? কারণ, আর কিছুই না , যে বলদ বা ষাঁড়কে কাটা হবে, তার স্বাস্থ্য কেমন আছে সেটা দেখার জন্য । না পরীক্ষা হলে, সেই মাংস মানুষের জন্য খারাপ হতে পারে ।
মাংস তিন প্রকার :-
ভূচর ( যারা ভূমিতে চরে ) , খেচর ( যারা আকাশে ওড়ে ) এবং জলচর ( যারা জলে বিচরণ করে )। 
এক জলচর বাদে, স্ত্রী- পশু বধ নিষিদ্ধ ছিল, কারণ তাতে প্রজনন কমে যাবে । মাছেদের লিঙ্গ নির্ধারণ করা শক্ত বলেই হয়তো, এই ব্যাপারটা হয়েছিল । বৌদ্ধ যুগের আগে , হিন্দুরা প্রচুর গোমাংস ভক্ষণ করতো এ তথ্যও অনেকেই জানেন। ডাঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ প্রণীত Beef in Ancient India গ্রন্থে, স্বামী ভুমানন্দ প্রণীত অনেক গ্রন্থে, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের ‘জাতি গঠনে বাধা’ গ্রন্থে উল্লেখ আছে।
এসব গ্রন্থ থেকে জানা যায়, বৌদ্ধযুগের আগে গো-হত্যা, গো-ভক্ষণ মোটেই নিষিদ্ধ ছিল না। মধু ও গো-মাংস না খাওয়ালে তখন অতিথি আপ্যায়নই অপূর্ণ থেকে যেতো । তাই অতিথির আর এক নাম – গোঘ্ন ।
বৌদ্ধ সম্রাট অশোকের সময় থেকে গো-হত্যা নিষিদ্ধ করা হয়। সুতরাং বৌদ্ধ ধর্মের আবির্ভাব ২০০০ বছর আগে হলেও গো-হত্যা আরও অনেক পরে নিষিদ্ধ হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, সম্রাট অশোকের নিষেধাজ্ঞা হিন্দুরা মানছে কেন? এটাও ধর্মীয় সংঘাতের ফল । বৌদ্ধ ধর্ম এতই জনপ্রিয় হয়েছিল যে, প্রচুর লোক, বিশেষ করে তথাকথিত “ নীচ জাতি” আকৃষ্ট হয়েছিল, এই ধর্মের প্রতি । ব্রাহ্মণ্য বাদী এবং ব্রাহ্মণরা প্রমাদ গুনলো । তারাও পুরোপুরি মাছ- মাংস খাওয়া ছেড়ে দিয়ে ভেক ধারী হয়ে গেল । মূলত, এটা উত্তরভারতেই হয়েছিল। তাই এখনও ওটা “গো- বলয়” । বেশীদিনের কথা নয়, আলিবর্দির সময়ে রামপ্রসাদের গুরু কৃষ্ণা নন্দ আগম বাগীশ একটা বই লেখে। নাম – বৃহৎ তন্ত্রসার । এতেও অষ্টবিধ মহামাংসের মধ্যে গোমাংস প্রথম বলেই বলা হয়েছে । ঋগ্বেদে ফিরে আসি । কি দেখছি ? প্রথম মণ্ডলের ১৬৪ সূক্তের ৪৩ নং শ্লোকে বৃষ মাংসের খাওয়ার কথা আছে । মহিষ মাংসের উল্লেখ আছে পঞ্চম মণ্ডলের ২৯ নং সূক্তের ৮ নং শ্লোকে । মোষ বলি আজও হয় । নেপালে যারা মোষের মাংস খায়, তাদের ছেত্রী বলা হয় ।
এছাড়া, বনবাস কালে রামচন্দ্রের লাঞ্চের মেনু কি ছিল, অনেকেরই জানা নেই ।

কোথায় যাচ্ছেন? আরো নতুন কিছু জানার জন্য এই লেখাটি পড়ুনঃ   সমাজে প্রচলিত কিছু মারাত্মক ভুল জেনে নিই (পর্ব ২) ।

সকলেরই জানা যে মূর্তিবাদ বা পৌত্তলিক জাতি থেকেই মুছলমানদের উৎপত্তি। উল্লিখিত বেদের আলোকে মুছলমানগণ হিন্দু থাকাবস্থায়ই গরু খেত অর্থাৎ পূর্বপুরুষ হিন্দু থেকেই গরুর মাংস খাওয়া শিখেছে। হিন্দুদের গরুর গোস্ত খাওয়া বেদের কোথাও নিষিদ্ধ নেই; বরং খাওয়ার বিধান আছে:
“-বৃষের মাংস [বেদ:১/১৬৪/৪৩], মহিষের মাংস [বেদ: ৫/২৯/৮], অজের মাংস [বেদ:১/১৬২/৩] খাওয়া হত।আরও বলা হয়েছে পরস্বিনী গাভী মানুষের ভজনীয় [বেদ:৪/১/৬]। গো-হত্যা স্থানে গাভীগণ হত্যা হত [বেদ:১০/৮৯/১৪]। ইন্দ্রের জন্য গোবৎস উৎসর্গ করা হয়েছে। [ঋকবেদ: ১০: ৮৬: ১৪]। এমনকি উপনিষদ বলছে:‘বেদজ্ঞান লাভ করতে হলে, স্বাস্থ্যবান সন্তান লাভ করতে হলে ষাঁড়ের মাংস খাওয়া জরুরি।” [সূত্র: বেদ; ২য় প্রকাশ, পৃ: ১৩, ৬৭; হরফ প্রকাশনী, কলিকাতা]

এখন আসুন, হিন্দুদের গরুর মাংস ভক্ষণ সম্বন্ধে ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত কিছু জিনিস দেখে নেওয়া যাকঃ 

Ancient Hindus Ate The Cow, Motiram Ugdev, India: 
It is interesting to note that the cow used to be slaughtered by the ancient Hindus to enjoy its beef, entertain the guests and offer it as sacrifice to their deities.
[Mahatma] Gandhi himself says, “I know there are scholars who tell us that cow-sacrifice is mentioned in the Vedas. I… read a sentence in our Sanskrit text-book to the effect that Brahmins of old [period] used to eat beef” [M.K. Gandhi, Hindu Dharma, New Delhi, 1991, p. 120].
In the Rig Veda (RV: VIII.43.11) Agni is described as “fed on ox and cow” suggesting that cattle were sacrificed and roasted in fire. Another hymn (RV: X.16.7) mentions the ritual enveloping of the corpse with cow flesh before applying the fire on it.

In the Brahmanas at 1.15 in the Aiteriya Brahmana, the kindling of Agni on the arrival of King Some is compared to the slaughter of a bull or a barren cow on the arrival of a human king or other dignitary.
Similarly, at II.1.11.1 in the Taiteriya Brahmana and XXXI.14.5 in the Panchavinsha Brahmana, the rishi Agastya is credited with the slaughter of a hundred bulls.
In verse III.1.2.21 in the Satapatha Brahmana, sage Yajnavalkaya asserts that even though the cow is the supporter of everyone, he would eat beef “if it is luscious.”
At IV.5-2.1 in the same Brahmana, it is said that a barren cow can be slaughtered in the Some sacrifice. Not only for religious purposes, but also for other purposes one could kill a cow and eat beef.
Thus at II.4.2 of the same Brahmana, it is suggested that a fat bull or fat goat should be sacrificed in honour of an important guest.
Similarly, the Brihadaranyaka Upanishada (VI.4.18) advises a couple to take an evening meal of beef or veal pulao, if they desire to beget a son who is learned in the Vedas [Robert Trumbull, As I see India , London, 1957, p.241].

‘I want a learned and famous son, a captivating orator assisting at councils, who will master all the Vedas and live out his full life span’ –– if this is his wish, he should get her to cook that rice with meat and the two of them should eat it mixed with ghee. The couple thus becomes capable of begetting such a son. The meat may be that of a young or a fully grown bull (veal or beef) . “ – Brhadaranyaka Upanisad 6:4:13-21.
(Actually, more than necessary was quoted above to show the Hindu position on beef/meat, but what the hell, it is a hilarious Hindu ritual.)
Anyways, had the meat mentioned above been even chicken, it would have still been extremely awkward for the so-called vegetarian faith, but this is BEEF and its consumption is being promoted for begetting a learned son according to the timeless

কোথায় যাচ্ছেন? আরো নতুন কিছু জানার জন্য এই লেখাটি পড়ুনঃ   সমাজে প্রচলিত কিছু বিদআত এর তালিকা জেনে নিই (পর্ব ১১)।

Vedas.
“Meat is indeed the best kind of food.” – Satapatha Brahmana 11:7:1:3; cf. 12:8: 3:12.
So much for ahimsa (non-violence) & vegetarianism.

Lord Indra; the BEEF-Eater:
“[Sacrificer:] ‘They are pressing out the impetuous, exhilarating Soma juices with the pressing-stone, for you, Indra. Drink them! They are cooking bulls for you; you will eat them, generous Indra, when they summon you with food.’ “ – Rig Veda 10:28:3.
“[Indra:] ‘They have cooked for me fifteen bulls, and twenty, so that I may eat the fat as well. Both sides of my belly are full.’ “ – Rig Veda 10:86:14.
Even Lord Indra don’t spare DOGs!

Lord Indra, although the King of Vedic Hindu Gods, is a totally hopeless character:
“[Indra:] ‘Because I was in desperate straits, I cooked the entrails of a DOG, and I found no one among the gods to help me. I saw my woman dishonored. Then the eagle brought the honey (soma) to me.’ “ – Rig Veda 4: 18:13.
India’s two most mechanized slaughter-houses, including Al-Kabeer are located in Andhra. Al-Kabeer, a big beef exporter, is owned by a Hindu! Some 3.5 million Andhras are dependent on it. 


ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল : গরুর পবিত্রতা ধারণাটি হিন্দু বিশ্বাসে কোত্থেকে এলো?

দ্বিজেন্দ্র নারায়ণ ঝা : ভারতে বৈদিক যুগে (আনুমানিক খিস্ট্রপূর্ব ৮০০-১৫০০ সাল) পবিত্র গরু ধারণাটি ছিল না। বৈদিক আর্যরা গরু বলিদান করত এবং এর মাংস খেত। বৈদিক লেখায় গরুকে সবচেয়ে বেশি উপমা ও রূপক হিসেবে ব্যবহার হয়েছে এবং সময়ের পরিক্রমায় এগুলোকে আক্ষরিক অর্থে ধরে নেওয়া হয়। পরের কয়েক শতকে গরুর পবিত্রতার আংশিকভাবে ধারণা তৈরি হয় এবং প্রাচীন ভারতীয় লেখায় উল্লিখিত বলিদানের উদ্দেশে গরু হত্যা—দুটো বিষয়ই পাশাপাশি চলতে থাকে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল : হিন্দুরা কখন গরু খাওয়া ছেড়ে দিল?
দ্বিজেন্দ্র নারায়ণ ঝা : খ্রিস্ট শতকের শুরুর দিক থেকে, প্রথম সহস্রাব্দের মধ্যভাগে ব্রাহ্মণদের লেখায় গরু খাওয়ায় নিরুৎসাহ এবং গরু জবাই নিষিদ্ধ করা আরম্ভ করে। মৌর্যযুগ-পরবর্তী গ্রামীণ সমাজে, বিশেষ করে প্রথম সহস্রাব্দের মধ্যভাগে অভূতপূর্ব কৃষি সম্প্রসারণ হয়েছিল; আর এই সময়ে রূপান্তর ঘটে—এ থেকে মানুষের আচরণ পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তৈরির বিষয়টি বোঝা যাবে। ভূমির মালিক ব্রাহ্মণদের সামন্তপ্রভু হিসেবে উদ্ভব হয়, তারা আরো বেশি কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে, যা আগের সময়ে ছিল না। ব্রাহ্মণদের হাতে গরু হত্যা নিষিদ্ধ এবং প্রাণীরক্ষার ক্ষেত্রে এই বিষয়টিই কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল : আজকাল গরুর মাংস খাওয়া কি হিন্দুধর্মের সঙ্গে মানানসই নয়?
দ্বিজেন্দ্র নারায়ণ ঝা : প্রাচীন ভারতে বহু শতক ধরে গরুর মাংস খাওয়ার রেওয়াজ চালু ছিল, তার প্রমাণ প্রাচীন ভারতীয় লেখায় বলিষ্ঠ প্রমাণ রয়েছে। ‘গরু-বলয়’ নামে পরিচিতি এসব অঞ্চল থেকে ক্রমেই এ রেওয়াজ উঠে যায়। তবে দেশের অনেক অংশে যেমন কেরালা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে এখনো এই অভ্যাস (গরু খাওয়া) চালু আছে। কেরালায় ৭২টি সম্প্রদায় গরু খায় এবং এদের অনেকেই হিন্দু। সুতরাং আমি বলব না যে গরুর মাংস খাওয়া হিন্দু-আদর্শের সঙ্গে বেমানান। তবে একই সঙ্গে অনেক হিন্দু আছে যারা গরু স্পর্শ করে না, এমনকি কোনো মাছ-মাংসও খায় না। যা এক শ্রেণির হিন্দুর কাছে গ্রহণযোগ্য, আরেক শ্রেণির কাছে নয়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল : ভারতে গরুরক্ষা নিয়ে যে বিতর্ক চলছে সে বিষয়ে আপনি কী মনে করেন?
দ্বিজেন্দ্র নারায়ণ ঝা : নাগরিকদের খাদ্য অভিরুচি নিয়ে রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই। এই নিষেধাজ্ঞায় একটি বিষয় অবজ্ঞা করা হয়েছে যে, নিম্ন বর্ণ ও দরিদ্রদের জন্য আমিষের সস্তা উৎস হচ্ছে গরু। এ ছাড়া মাংসশিল্পের সঙ্গে জড়িত লোকজনের জীবন-জীবিকার ওপরও নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং এটা ভারতের অর্থনীতিতে নানাভাবে জড়িয়ে আছে।

সম্প্রতি গরুর মাংস খাওয়ার গুজবে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের হাতে এক মুসলিমের মৃত্যু হয়। গত মাসের হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সাংবিধানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ দেশ ভারতের মানুষের আচরণের বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। হিন্দু চিন্তাধারায় সব সময় গরুর মাংস খাওয়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হতো না, এটা লিখে ইতিহাসবিদ দ্বিজেন্দ্র নারায়ণ ঝা হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দেশে ক্রমবর্ধমান হারে অসহনশীলতার প্রবণতা বাড়ছে।’ দিল্লি ইউনিভার্সিটির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক দ্বিজেন্দ্র বলেন, ভারতের খাদ্যতালিকায় গরুর মাংস সংক্রান্ত ২০০১ সালে তাঁর লেখা একটি বই প্রকাশ হলে তিনি মৃত্যুর হুমকি পেয়েছিলেন। ‘দ্য মিথ অব দ্য হলি কাউ’ নামের বইটি প্রাচীন লেখার ওপর ভিত্তি করে রচিত।

অতএব এবার নিশ্চয়ই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় গরু খাওয়া হিন্দু ধর্ম সম্মত।

MuslimPoint Organization

About MuslimPoint Organization

MuslimPoint একটি অনলাইন ভিত্তিক ইসলামী প্রশ্নোত্তর, গ্রন্থাগার, ব্লগিং, কুরআন, হাদিস, কুইজ এবং বিষয় ভিত্তিক রেফারেন্স প্ল্যাটফর্ম।

View all posts by MuslimPoint Organization →

9 Comments on “হিন্দু ধর্মেই গরুর মাংস খেতে বলা হয়েছে বা বৈধ। গবেষণাধর্মী লেখা ।”

  1. একদম সত্য কথা, কেউ মানুক না মানুক সত্যি তুলে ধরা মুমিন দের কাজ ❤️❤️

    1. অা র সত্যি তুলে ধরলেন এগুলো তো তারা মিথ্যা
      বলে প্রমাণ করতে পারবেনা, অশিক্ষিত রা হয়তো
      না বুঝে গালিগালাজ করতে পারে। তাই ওরকম
      কোন সনাতন লোক challenge করার সাহস করতে অাসবেও না কারন সত্যের সামনে মিথ্যা
      টিকতে পারে না বরং বিলুপ্ত হয়😎😎

  2. ◾ম্যাক্সমুলার প্রথম সমগ্র ঋৃকবেদ ইংরেজিতে তারপর শ্রী রমেশচন্দ্র বেদ বাংলায় অনুবাদ করেছেন।(বেৰ্বর) সহ অনেক হিন্দু পণ্ডিতগণ বেদের নানা দিক আলোচনা করে একমত হন যে“Caste is not a Vedic institution” বৈদিক যুগে জাতিভেদ ছিল না।স্বৰ্গীয়(রাজেন্দ্রলাল মিত্র)বহু পুরাতন তথ্য সংগ্রহ করে “Beef eating in Ancient India”প্রবন্ধটি লিখেছেন।প্রবন্ধটি অধ্যায়নে দেখা যায় ভব ভূতির সময়ও গোমাংস ভক্ষণ বিলক্ষণ প্রচলিত ছিল।মহর্ষি বাল্মীকির আশ্রমে মহর্ষি বশিষ্ঠ অতিথি হলে- (“জেন আত্মদেষু বসিঠ,ঠমিস্সেমৃ বচ্ছদর বিসসিদা- বাছুর নিহত হ’ল এবং‘তেন পরাবড়িদেণ জ্জেব সাবরাইআ কল্পাণিঅ মড়মড়াইদা”)—মহর্ষি বশিষ্ঠ এসেই সেই হতভাগ্য বাছুরের অস্থিমাংস মড়মড় শব্দে চর্বণ করে ফেললেন কেননা [“সমাংসো মধুপৰ্ক ইতি আমায়ং বহুমন্তমান শ্রোত্রিয়ায়াভ্যাগতার বৎসতরীমহোক্ষং বা মহাজং বা নির্বপত্তি গৃহমেধিনঃ,তং হি ধর্ম্মস্থত্রকারা;সমমনস্তি”] অর্থাৎ-( মাংস সহিত মধুপৰ্ক দান করবে এই বেদ বাক্যের প্রতি সন্মান প্রদর্শন করে গৃহস্থগণ অতিথিরূপে সমাগত বেদাধ্যায়ী বিপ্র বা রাজন্যের জন্য অায়োজন করতেন )।রাম- প্রাসাদ প্রণীত Beef in Ancient India,আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের‘ জাতি গঠনে বাধা’,স্বামী ভুমানন্দ প্রণীত বহু গ্রন্থে উল্লেখ আছে বৌদ্ধ যুগের আগে গোহত্যা-ভক্ষণ মোটেই নিষিদ্ধ ছিল না।মধু ও গোমাংস না খাওয়ালে তখন অতিথি আপ্যায়নই অপূর্ণ থেকে যেতো তাই অতিথির আর এক নাম ( গোঘ্ন )।বৌদ্ধ সম্রাট অশোকের সময় থেকে গোহত্যা নিষিদ্ধ করা হয়।বৌদ্ধ ধর্মের আবির্ভাব ২০০০ বছর আগে হলেও গোহত্যা আরও অনেক পরে নিষিদ্ধ হয়।প্রশ্ন হচ্ছে,সম্রাট অশোকের নিষেধাজ্ঞা হিন্দুরা মানছে কেন?এটাও ধর্মীয় সংঘাতের ফল।তখন বৌদ্ধ ধর্ম জনপ্রিয়তা পাওয়ার কারনে,বহু জনে বিশেষ করে তথাকথিত “নীচ জাতি”আকৃষ্ট হয়েছিল বৌদ্ধ ধর্মে।ব্রাহ্মণ্য বাদী ও ব্রাহ্মণরা প্রমাদ গুনলো।তারাও পুরোপুরি অামিষ অাহার ছেড়ে দিয়ে ভেক ধারী হল।মূলত,এটা উত্তর ভারতেই হয়েছিল।তাই এখনও ওটা“গো-বলয়”।
    ◼️দিল্লি ইউনিভার্সিটির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ইতিহাসবিদ দ্বিজেন্দ্র নারায়ণ ঝা-এর কাছ থেকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক সাক্ষাৎকারে জানতে চাইলেনঃ-গরুর পবিত্রতা ধারণাটি হিন্দু বিশ্বাসে কোত্থেকে এলো?
    স্যার দ্বিজেন্দ্র ঝাঃ- ভারতে বৈদিক যুগে (আনুমানিক খিস্ট্রপূর্ব ৮০০-১৫০০ সাল) পবিত্র গরু ধারণাটি ছিল না।বৈদিক আর্যরা”গো” বলিদান করত এবং গোমাংস খেত।বৈদিক লেখায় গরুকে সবচেয়ে বেশি উপমা ও রূপক হিসেবে ব্যবহার হয়েছে ও সময়ের পরিক্রমায় এগুলোকে আক্ষরিক অর্থে ধরে নেওয়া হয়।
    পরের কয়েক শতকে গরুর পবিত্রতার আংশিক ভাবে ধারণা তৈরি হয় এবং প্রাচীন ভারতীয় লেখায় উল্লিখিত বলিদানের উদ্দেশে গোহত্যা—দুটো বিষয়ই পাশাপাশি চলতে থাকে।
    জার্নালঃ-হিন্দুরা কখন গরু খাওয়া ছেড়ে দিল?
    স্যার দ্বিজেন্দ্র ঝাঃ-খ্রিস্ট শতকের শুরুর দিক থেকে,প্রথম সহস্রাব্দের মধ্যভাগে ব্রাহ্মণদের লেখায় গোহত্যা ও ভক্ষন নিরুৎসাহ এবং নিষিদ্ধ করা আরম্ভ করে।ব্রাহ্মণদের হাতে গরু হত্যা নিষিদ্ধ এবং প্রাণী রক্ষার ক্ষেত্রে এই বিষয়টিই কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে।প্রাচীন ভারতে বহু শতক ধরে গরুর মাংস খাওয়ার রেওয়াজ চালু ছিল, তার প্রমাণ প্রাচীন ভারতীয় লেখায় বলিষ্ঠ প্রমাণ রয়েছে।‘গো-বলয়’নামে পরিচিত এসব অঞ্চল থেকে ক্রমেই এ রেওয়াজ উঠে যায়।তবে দেশের অনেক অংশে যেমন কেরালা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে এখনো এই অভ্যাস (গোভক্ষন) চালু আছে।কেরালায় ৭২টি সম্প্রদায় গরু খায় এবং এদের অনেকেই হিন্দু।সুতরাং আমি বলব না যে গরুর মাংস খাওয়া হিন্দু-আদর্শের সঙ্গে বেমানান।
    ইতিহাসবিদ দ্বিজেন্দ্র নারায়ণ ঝা,ভারতের খাদ্য তালিকায় গোমাংস সংক্রান্ত ২০০১ সালে তাঁর লেখা-[ The myth of the holy cow ]- বইটি প্রাচীন তথ্যের ভিত্তিতে রচিত।” হিন্দু চিন্তা ধারায় সব সময় গরুর মাংস খাওয়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হতো না” এটা লিখে তিনি হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের চক্ষুশূল হন ও মৃত্যুর হুমকিও পান।🤭🤭খুব বেশি অাগে নয় নবাব আলিবর্দির সময়ে রামপ্রসাদের গুরু কৃষ্ণা নন্দ আগম বাগীশ(বৃহৎ তন্ত্রসার)বইটি লিখেন।এতেও অষ্টবিধ মহামাংসের মধ্যে গোমাংস প্রথম বলেই বলা হয়েছে।বনবাসে রামচন্দ্রর মধ্যান্ন ভোজের মেনু কি ছিল?অনেকেরই জানা নেই।তিন রকম মদ(আসব)গৌড়ী,(গুড় থেকে তৈরি)পৌষ্টি,(পিঠে পচিয়ে তৈরি) মাধ্বী(মধু থেকে তৈরি)এর সঙ্গে প্রিয় ছিল-শূলপক্ব গোবৎসের মাংস।বিশ্বাস না হলে রামায়ণ পড়া উচিত।[Advaita Asharama,1963,Vol III, page 172]–“স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন,“এই ভারতবর্ষেই এমন এক দিন ছিল যখন কোন ব্রাহ্মণ গোমাংস না খেলে ব্রাহ্মণই থাকতে পারতেন না।যখন কোন সন্ন্যাসী, রাজা কিংবা বড় মানুষ বাড়ীতে আসতেন,তখন সবচেয়ে ভালো ষাঁড়টিকে কাটা হত।”
    ( M.K.Gandhi,Hindu Dharma,New Delhi, 1991,p-120).মহাত্মা গান্ধী লিখেছেন “আমি জানি,কিছু পণ্ডিত আমাদের বলেছেন বেদে গো-উৎসর্গ করার কথা উল্লেখ আছে।আমি আমাদের সংস্কৃত বইয়ে এরূপ বাক্য পড়েছি যে,পূর্বে ব্রাহ্মণরা গোমাংস ভক্ষণ করতেন।”

    ☑️ হিন্দু ধর্মে গোমাংস
    📝 ✒ লিখেছেন (অজিত কেশকম্বলী)
    ‘গোমাংস’ শব্দটি শুনলেই হিন্দুরা আঁতকে ওঠে।গো মাংস খাওয়ার অপরাধে ভারতে চলেছে হত্যা,নির্যাতন।ভাগ্য চক্রে গরু এখন গোমাতা!কিন্তু ইতিহাস বলে হিন্দুরা আগে গোমাংস খেত ।তাহলে কেন তারা গোমাংস খাওয়া বন্ধ করলো?হিন্দুদের অামিষের জোগান দেওয়া আদিম পশুটি আজকের গোমাতা হয়ে উঠলো, দেখাযাক ইতিহাস কি বলে?
    অন্যান্য পশুর পাশাপাশি গোহত্যা ও গোভক্ষণ বৈদিক যুগে বহুল প্রচলিত ছিল যদিও বৈদিক মানুষদের কাছে(বৃষ)গরু একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী বলে বিবেচিত হত।বৃষ অর্থে‘গো’শব্দটি ঋকবেদের পারিবারিক মণ্ডলে ১৭৬ বার ও গবাদি পশু সম্পর্কিত শব্দসমূহ মোটামুটি ৭০০ বার এসেছে।বৈদিক যুগে ধনী লোককে(গোমত) বলা হত।গোত্রের প্রধানকে বলা হত গোপ বা (গোপতি)।গরুর জন্য অনেক যুদ্ধও সংঘটিত হত তাই[গভিষ্টি,গব্যু,গবেষণ]এর মত যুদ্ধবাচক শব্দগুলো গবাদি পশু হতে এসেছে।কন্যাকে বলা হত দুহিতা(যে দুধ দোয়ায়)এমনকি অনেক দেবতাদের উৎপত্তি বৃষ থেকে দেখানো হয়েছে, তাদের(গোজাত)বলা হত।গুরুত্ব থাকার পরেও বৈদিক আর্যরা গোহত্যা করতো।দেবতাদের ছিল গোমাংসের প্রতি বিশেষ লোভ।দেবতা ইন্দ্রের গোভক্ষণ ভীষণ পছন্দ ছিল।ঋক মন্ত্রে বারবার ইন্দ্রকে গরু ভক্ষণ করতে বলা হয়েছে।
    🔲[ঋকবেদ সংহিতা,শ্রীরমেশ চন্দ্র অনুদিত খন্ড-86,স্লোক-10,মন্ত্র-13]-বলছে-[वृषा॑कपायि॒ रेव॑ति॒ सुपु॑त्र॒ आदु॒ सुस्नु॑षे।घस॑त्त॒ इन्द्र॑ उ॒क्षणः॑ प्रि॒यं का॑चित्क॒रं ह॒विर्विश्व॑स्मा॒दिन्द्र॒ उत्त॑र॥१०.०८६.१३]
    “হে বৃষাকপিবনিতে! তুমি ধনশালিনী ও উৎকৃষ্ট পুত্রযুক্তা এবং আমার সুন্দরী পুত্রবধূ।তোমার বৃষদিগকে ইন্দ্র ভক্ষণ করুন,তোমার অতি চমৎকার,অতি সুখকর হোমদ্রব্য তিনি ভক্ষণ করুন।ইন্দ্র সকলের শ্রেষ্ঠ।”)
    🔲[ঋকবেদ সংহিতা খন্ড-27,স্লোক-10,মন্ত্র-2]
    यदीद॒हं यु॒धये॑ सं॒नया॒न्यदे॑वयून्त॒न्वा॒३॒॑ शूशु॑जानान् ।
    अ॒मा ते॒ तुम्रं॑ वृष॒भं प॑चानि ती॒व्रं सु॒तं प॑ञ्चद॒शं नि षि॑ञ्चम् ॥ १०.०२७.०२]“ঋষি বলিতেছেন যে সকল ব্যক্তি দৈব কর্মের অনুষ্ঠান না করে এবং কেবল তাহাঁদিগের নিজের উদর পূরণ করিয়া স্ফীত হইয়া ওঠে, আমি যখন তাহাঁদিগের সঙ্গে যুদ্ধ করিতে যাই, তখন,হে ইন্দ্র!তোমার নিমিত্ত পুরোহিতদিগের সহিত একত্র স্থূলকায় বৃষকে পাক করি এবং পঞ্চদশ তিথির প্রত্যেক তিথিতে সোমরস প্রস্তুত করিয়া থাকি।”
    🔲[ঋকবেদ সংহিতা খন্ড-28,স্লোক-10,মন্ত্র-3]
    अद्रि॑णा ते म॒न्दिन॑ इन्द्र॒ तूया॑न्सु॒न्वन्ति॒ सोमा॒न्पिब॑सि॒ त्वमे॑षाम् ।पच॑न्ति ते वृष॒भाँ अत्सि॒ तेषां॑ पृ॒क्षेण॒ यन्म॑घवन्हू॒यमा॑नः॥ १०.०२८.०३]
    ” হে ইন্দ্র!যখন অন্ন কামনাতে তোমার উদ্দেশ্যে হোম করা হয়,তখন তাহারা শীঘ্র শীঘ্র প্রস্তর ফলক সহযোগে মাদকতাশক্তিযুক্ত সোমরস প্রস্তুত করে,তুমি তাহা পান কর।তাহারা বৃষভ সমূহ পাক করে,তুমি তাহা ভোজন কর।ইন্দ্র নিজেও তার জন্য ১৫ অথবা ২০টি বৃষ পাক করে দেওয়ার জন্য বলেছেন।এইসব বৃষ খেয়ে ইন্দ্র তার শরীরকে স্থূল করতে চান, উদরকে পূর্ণ করতে চান-
    🔲 [ঋকবেদ সংহিতা,শ্রী রমেশচন্দ্র অনুদিত খন্ড-৮৬,স্লোক-১০,মন্ত্র-১৪]-उ॒क्ष्णो हि मे॒ पञ्च॑दश सा॒कं पच॑न्ति विंश॒तिम् । उ॒ताहम॑द्मि॒ पीव॒ इदु॒भा कु॒क्षी पृ॑णन्ति मे॒ विश्व॑स्मा॒दिन्द्र॒ उत्त॑रः॥ १०.०८६.१४ ]
    ইন্দ্র সয়ং বলছেন “আমার জন্য পঞ্চদশ এমন কি বিংশ বৃষ পাক করিয়া দেয়।আমি খাইয়া শরীরের স্থূলতা সম্পাদন করি,আমার উদরের দু’পার্শ্ব পূর্ণ হয়,ইন্দ্র সকলের শ্রেষ্ঠ”

    ২য় অংশ
    🔲 ঋকবেদ সংহিতা খন্ড-৩৯ ,স্লোক-৬,মন্ত-১,
    প্রার্থনা করা হয়ঃ-
    मन्द्रस्य कवेर्दिव्यस्य वह्नेर्विप्रमन्मनो वचनस्य मध्वः| 
    अपा नस्तस्य सचनस्य देवेषो युवस्व गर्णते गोग्राः||
    “ হে ইন্দ্র!তুমি আমাদিগের সেই সোমরস পান কর।ইহা মদকর,বিক্রান্ত,স্বর্গীয়,প্রাজ্ঞসম্মত, ফলোপধায়ক,সুপ্রসিদ্ধ ও সেবনীয়।হে দেব, তুমি আমাদিগকে গো প্রমুখ অন্ন দান কর।”
    🔲 অগ্নির উদ্দেশ্যে ঋকবেদ সংহিতা ৬/১৬/৪৭ এ বলা হয়েছেঃ-आ ते॑ अग्न ऋ॒चा ह॒विर्हृ॒दा त॒ष्टं भ॑रामसि ।ते ते॑ भवन्तू॒क्षण॑ ऋष॒भासो॑ व॒शा उ॒त ॥ ६.०१६.४७“হে অগ্নি!আমরা তোমাকে হৃদয় দ্বারা সংস্কৃত ঋক রূপ হব্য প্রদান করিতেছি।বলশালী বৃষভ ও ধেনুগণ তোমার নিকট পূর্বোক্ত রূপ হব্য হউক।”
    🔲 ঋকবেদ সংহিতা১০/৭৯/৬ এ গরুকে খণ্ড খণ্ড করে কাটার কথা বলা আছে-[ किं देवेषु तयज एनश्चकर्थाग्ने पर्छामि नु तवामविद्वान|अक्रीळन करीळन हरिरत्तवे.अदन वि पर्वशश्चकर्त गामिवासि।।]
    “ হে অগ্নি!তুমি কি দেবতাদের মধ্যে কোন অপরাধ পাইয়া ক্রোধ ধারণ করিয়াছ?আমি জানি না,এজন্য তোমাকে একথা জিজ্ঞাসা করিতেছি?যেমন খড়্গ দ্বারা গাভীকে খণ্ড খণ্ড করে ছেদন করে সেরূপ তুমি ক্রীড়া কর আর না কর,তুমি উজ্জ্বল হইয়া তোমার আহারীয়দ্রব্য ভোজনকালে পর্বে পর্বে কর্তন কর।“
    🔲 ঋকবেদ সংহিতা ১০/১৬/৭ মৃতের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় মৃতকে গোচর্ম দ্বারা ঢেকে দেওয়া হত-[ अ॒ग्नेर्वर्म॒ परि॒ गोभि॑र्व्ययस्व॒ सं प्रोर्णु॑ष्व॒ पीव॑सा॒ मेद॑सा च ।नेत्त्वा॑ धृ॒ष्णुर्हर॑सा॒ जर्हृ॑षाणो द॒धृग्वि॑ध॒क्ष्यन्प॑र्य॒ङ्खया॑ते ॥ १०.०१६.०७]
    “ হে মৃত!তুমি গোচর্মের সাথে অগ্নি শিখা স্বরূপ কবচ ধারণ কর,তোমার প্রচুর মেদের দ্বারা তুমি আচ্ছাদিত হও,তাহলে এ যে দুর্ধর্ষ অগ্নি,যিনি বলপূর্বক ও অহংকারের সাথে তোমাকে দগ্ধ করতে উদ্যত হয়েছেন,তিনি একেবারে তোমার সর্বাংশে ব্যপ্ত হতে পারবেন না।“🔲 অসংখ্য গোহত্যা করা হত তাই গোহত্যার জন্য নির্দিষ্ট স্থান ছিল।তাই ঋকবেদ সংহিতা ১০/৮৯/১৪ এ বলা হয়েছে-[ कर्हि॑ स्वि॒त्सा त॑ इन्द्र चे॒त्यास॑द॒घस्य॒ यद्भि॒नदो॒ रक्ष॒ एष॑त्।मि॒त्र॒क्रुवो॒ यच्छस॑ने॒ न गावः॑ पृथि॒व्या आ॒पृग॑मु॒या शय॑न्ते॥ १०.०८९.१४ ] ” হে ইন্দ্র!যে অস্ত্র ক্ষেপন করিয়া পাপাত্মা রাক্ষসকে বিদীর্ণ করিলে,তোমার সেই নিক্ষেপ যোগ্য অস্ত্র কোথায় রহিল?যেরূপ গোহত্যাস্থানে গাভীগণ হত হয়,তদ্রুপ তোমার ওই অস্ত্র দ্বারা নিহত হইয়া বন্ধুদ্বেষী রাক্ষসগণ পৃথিবীতে পতিত হইয়া শয়ণ করে।”🔲 [ অথর্ব বেদেও বলছে ১৮/২/৬/৮ অনুবাদক-বিজন বিহারী গোস্বামী ] -মৃতের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় (গোচামড়া) ব্যবহার করা হতঃ-[ অগ্নের্বর্ম পরি গোভির্ব্যয়স্ব সংস প্রোর্ণুষ্ব নেদিসা অঊভিস্ত চ।নেৎ ত্বা ধৃষ্ণুর্হরসা হির্হৃষাণো দধৃগ্ বিধক্ষন্ পরীঙ্খায়াতৈ।।”হে প্রেত,তুমি গাভীর অবয়বের দ্বারা দাহক অগ্নির আচ্ছাদক বর্মধারণ কর মেদ ও অন্যান্য স্থূল অঙ্গ দ্বারা নিজেকে আচ্ছন্ন কর, তা না হলে ধর্ষক স্বতেজে রসহরণশীল অগ্নি তোমাকে দাহ করবার জন্য ফেলে দেবে।
    🔲 বেদের সংহিতা অংশের পরে ব্রাহ্মণ অংশ রচিত হয়।বিভিন্ন ব্রাহ্মণ গ্রন্থেও গোহত্যা ও গোমাংস ভক্ষণের কথা পাওয়া যায়।[ ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ১/৩/৪ অনুবাদক-রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী ]-রাজা অথবা অন্য কোনো সম্মানীয় ব্যক্তি উপস্থিত হলে বৃষ অথবা বৃদ্ধা গাভী হত্যা করার কথা বলা হয়েছে-“যেমন নররাজ অথবা অন্য পূজ্য ব্যক্তি উপস্থিত হইলে বৃষ অথবা বেহৎ(গর্ভনাশিনী বৃদ্ধা গাভী)হত্যা করে,সেইরূপ অগ্নির যে মন্থন হয়,তাহাতেই সোমের উদ্দেশ্যে অগ্নির হত্যা করা হয়,কেননা অগ্নিই দেবগণের পশু।“
    ৩য় অংশ
    🔲 [ ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ৪/১৮/৮ অনুবাদক- রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী ]-এ বৃষকে হত্যা করার কথা বলা আছেঃ-“মহাব্রত দিনে সবনীয় পশুর স্থানে বিশ্বকর্মার উদ্দিষ্ট উভয় পার্শ্বে উভয় বর্ণ যুক্ত বৃষভ আলম্ভনযোগ্য।অতএব (ঐ দিনে) উহারই আলম্ভন করিবে।“
    🔲 [ শতপথ ব্রাহ্মণে ১/১/৪ অনুবাদক-শ্রী বিধূশেখর ভট্টাচার্য ]-একটি উপাখ্যান বর্ণিত হয়েছে।এখানে অসুরেরা মনুর বৃষকে হত্যা করার জন্য মনুর অনুমতি চাইলে তিনি কোনো আপত্তি করেন না এবং সেই বৃষটিকে হত্যা করা হয়-“মনুর একটি ঋষভ( বৃষ )ছিল।ঐ ঋষভে অসুর ও শত্রুগণের হননকারী শব্দ (বাক) প্রবেশ করে।তাহার শ্বাস ও শব্দে পীড়িত হইয়া অসুর ও রক্ষোগণ চলিয়া গিয়াছিল।অনন্তর তাহারা এই আলাপ করে-‘হায়!এই ঋষভ আমাদের পাপ(পরাজয়)সম্পাদন করিতেছে; কি করিয়া আমরা ইহাকে বিনাশ করিব! কিলাত ও আকুলি নামে অসুর গণের দুই পুরোহিত ছিলেন।তাহারা উভয়ে বলিলেন-‘মনু শ্রদ্ধাদেব(অত্যন্ত শ্রদ্ধালু-সহজে অন্যের কথায় বিশ্বাস করেন)আমরা ইহার অভিপ্রায় জানিব।তাহারা আগমন করিয়া তাহাকে বলিলেন-‘হে মনু!আমরা আপনার যাগ করিব!কাহার দ্বারা?এই ঋষভের দ্বারা।মনু-‘তাহাই হউক’ বলিলে তাহারা সেই ঋষভকে বধ করায় ঐ শব্দ(বাক) অপগত হইল। “
    ☑️ [ শতপথ ব্রাহ্মণ ৩/১/২/২১অনুবাদক-শ্রী বিধূশেখর ভট্টাচার্য ]-গাভী ও ষাঁড়ের মাংস খেতে অনেক বারণ করা হয়েছে।কিন্তু তারপরেই বিখ্যাত(যাজ্ঞবল্ক্যের)কথা বলা হয়েছে।যাজ্ঞবল্ক্য বলেছেন,গোমাংস নরম হলে তিনি তা খান-“তারপর তিনি(অধ্বর্যু)তাকে শালায় নিয়ে যান।সে গরু বা ষাঁড়ের মাংস না খাক কারণ”গো”পৃথিবীর সব কিছুকে ধারণ করে থাকে।দেবতারা বললেন‘ সত্যই,গাভী ও ষাঁড় এখানে সবকিছুকে ধারণ করে,এসো অন্য প্রজাতির যত বীর্য(পরাক্রম)তা গাভী ও ষাঁড়কে প্রদান করি।সেইমতো তারা অন্য প্রজাতিদের যত বীর্য ছিল তা গাভী ও ষাঁড়কে প্রদান করেন। এজন্য গাভী এবং ষাঁড় সবচাইতে বেশি ভোজন করে।তাই গাভি বা ষাঁড়ের মাংস খেলে সবই খাওয়া হয়।সর্বনাশী গতিযুক্ত সে বিচিত্র যোনিতে জন্মগ্রহণ করবে।মানুষেরা বলবে সে মায়ের গর্ভ নষ্ট করেছে,পাপ করেছে।সে গাভী এবং ষাঁড়ের মাংস না খাক।তবুও যাজ্ঞবল্ক্য বলেছেন-“আমি তো খাই যদি তা নরম (অংশল) হয়’।“😀😀😀
    🔲 [ বৃহদারণ্যক উপনিষদ ৬/৪/১৮ অনুবাদ কালে অনুবাদক সীতানাথ তত্ত্বভূষণ মন্তব্য করেছেন ]-“বৈদিক যুগে গোমাংস ভক্ষণ নিষিদ্ধ ছিল না।এই মন্ত্রে গোমাংস ভোজনের ব্যবস্থা দেওয়া হইয়াছে।এখানে বলা যাইতে পারে যে শতপথ ব্রাহ্মণে (৩/১/২/২১) গোমাংস ভোজন নিষেধ করা হইয়াছে কিন্তু নিষেধ করিয়াও সেখানে বলা হইয়াছে[“হ উবাচ যাজ্ঞবল্কঃ অশ্নামি এব অহম্ অংসলং চেৎ ভবতি”]-অর্থাৎ (যাজ্ঞবল্ক্য)বলেন(এই মাংস) যদি অংসল অর্থাৎ কোমল হয়,তাহা হইলে আমি ভোজনই করি’(৩/১/২/২১) এস্থলে অনড্বান্(অর্থাৎ বলদ)এবং ধেনুর মাংসের কথা হইয়াছে।“
    ৪র্থ অংশ
    🔲 [ গোপথ ব্রাহ্মণ,পূর্ব ভাগ,৩য় প্রপাঠক,১৭ অনুবাদক-অধ্যাপক তারকনাথ অধিকারী, রামকৃষ্ণ মিশন ইন্সটিটিউট অব কালচার ]
    “গো” দ্বারা যজ্ঞ করার কথা বলা হয়েছে-“কারব নামক ঋষিরা ছিলেন অল্পবিত্ত।তারা এই অগ্নিষ্টোমকে একগু(অর্থাৎ ১গাভী দান দ্বারা সম্পন্ন)রূপে দেখলেন।তারা(একটি গরু) আহরণ করেছিলেন।তার দ্বারাই যজ্ঞ করেছিলেন।তারা স্বর্গগমন করেছিলেন। অতএব যিনি ইচ্ছা করেন-আমি স্বর্গে যাবো, তিনি একগু অগ্নিষ্টোম যাগ করবেন একথাই ব্রাহ্মণ বলছেন।“[গোপথ ব্রাহ্মণ,পূর্ব ভাগ,৩য় প্রপাঠক,১৮]-তে গরুর নানা অংশ কিভাবে ভাগ করা হবে তার বিষদ বিবরণ দেওয়া হয়েছেঃ-“ অতঃপর সেজন্যে আমরা সবনীয় পশুর বিভাজন ব্যাখ্যা করবো।পশুর অংশসমূহ গ্রহণ করার পর”সজিহ্ব হনূদ্বয় হল প্রস্তোতার/সকাকুদ্র কণ্ঠ হল প্রতিহর্তার/শ্যেন-বক্ষ পাবেন উদগাতা/দক্ষিণ পাঁজর সন্ধসহ হল অধ্বর্যুর/বাদিকটা হল উদ্গাতার/বামস্কন্ধ প্রতিপ্রস্থাতার/অথ্যাস্ত্রীসহ দক্ষিণনিতম্ব হল ব্রহ্মার/ডানদিকের নীচের জানু ব্রহ্মাচ্ছংসীর/ডান উরু পোতার/বামনিতম্ব হোতার/বাম দিকের নীচের জানু মৈত্রাবরুণের/বাম উরু আচ্ছাবকের/ডানবাহু নেষ্টার/বামবাহু সদস্যের/গৃহপতির হল মেরুদণ্ড ও অনূক/মূত্রথলি/পত্নীর ভাগ হল জঘন সেটি তিনি অন্য ব্রাহ্মণকে দিয়ে দেবেন/অগ্নীধ্রর হল মলাশয়, হৃৎপিণ্ড,বৃক্কদ্বয়(কিডনিদ্বয়)/অঙ্গুলিসমূহ ও দক্ষিণ বাহু/বামবাহু হল আত্রেয়ের/দুটি ডানপদদ্বয় হল গৃহপতির ব্রতপদের অর্থাৎ যিনি ব্রতান্তে গৃহপতিকে ভোজন করান/বামপদদ্বয় হল গৃহপত্নীর ব্রতুইদার/তাদের দুজনেরই ওষ্ঠ তাকে গৃহপতি অন্যদের মধ্যে ভাগ করে দেবেন/ঘাড়ের মাংসল অংশ ও তিনটি পাঁজর হাড় পাবেন গ্রাবস্তুৎ/বামদিকের অপর তিনটি পাঁজরহাড় ও উপস্থের অর্ধেক পাবেন উন্নেতা/এর উপরের অংশ পাবেন চমসধারী অধ্বর্যুরা/শাময়িতার অর্থাৎ ঘাতকের অংশ হল ফুসফুস/সুব্রহ্মণ্যের অংশ হল শির/যিনি পরের দিন সূত্যাসময়ে আহ্বান করবেন তার অংশ হল চামড়া/এভাবে ৩৬ ভাগ সম্পন্ন হয়।গরু হল ছত্রিশভাগযুক্ত।বৃহতী ছন্দ ৩৬ অক্ষরবিশিষ্ট।বৃহতীর(আশ্রয়) হল স্বর্গলোক।বৃহতীছন্দে দেবতারা স্বর্গে যাগ করেন।বৃহতীর দ্বারা তার স্বর্গলোকে প্রতিষ্ঠিত হন।যে এভাবে বিভাগ করে সে সন্তান ও পশু লাভ করে।আর যে জনেরা এর বিরুদ্ধ আচরণকারী/পাপানুষ্ঠানকারী/হুত-হবিঃ ভক্ষণকারী অথবা অন্যজনেরা যারা বিমথনকারী তাদের পশু বিমথিত হয় ফলে তাদের স্বর্গলাভ করা হয় না।দেবভাগ শ্রুত-ঋষি এই পশুবিভাজন করেছিলেন।তিনি এই বিভাগ বভ্রুবংশজ ঋষি গিরিজকে শিখিয়েছিলেন।গিরিজ আবার অন্য মানুষদের বলেছিলেন।সেই থেকে”গো”বিভাজন মানুষদের মধ্যে প্রচলিত হল।এই কথা ব্রাহ্মণ বলছেন।“
    বেদের ব্রাহ্মণ ভাগের পরে উপনিষদ রচিত হয়। উপনিষদেও গোমাংস খাওয়ার বিধান পাওয়া যায়।বৃহদারণ্যক উপনিষদে পণ্ডিত পুত্র জন্ম দেওয়ার জন্য স্বামী স্ত্রীকে বৃষের মাংস খেতে বলা হয়েছে-[ বৃহদারণ্যক উপনিষদ ৬/৪/১৮ অনুবাদক-সীতানাথ তত্ত্বভূষণ ]
    “অথ য ইচ্ছেৎ পুত্রো মে পন্ডিতো বিগীতঃ সমিতিংগমঃ শুশ্রূষিতাং বাচং ভাষিতা জায়েত সর্বান্বেদাননুব্রুবীত সর্বমায়ুরিয়াদিতি মাংসৌদনং পাচয়িত্বা সর্পিষ্মন্তমশ্নীয়াতামীশ্বরৌ জনয়িতবা ঔক্ষেণ বার্ষভেণ বা।।
    অর্থাৎ,যে চায়-আমার এমন এক পুত্র হউক যে পন্ডিত, প্রখ্যাত, সভাসদ ও সুভাষ হইবে,সর্ববেদ অধ্যয়ণ করিবে এবং পূর্ণায়ু হইবে-তবে তাহারা স্বামী স্ত্রী উভয়ে মাংসমিশ্রিত অন্ন রন্ধন করিয়া তাহাতে ঘি মিশাইয়া খাইবে।এই মাংস তরুণ বা বয়স্ক বৃষের হইলে(তাহারা ঐ রকম সন্তান)জন্ম দিতে পারিবে। শঙ্করাচার্য বৃহদারণ্যক উপনিষদের ভাষ্যে লিখেছেন-Verse 6.4.18:॥अथ य इच्छेत्पुत्रो मे पण्डितो विगीतः समितिंगमः शुश्रूषितां वाचं भाषिता जायेत, सर्वान्वेदाननुब्रुवीत, सर्वमायुरियादिति, मांसौदनं पाचयित्वा सर्पिष्मन्तमश्नीयाताम्; ईश्वरौ जनयितवै—अउक्शेण वार्षभेण वा ॥ [ স্বামী মাধবানন্দ অনুবাদ করেছেন ]-যে ব্যক্তি এই কামনা করে যে তাঁর কাছে একজন পুত্র সন্তানের জন্ম হবে যিনি একজন নামী পণ্ডিত হবেন,মজলিসে ঘন ঘন এবং আনন্দময় কথা বার্তা বলবেন, সমস্ত বেদ অধ্যয়ন করবেন এবং একটি পূর্ণকালীন জীবনকাল অর্জন করবেন, তাঁর উচিত একটি শক্তিশালী ষাঁড়ের মাংসের সাথে ভাত রান্না করা উচিত।তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর এটিকে পরিষ্কার মাখন দিয়ে খাওয়া উচিত ।তাহলে তারা এরুপ পুত্র জন্ম দিতে সক্ষম হবে।
    🔳 ( মহাভারত) মহিয়ষী দেবব্যাস বিরচিত শ্রী কালিপ্রসন্ন সিংহ অনুদিত,অধ্যায় ৮৮,২য় খন্ডের ১১৭০ নং পৃষ্ঠাঃ-” পিতৃপুরুষ কে সন্তুষ্ট করার জন্য পাখির মাংস প্রদান করলে ৭ মাস বৃষত নমক পাখির মাংস প্রদান করলে ৮ মাস, রুরুমৃগের মাংস প্রদান করলে ৯ মাস, গগয়েবের মাংস প্রদান করলে ১০ মাস
    মহিষের মাংস প্রদান করলে ১১ মাস এবং গোমাংস প্রদান করলে ১ বৎসর তৃপ্ত লাভ হইয়া থাকেন।( মহাভারত) ছাড়াও পৌরানিক কাব্য
    🔳 ( বিষ্ণুপুরাণ ) অাচার্য পঞ্চনন তর্করত্নের নবভারত পাবলিশার্স (কোলকাতা-৭০০০০৯ ৭২-ডি মহাত্মা গান্ধী রোড) এই বইয়ের ২২৯ নং পৃষ্ঠা তৃতীয় অংশের ১৬ তম অধ্যায় মন্ত্র নং-( ১ থেকে ৩ ) শ্রদ্ধার ব্রাহ্মণদিগকে মেষ মাংস প্রদান করলে ১১ মাস ও গোমাংস প্রদান করিলে ১ বৎসর পিতৃলোক সন্তুষ্ট থাকেন। (মহাভারত),(বিষ্ণুপুরাণ) ছাড়াও
    🔳 (কালিকাপুরাণ) অাচার্য পঞ্চনন তর্করত্নের নবভারত পাবলিশার্স (কোলকাতা-৭০০০০৯ ৭২-ডি মহাত্মা গান্ধী রোড) ৬৭ নং অধ্যায়ে ১ থেকে ৪ নং শ্লোকে একই কথা লেখা অাছে! বলিদান বিধি( ভগবান বচ্যু )মানে ভগবানের কথা,শ্লোক (৮ ও ৯) মেষ মাংস প্রদান করলে ১১ মাস,গোমাংস প্রদান করলে ১ বৎসর পিতৃলোক সন্তুষ্ট থাকে।

    😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆

  3. হিন্দু ধর্ম ও গোমাংস
    ◾ম্যাক্সমুলার প্রথম সমগ্র ঋৃকবেদ ইংরেজিতে তারপর শ্রী রমেশচন্দ্র বেদ বাংলায় অনুবাদ করেছেন।(বেৰ্বর) সহ অনেক হিন্দু পণ্ডিতগণ বেদের নানা দিক আলোচনা করে একমত হন যে“Caste is not a Vedic institution” বৈদিক যুগে জাতিভেদ ছিল না।স্বৰ্গীয়(রাজেন্দ্রলাল মিত্র)বহু পুরাতন তথ্য সংগ্রহ করে “Beef eating in Ancient India”প্রবন্ধটি লিখেছেন।প্রবন্ধটি অধ্যায়নে দেখা যায় ভব ভূতির সময়ও গোমাংস ভক্ষণ বিলক্ষণ প্রচলিত ছিল।মহর্ষি বাল্মীকির আশ্রমে মহর্ষি বশিষ্ঠ অতিথি হলে- (“জেন আত্মদেষু বসিঠ,ঠমিস্সেমৃ বচ্ছদর বিসসিদা- বাছুর নিহত হ’ল এবং‘তেন পরাবড়িদেণ জ্জেব সাবরাইআ কল্পাণিঅ মড়মড়াইদা”)—মহর্ষি বশিষ্ঠ এসেই সেই হতভাগ্য বাছুরের অস্থিমাংস মড়মড় শব্দে চর্বণ করে ফেললেন কেননা [“সমাংসো মধুপৰ্ক ইতি আমায়ং বহুমন্তমান শ্রোত্রিয়ায়াভ্যাগতার বৎসতরীমহোক্ষং বা মহাজং বা নির্বপত্তি গৃহমেধিনঃ,তং হি ধর্ম্মস্থত্রকারা;সমমনস্তি”] অর্থাৎ-( মাংস সহিত মধুপৰ্ক দান করবে এই বেদ বাক্যের প্রতি সন্মান প্রদর্শন করে গৃহস্থগণ অতিথিরূপে সমাগত বেদাধ্যায়ী বিপ্র বা রাজন্যের জন্য অায়োজন করতেন )।রাম- প্রাসাদ প্রণীত Beef in Ancient India,আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের‘ জাতি গঠনে বাধা’,স্বামী ভুমানন্দ প্রণীত বহু গ্রন্থে উল্লেখ আছে বৌদ্ধ যুগের আগে গোহত্যা-ভক্ষণ মোটেই নিষিদ্ধ ছিল না।মধু ও গোমাংস না খাওয়ালে তখন অতিথি আপ্যায়নই অপূর্ণ থেকে যেতো তাই অতিথির আর এক নাম ( গোঘ্ন )।বৌদ্ধ সম্রাট অশোকের সময় থেকে গোহত্যা নিষিদ্ধ করা হয়।বৌদ্ধ ধর্মের আবির্ভাব ২০০০ বছর আগে হলেও গোহত্যা আরও অনেক পরে নিষিদ্ধ হয়।প্রশ্ন হচ্ছে,সম্রাট অশোকের নিষেধাজ্ঞা হিন্দুরা মানছে কেন?এটাও ধর্মীয় সংঘাতের ফল।তখন বৌদ্ধ ধর্ম জনপ্রিয়তা পাওয়ার কারনে,বহু জনে বিশেষ করে তথাকথিত “নীচ জাতি”আকৃষ্ট হয়েছিল বৌদ্ধ ধর্মে।ব্রাহ্মণ্য বাদী ও ব্রাহ্মণরা প্রমাদ গুনলো।তারাও পুরোপুরি অামিষ অাহার ছেড়ে দিয়ে ভেক ধারী হল।মূলত,এটা উত্তর ভারতেই হয়েছিল।তাই এখনও ওটা“গো-বলয়”।
    ◼️দিল্লি ইউনিভার্সিটির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ইতিহাসবিদ দ্বিজেন্দ্র নারায়ণ ঝা-এর কাছ থেকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক সাক্ষাৎকারে জানতে চাইলেনঃ-গরুর পবিত্রতা ধারণাটি হিন্দু বিশ্বাসে কোত্থেকে এলো?
    স্যার দ্বিজেন্দ্র ঝাঃ- ভারতে বৈদিক যুগে (আনুমানিক খিস্ট্রপূর্ব ৮০০-১৫০০ সাল) পবিত্র গরু ধারণাটি ছিল না।বৈদিক আর্যরা”গো” বলিদান করত এবং গোমাংস খেত।বৈদিক লেখায় গরুকে সবচেয়ে বেশি উপমা ও রূপক হিসেবে ব্যবহার হয়েছে ও সময়ের পরিক্রমায় এগুলোকে আক্ষরিক অর্থে ধরে নেওয়া হয়।
    পরের কয়েক শতকে গরুর পবিত্রতার আংশিক ভাবে ধারণা তৈরি হয় এবং প্রাচীন ভারতীয় লেখায় উল্লিখিত বলিদানের উদ্দেশে গোহত্যা—দুটো বিষয়ই পাশাপাশি চলতে থাকে।
    জার্নালঃ-হিন্দুরা কখন গরু খাওয়া ছেড়ে দিল?
    স্যার দ্বিজেন্দ্র ঝাঃ-খ্রিস্ট শতকের শুরুর দিক থেকে,প্রথম সহস্রাব্দের মধ্যভাগে ব্রাহ্মণদের লেখায় গোহত্যা ও ভক্ষন নিরুৎসাহ এবং নিষিদ্ধ করা আরম্ভ করে।ব্রাহ্মণদের হাতে গরু হত্যা নিষিদ্ধ এবং প্রাণী রক্ষার ক্ষেত্রে এই বিষয়টিই কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে।প্রাচীন ভারতে বহু শতক ধরে গরুর মাংস খাওয়ার রেওয়াজ চালু ছিল, তার প্রমাণ প্রাচীন ভারতীয় লেখায় বলিষ্ঠ প্রমাণ রয়েছে।‘গো-বলয়’নামে পরিচিত এসব অঞ্চল থেকে ক্রমেই এ রেওয়াজ উঠে যায়।তবে দেশের অনেক অংশে যেমন কেরালা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে এখনো এই অভ্যাস (গোভক্ষন) চালু আছে।কেরালায় ৭২টি সম্প্রদায় গরু খায় এবং এদের অনেকেই হিন্দু।সুতরাং আমি বলব না যে গরুর মাংস খাওয়া হিন্দু-আদর্শের সঙ্গে বেমানান।
    ইতিহাসবিদ দ্বিজেন্দ্র নারায়ণ ঝা,ভারতের খাদ্য তালিকায় গোমাংস সংক্রান্ত ২০০১ সালে তাঁর লেখা-[ The myth of the holy cow ]- বইটি প্রাচীন তথ্যের ভিত্তিতে রচিত।” হিন্দু চিন্তা ধারায় সব সময় গরুর মাংস খাওয়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হতো না” এটা লিখে তিনি হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের চক্ষুশূল হন ও মৃত্যুর হুমকিও পান।🤭🤭খুব বেশি অাগে নয় নবাব আলিবর্দির সময়ে রামপ্রসাদের গুরু কৃষ্ণা নন্দ আগম বাগীশ(বৃহৎ তন্ত্রসার)বইটি লিখেন।এতেও অষ্টবিধ মহামাংসের মধ্যে গোমাংস প্রথম বলেই বলা হয়েছে।বনবাসে রামচন্দ্রর মধ্যান্ন ভোজের মেনু কি ছিল?অনেকেরই জানা নেই।তিন রকম মদ(আসব)গৌড়ী,(গুড় থেকে তৈরি)পৌষ্টি,(পিঠে পচিয়ে তৈরি) মাধ্বী(মধু থেকে তৈরি)এর সঙ্গে প্রিয় ছিল-শূলপক্ব গোবৎসের মাংস।বিশ্বাস না হলে রামায়ণ পড়া উচিত।[Advaita Asharama,1963,Vol III, page 172]–“স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন,“এই ভারতবর্ষেই এমন এক দিন ছিল যখন কোন ব্রাহ্মণ গোমাংস না খেলে ব্রাহ্মণই থাকতে পারতেন না।যখন কোন সন্ন্যাসী, রাজা কিংবা বড় মানুষ বাড়ীতে আসতেন,তখন সবচেয়ে ভালো ষাঁড়টিকে কাটা হত।”
    ( M.K.Gandhi,Hindu Dharma,New Delhi, 1991,p-120).মহাত্মা গান্ধী লিখেছেন “আমি জানি,কিছু পণ্ডিত আমাদের বলেছেন বেদে গো-উৎসর্গ করার কথা উল্লেখ আছে।আমি আমাদের সংস্কৃত বইয়ে এরূপ বাক্য পড়েছি যে,পূর্বে ব্রাহ্মণরা গোমাংস ভক্ষণ করতেন।”
    ‘গোমাংস’ শব্দটি শুনলেই হিন্দুরা আঁতকে ওঠে।গো মাংস খাওয়ার অপরাধে ভারতে চলেছে হত্যা,নির্যাতন।ভাগ্য চক্রে গরু এখন গোমাতা!কিন্তু ইতিহাস বলে হিন্দুরা আগে গোমাংস খেত ।তাহলে কেন তারা গোমাংস খাওয়া বন্ধ করলো?হিন্দুদের অামিষের জোগান দেওয়া আদিম পশুটি আজকের গোমাতা কেমনে হয়ে উঠলো, বুঝতে পারলেন নিশ্চয়।
    অন্যান্য পশুর পাশাপাশি গোহত্যা ও গোভক্ষণ বৈদিক যুগে বহুল প্রচলিত ছিল যদিও বৈদিক মানুষদের কাছে(বৃষ)গরু একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী বলে বিবেচিত হত।বৃষ অর্থে‘গো’শব্দটি ঋকবেদের পারিবারিক মণ্ডলে ১৭৬ বার ও গবাদি পশু সম্পর্কিত শব্দসমূহ মোটামুটি ৭০০ বার এসেছে।বৈদিক যুগে ধনী লোককে(গোমত) বলা হত।গোত্রের প্রধানকে বলা হত গোপ বা (গোপতি)।গরুর জন্য অনেক যুদ্ধও সংঘটিত হত তাই[গভিষ্টি,গব্যু,গবেষণ]এর মত যুদ্ধবাচক শব্দগুলো গবাদি পশু হতে এসেছে।কন্যাকে বলা হত দুহিতা(যে দুধ দোয়ায়)এমনকি অনেক দেবতাদের উৎপত্তি বৃষ থেকে দেখানো হয়েছে, তাদের(গোজাত)বলা হত।গুরুত্ব থাকার পরেও বৈদিক আর্যরা গোহত্যা করতো।দেবতাদের ছিল গোমাংসের প্রতি বিশেষ লোভ।দেবতা ইন্দ্রের গোভক্ষণ ভীষণ পছন্দ ছিল।ঋক মন্ত্রে বারবার ইন্দ্রকে গরু ভক্ষণ করতে বলা হয়েছে।
    🔲[ঋকবেদ সংহিতা,শ্রীরমেশ চন্দ্র অনুদিত খন্ড-86,স্লোক-10,মন্ত্র-13]-বলছে-[वृषा॑कपायि॒ रेव॑ति॒ सुपु॑त्र॒ आदु॒ सुस्नु॑षे।घस॑त्त॒ इन्द्र॑ उ॒क्षणः॑ प्रि॒यं का॑चित्क॒रं ह॒विर्विश्व॑स्मा॒दिन्द्र॒ उत्त॑र॥१०.०८६.१३]
    “হে বৃষাকপিবনিতে! তুমি ধনশালিনী ও উৎকৃষ্ট পুত্রযুক্তা এবং আমার সুন্দরী পুত্রবধূ।তোমার বৃষদিগকে ইন্দ্র ভক্ষণ করুন,তোমার অতি চমৎকার,অতি সুখকর হোমদ্রব্য তিনি ভক্ষণ করুন।ইন্দ্র সকলের শ্রেষ্ঠ।”)
    🔲[ঋকবেদ সংহিতা খন্ড-27,স্লোক-10,মন্ত্র-2]
    यदीद॒हं यु॒धये॑ सं॒नया॒न्यदे॑वयून्त॒न्वा॒३॒॑ शूशु॑जानान् ।
    अ॒मा ते॒ तुम्रं॑ वृष॒भं प॑चानि ती॒व्रं सु॒तं प॑ञ्चद॒शं नि षि॑ञ्चम् ॥ १०.०२७.०२]“ঋষি বলিতেছেন যে সকল ব্যক্তি দৈব কর্মের অনুষ্ঠান না করে এবং কেবল তাহাঁদিগের নিজের উদর পূরণ করিয়া স্ফীত হইয়া ওঠে, আমি যখন তাহাঁদিগের সঙ্গে যুদ্ধ করিতে যাই, তখন,হে ইন্দ্র!তোমার নিমিত্ত পুরোহিতদিগের সহিত একত্র স্থূলকায় বৃষকে পাক করি এবং পঞ্চদশ তিথির প্রত্যেক তিথিতে সোমরস প্রস্তুত করিয়া থাকি।”
    🔲[ঋকবেদ সংহিতা খন্ড-28,স্লোক-10,মন্ত্র-3]
    अद्रि॑णा ते म॒न्दिन॑ इन्द्र॒ तूया॑न्सु॒न्वन्ति॒ सोमा॒न्पिब॑सि॒ त्वमे॑षाम् ।पच॑न्ति ते वृष॒भाँ अत्सि॒ तेषां॑ पृ॒क्षेण॒ यन्म॑घवन्हू॒यमा॑नः॥ १०.०२८.०३]
    ” হে ইন্দ্র!যখন অন্ন কামনাতে তোমার উদ্দেশ্যে হোম করা হয়,তখন তাহারা শীঘ্র শীঘ্র প্রস্তর ফলক সহযোগে মাদকতাশক্তিযুক্ত সোমরস প্রস্তুত করে,তুমি তাহা পান কর।তাহারা বৃষভ সমূহ পাক করে,তুমি তাহা ভোজন কর।ইন্দ্র নিজেও তার জন্য ১৫ অথবা ২০টি বৃষ পাক করে দেওয়ার জন্য বলেছেন।এইসব বৃষ খেয়ে ইন্দ্র তার শরীরকে স্থূল করতে চান, উদরকে পূর্ণ করতে চান-
    🔲 [ঋকবেদ সংহিতা,শ্রী রমেশচন্দ্র অনুদিত খন্ড-৮৬,স্লোক-১০,মন্ত্র-১৪]-उ॒क्ष्णो हि मे॒ पञ्च॑दश सा॒कं पच॑न्ति विंश॒तिम् । उ॒ताहम॑द्मि॒ पीव॒ इदु॒भा कु॒क्षी पृ॑णन्ति मे॒ विश्व॑स्मा॒दिन्द्र॒ उत्त॑रः॥ १०.०८६.१४ ]
    ইন্দ্র সয়ং বলছেন “আমার জন্য পঞ্চদশ এমন কি বিংশ বৃষ পাক করিয়া দেয়।আমি খাইয়া শরীরের স্থূলতা সম্পাদন করি,আমার উদরের দু’পার্শ্ব পূর্ণ হয়,ইন্দ্র সকলের শ্রেষ্ঠ”

    ২য় অংশ
    🔲 ঋকবেদ সংহিতা খন্ড-৩৯ ,স্লোক-৬,মন্ত-১,
    প্রার্থনা করা হয়ঃ-
    मन्द्रस्य कवेर्दिव्यस्य वह्नेर्विप्रमन्मनो वचनस्य मध्वः| 
    अपा नस्तस्य सचनस्य देवेषो युवस्व गर्णते गोग्राः||
    “ হে ইন্দ্র!তুমি আমাদিগের সেই সোমরস পান কর।ইহা মদকর,বিক্রান্ত,স্বর্গীয়,প্রাজ্ঞসম্মত, ফলোপধায়ক,সুপ্রসিদ্ধ ও সেবনীয়।হে দেব, তুমি আমাদিগকে গো প্রমুখ অন্ন দান কর।”
    🔲 অগ্নির উদ্দেশ্যে ঋকবেদ সংহিতা ৬/১৬/৪৭ এ বলা হয়েছেঃ-आ ते॑ अग्न ऋ॒चा ह॒विर्हृ॒दा त॒ष्टं भ॑रामसि ।ते ते॑ भवन्तू॒क्षण॑ ऋष॒भासो॑ व॒शा उ॒त ॥ ६.०१६.४७“হে অগ্নি!আমরা তোমাকে হৃদয় দ্বারা সংস্কৃত ঋক রূপ হব্য প্রদান করিতেছি।বলশালী বৃষভ ও ধেনুগণ তোমার নিকট পূর্বোক্ত রূপ হব্য হউক।”
    🔲 ঋকবেদ সংহিতা১০/৭৯/৬ এ গরুকে খণ্ড খণ্ড করে কাটার কথা বলা আছে-[ किं देवेषु तयज एनश्चकर्थाग्ने पर्छामि नु तवामविद्वान|अक्रीळन करीळन हरिरत्तवे.अदन वि पर्वशश्चकर्त गामिवासि।।]
    “ হে অগ্নি!তুমি কি দেবতাদের মধ্যে কোন অপরাধ পাইয়া ক্রোধ ধারণ করিয়াছ?আমি জানি না,এজন্য তোমাকে একথা জিজ্ঞাসা করিতেছি?যেমন খড়্গ দ্বারা গাভীকে খণ্ড খণ্ড করে ছেদন করে সেরূপ তুমি ক্রীড়া কর আর না কর,তুমি উজ্জ্বল হইয়া তোমার আহারীয়দ্রব্য ভোজনকালে পর্বে পর্বে কর্তন কর।“
    🔲 ঋকবেদ সংহিতা ১০/১৬/৭ মৃতের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় মৃতকে গোচর্ম দ্বারা ঢেকে দেওয়া হত-[ अ॒ग्नेर्वर्म॒ परि॒ गोभि॑र्व्ययस्व॒ सं प्रोर्णु॑ष्व॒ पीव॑सा॒ मेद॑सा च ।नेत्त्वा॑ धृ॒ष्णुर्हर॑सा॒ जर्हृ॑षाणो द॒धृग्वि॑ध॒क्ष्यन्प॑र्य॒ङ्खया॑ते ॥ १०.०१६.०७]
    “ হে মৃত!তুমি গোচর্মের সাথে অগ্নি শিখা স্বরূপ কবচ ধারণ কর,তোমার প্রচুর মেদের দ্বারা তুমি আচ্ছাদিত হও,তাহলে এ যে দুর্ধর্ষ অগ্নি,যিনি বলপূর্বক ও অহংকারের সাথে তোমাকে দগ্ধ করতে উদ্যত হয়েছেন,তিনি একেবারে তোমার সর্বাংশে ব্যপ্ত হতে পারবেন না।“🔲 অসংখ্য গোহত্যা করা হত তাই গোহত্যার জন্য নির্দিষ্ট স্থান ছিল।তাই ঋকবেদ সংহিতা ১০/৮৯/১৪ এ বলা হয়েছে-[ कर्हि॑ स्वि॒त्सा त॑ इन्द्र चे॒त्यास॑द॒घस्य॒ यद्भि॒नदो॒ रक्ष॒ एष॑त्।मि॒त्र॒क्रुवो॒ यच्छस॑ने॒ न गावः॑ पृथि॒व्या आ॒पृग॑मु॒या शय॑न्ते॥ १०.०८९.१४ ] ” হে ইন্দ্র!যে অস্ত্র ক্ষেপন করিয়া পাপাত্মা রাক্ষসকে বিদীর্ণ করিলে,তোমার সেই নিক্ষেপ যোগ্য অস্ত্র কোথায় রহিল?যেরূপ গোহত্যাস্থানে গাভীগণ হত হয়,তদ্রুপ তোমার ওই অস্ত্র দ্বারা নিহত হইয়া বন্ধুদ্বেষী রাক্ষসগণ পৃথিবীতে পতিত হইয়া শয়ণ করে।”🔲 [ অথর্ব বেদেও বলছে ১৮/২/৬/৮ অনুবাদক-বিজন বিহারী গোস্বামী ] -মৃতের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় (গোচামড়া) ব্যবহার করা হতঃ-[ অগ্নের্বর্ম পরি গোভির্ব্যয়স্ব সংস প্রোর্ণুষ্ব নেদিসা অঊভিস্ত চ।নেৎ ত্বা ধৃষ্ণুর্হরসা হির্হৃষাণো দধৃগ্ বিধক্ষন্ পরীঙ্খায়াতৈ।।”হে প্রেত,তুমি গাভীর অবয়বের দ্বারা দাহক অগ্নির আচ্ছাদক বর্মধারণ কর মেদ ও অন্যান্য স্থূল অঙ্গ দ্বারা নিজেকে আচ্ছন্ন কর, তা না হলে ধর্ষক স্বতেজে রসহরণশীল অগ্নি তোমাকে দাহ করবার জন্য ফেলে দেবে।
    🔲 বেদের সংহিতা অংশের পরে ব্রাহ্মণ অংশ রচিত হয়।বিভিন্ন ব্রাহ্মণ গ্রন্থেও গোহত্যা ও গোমাংস ভক্ষণের কথা পাওয়া যায়।[ ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ১/৩/৪ অনুবাদক-রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী ]-রাজা অথবা অন্য কোনো সম্মানীয় ব্যক্তি উপস্থিত হলে বৃষ অথবা বৃদ্ধা গাভী হত্যা করার কথা বলা হয়েছে-“যেমন নররাজ অথবা অন্য পূজ্য ব্যক্তি উপস্থিত হইলে বৃষ অথবা বেহৎ(গর্ভনাশিনী বৃদ্ধা গাভী)হত্যা করে,সেইরূপ অগ্নির যে মন্থন হয়,তাহাতেই সোমের উদ্দেশ্যে অগ্নির হত্যা করা হয়,কেননা অগ্নিই দেবগণের পশু।“
    ৩য় অংশ
    🔲 [ ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ৪/১৮/৮ অনুবাদক- রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী ]-এ বৃষকে হত্যা করার কথা বলা আছেঃ-“মহাব্রত দিনে সবনীয় পশুর স্থানে বিশ্বকর্মার উদ্দিষ্ট উভয় পার্শ্বে উভয় বর্ণ যুক্ত বৃষভ আলম্ভনযোগ্য।অতএব (ঐ দিনে) উহারই আলম্ভন করিবে।“
    🔲 [ শতপথ ব্রাহ্মণে ১/১/৪ অনুবাদক-শ্রী বিধূশেখর ভট্টাচার্য ]-একটি উপাখ্যান বর্ণিত হয়েছে।এখানে অসুরেরা মনুর বৃষকে হত্যা করার জন্য মনুর অনুমতি চাইলে তিনি কোনো আপত্তি করেন না এবং সেই বৃষটিকে হত্যা করা হয়-“মনুর একটি ঋষভ( বৃষ )ছিল।ঐ ঋষভে অসুর ও শত্রুগণের হননকারী শব্দ (বাক) প্রবেশ করে।তাহার শ্বাস ও শব্দে পীড়িত হইয়া অসুর ও রক্ষোগণ চলিয়া গিয়াছিল।অনন্তর তাহারা এই আলাপ করে-‘হায়!এই ঋষভ আমাদের পাপ(পরাজয়)সম্পাদন করিতেছে; কি করিয়া আমরা ইহাকে বিনাশ করিব! কিলাত ও আকুলি নামে অসুর গণের দুই পুরোহিত ছিলেন।তাহারা উভয়ে বলিলেন-‘মনু শ্রদ্ধাদেব(অত্যন্ত শ্রদ্ধালু-সহজে অন্যের কথায় বিশ্বাস করেন)আমরা ইহার অভিপ্রায় জানিব।তাহারা আগমন করিয়া তাহাকে বলিলেন-‘হে মনু!আমরা আপনার যাগ করিব!কাহার দ্বারা?এই ঋষভের দ্বারা।মনু-‘তাহাই হউক’ বলিলে তাহারা সেই ঋষভকে বধ করায় ঐ শব্দ(বাক) অপগত হইল। “
    ☑️ [ শতপথ ব্রাহ্মণ ৩/১/২/২১অনুবাদক-শ্রী বিধূশেখর ভট্টাচার্য ]-গাভী ও ষাঁড়ের মাংস খেতে অনেক বারণ করা হয়েছে।কিন্তু তারপরেই বিখ্যাত(যাজ্ঞবল্ক্যের)কথা বলা হয়েছে।যাজ্ঞবল্ক্য বলেছেন,গোমাংস নরম হলে তিনি তা খান-“তারপর তিনি(অধ্বর্যু)তাকে শালায় নিয়ে যান।সে গরু বা ষাঁড়ের মাংস না খাক কারণ”গো”পৃথিবীর সব কিছুকে ধারণ করে থাকে।দেবতারা বললেন‘ সত্যই,গাভী ও ষাঁড় এখানে সবকিছুকে ধারণ করে,এসো অন্য প্রজাতির যত বীর্য(পরাক্রম)তা গাভী ও ষাঁড়কে প্রদান করি।সেইমতো তারা অন্য প্রজাতিদের যত বীর্য ছিল তা গাভী ও ষাঁড়কে প্রদান করেন। এজন্য গাভী এবং ষাঁড় সবচাইতে বেশি ভোজন করে।তাই গাভি বা ষাঁড়ের মাংস খেলে সবই খাওয়া হয়।সর্বনাশী গতিযুক্ত সে বিচিত্র যোনিতে জন্মগ্রহণ করবে।মানুষেরা বলবে সে মায়ের গর্ভ নষ্ট করেছে,পাপ করেছে।সে গাভী এবং ষাঁড়ের মাংস না খাক।তবুও যাজ্ঞবল্ক্য বলেছেন-“আমি তো খাই যদি তা নরম (অংশল) হয়’।“😀😀😀
    🔲 [ বৃহদারণ্যক উপনিষদ ৬/৪/১৮ অনুবাদ কালে অনুবাদক সীতানাথ তত্ত্বভূষণ মন্তব্য করেছেন ]-“বৈদিক যুগে গোমাংস ভক্ষণ নিষিদ্ধ ছিল না।এই মন্ত্রে গোমাংস ভোজনের ব্যবস্থা দেওয়া হইয়াছে।এখানে বলা যাইতে পারে যে শতপথ ব্রাহ্মণে (৩/১/২/২১) গোমাংস ভোজন নিষেধ করা হইয়াছে কিন্তু নিষেধ করিয়াও সেখানে বলা হইয়াছে[“হ উবাচ যাজ্ঞবল্কঃ অশ্নামি এব অহম্ অংসলং চেৎ ভবতি”]-অর্থাৎ (যাজ্ঞবল্ক্য)বলেন(এই মাংস) যদি অংসল অর্থাৎ কোমল হয়,তাহা হইলে আমি ভোজনই করি’(৩/১/২/২১) এস্থলে অনড্বান্(অর্থাৎ বলদ)এবং ধেনুর মাংসের কথা হইয়াছে।“
    ৪র্থ অংশ
    🔲 [ গোপথ ব্রাহ্মণ,পূর্ব ভাগ,৩য় প্রপাঠক,১৭ অনুবাদক-অধ্যাপক তারকনাথ অধিকারী, রামকৃষ্ণ মিশন ইন্সটিটিউট অব কালচার ]
    “গো” দ্বারা যজ্ঞ করার কথা বলা হয়েছে-“কারব নামক ঋষিরা ছিলেন অল্পবিত্ত।তারা এই অগ্নিষ্টোমকে একগু(অর্থাৎ ১গাভী দান দ্বারা সম্পন্ন)রূপে দেখলেন।তারা(একটি গরু) আহরণ করেছিলেন।তার দ্বারাই যজ্ঞ করেছিলেন।তারা স্বর্গগমন করেছিলেন। অতএব যিনি ইচ্ছা করেন-আমি স্বর্গে যাবো, তিনি একগু অগ্নিষ্টোম যাগ করবেন একথাই ব্রাহ্মণ বলছেন।“[গোপথ ব্রাহ্মণ,পূর্ব ভাগ,৩য় প্রপাঠক,১৮]-তে গরুর নানা অংশ কিভাবে ভাগ করা হবে তার বিষদ বিবরণ দেওয়া হয়েছেঃ-“ অতঃপর সেজন্যে আমরা সবনীয় পশুর বিভাজন ব্যাখ্যা করবো।পশুর অংশসমূহ গ্রহণ করার পর”সজিহ্ব হনূদ্বয় হল প্রস্তোতার/সকাকুদ্র কণ্ঠ হল প্রতিহর্তার/শ্যেন-বক্ষ পাবেন উদগাতা/দক্ষিণ পাঁজর সন্ধসহ হল অধ্বর্যুর/বাদিকটা হল উদ্গাতার/বামস্কন্ধ প্রতিপ্রস্থাতার/অথ্যাস্ত্রীসহ দক্ষিণনিতম্ব হল ব্রহ্মার/ডানদিকের নীচের জানু ব্রহ্মাচ্ছংসীর/ডান উরু পোতার/বামনিতম্ব হোতার/বাম দিকের নীচের জানু মৈত্রাবরুণের/বাম উরু আচ্ছাবকের/ডানবাহু নেষ্টার/বামবাহু সদস্যের/গৃহপতির হল মেরুদণ্ড ও অনূক/মূত্রথলি/পত্নীর ভাগ হল জঘন সেটি তিনি অন্য ব্রাহ্মণকে দিয়ে দেবেন/অগ্নীধ্রর হল মলাশয়, হৃৎপিণ্ড,বৃক্কদ্বয়(কিডনিদ্বয়)/অঙ্গুলিসমূহ ও দক্ষিণ বাহু/বামবাহু হল আত্রেয়ের/দুটি ডানপদদ্বয় হল গৃহপতির ব্রতপদের অর্থাৎ যিনি ব্রতান্তে গৃহপতিকে ভোজন করান/বামপদদ্বয় হল গৃহপত্নীর ব্রতুইদার/তাদের দুজনেরই ওষ্ঠ তাকে গৃহপতি অন্যদের মধ্যে ভাগ করে দেবেন/ঘাড়ের মাংসল অংশ ও তিনটি পাঁজর হাড় পাবেন গ্রাবস্তুৎ/বামদিকের অপর তিনটি পাঁজরহাড় ও উপস্থের অর্ধেক পাবেন উন্নেতা/এর উপরের অংশ পাবেন চমসধারী অধ্বর্যুরা/শাময়িতার অর্থাৎ ঘাতকের অংশ হল ফুসফুস/সুব্রহ্মণ্যের অংশ হল শির/যিনি পরের দিন সূত্যাসময়ে আহ্বান করবেন তার অংশ হল চামড়া/এভাবে ৩৬ ভাগ সম্পন্ন হয়।গরু হল ছত্রিশভাগযুক্ত।বৃহতী ছন্দ ৩৬ অক্ষরবিশিষ্ট।বৃহতীর(আশ্রয়) হল স্বর্গলোক।বৃহতীছন্দে দেবতারা স্বর্গে যাগ করেন।বৃহতীর দ্বারা তার স্বর্গলোকে প্রতিষ্ঠিত হন।যে এভাবে বিভাগ করে সে সন্তান ও পশু লাভ করে।আর যে জনেরা এর বিরুদ্ধ আচরণকারী/পাপানুষ্ঠানকারী/হুত-হবিঃ ভক্ষণকারী অথবা অন্যজনেরা যারা বিমথনকারী তাদের পশু বিমথিত হয় ফলে তাদের স্বর্গলাভ করা হয় না।দেবভাগ শ্রুত-ঋষি এই পশুবিভাজন করেছিলেন।তিনি এই বিভাগ বভ্রুবংশজ ঋষি গিরিজকে শিখিয়েছিলেন।গিরিজ আবার অন্য মানুষদের বলেছিলেন।সেই থেকে”গো”বিভাজন মানুষদের মধ্যে প্রচলিত হল।এই কথা ব্রাহ্মণ বলছেন।“
    বেদের ব্রাহ্মণ ভাগের পরে উপনিষদ রচিত হয়। উপনিষদেও গোমাংস খাওয়ার বিধান পাওয়া যায়।বৃহদারণ্যক উপনিষদে পণ্ডিত পুত্র জন্ম দেওয়ার জন্য স্বামী স্ত্রীকে বৃষের মাংস খেতে বলা হয়েছে-[ বৃহদারণ্যক উপনিষদ ৬/৪/১৮ অনুবাদক-সীতানাথ তত্ত্বভূষণ ]
    “অথ য ইচ্ছেৎ পুত্রো মে পন্ডিতো বিগীতঃ সমিতিংগমঃ শুশ্রূষিতাং বাচং ভাষিতা জায়েত সর্বান্বেদাননুব্রুবীত সর্বমায়ুরিয়াদিতি মাংসৌদনং পাচয়িত্বা সর্পিষ্মন্তমশ্নীয়াতামীশ্বরৌ জনয়িতবা ঔক্ষেণ বার্ষভেণ বা।।
    অর্থাৎ,যে চায়-আমার এমন এক পুত্র হউক যে পন্ডিত, প্রখ্যাত, সভাসদ ও সুভাষ হইবে,সর্ববেদ অধ্যয়ণ করিবে এবং পূর্ণায়ু হইবে-তবে তাহারা স্বামী স্ত্রী উভয়ে মাংসমিশ্রিত অন্ন রন্ধন করিয়া তাহাতে ঘি মিশাইয়া খাইবে।এই মাংস তরুণ বা বয়স্ক বৃষের হইলে(তাহারা ঐ রকম সন্তান)জন্ম দিতে পারিবে। শঙ্করাচার্য বৃহদারণ্যক উপনিষদের ভাষ্যে লিখেছেন-Verse 6.4.18:॥अथ य इच्छेत्पुत्रो मे पण्डितो विगीतः समितिंगमः शुश्रूषितां वाचं भाषिता जायेत, सर्वान्वेदाननुब्रुवीत, सर्वमायुरियादिति, मांसौदनं पाचयित्वा सर्पिष्मन्तमश्नीयाताम्; ईश्वरौ जनयितवै—अउक्शेण वार्षभेण वा ॥ [ স্বামী মাধবানন্দ অনুবাদ করেছেন ]-যে ব্যক্তি এই কামনা করে যে তাঁর কাছে একজন পুত্র সন্তানের জন্ম হবে যিনি একজন নামী পণ্ডিত হবেন,মজলিসে ঘন ঘন এবং আনন্দময় কথা বার্তা বলবেন, সমস্ত বেদ অধ্যয়ন করবেন এবং একটি পূর্ণকালীন জীবনকাল অর্জন করবেন, তাঁর উচিত একটি শক্তিশালী ষাঁড়ের মাংসের সাথে ভাত রান্না করা উচিত।তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর এটিকে পরিষ্কার মাখন দিয়ে খাওয়া উচিত ।তাহলে তারা এরুপ পুত্র জন্ম দিতে সক্ষম হবে।
    🔳 ( মহাভারত) মহিয়ষী দেবব্যাস বিরচিত শ্রী কালিপ্রসন্ন সিংহ অনুদিত,অধ্যায় ৮৮,২য় খন্ডের ১১৭০ নং পৃষ্ঠাঃ-” পিতৃপুরুষ কে সন্তুষ্ট করার জন্য পাখির মাংস প্রদান করলে ৭ মাস বৃষত নমক পাখির মাংস প্রদান করলে ৮ মাস, রুরুমৃগের মাংস প্রদান করলে ৯ মাস, গগয়েবের মাংস প্রদান করলে ১০ মাস
    মহিষের মাংস প্রদান করলে ১১ মাস এবং গোমাংস প্রদান করলে ১ বৎসর তৃপ্ত লাভ হইয়া থাকেন।( মহাভারত) ছাড়াও পৌরানিক কাব্য
    🔳 ( বিষ্ণুপুরাণ ) অাচার্য পঞ্চনন তর্করত্নের নবভারত পাবলিশার্স (কোলকাতা-৭০০০০৯ ৭২-ডি মহাত্মা গান্ধী রোড) এই বইয়ের ২২৯ নং পৃষ্ঠা তৃতীয় অংশের ১৬ তম অধ্যায় মন্ত্র নং-( ১ থেকে ৩ ) শ্রদ্ধার ব্রাহ্মণদিগকে মেষ মাংস প্রদান করলে ১১ মাস ও গোমাংস প্রদান করিলে ১ বৎসর পিতৃলোক সন্তুষ্ট থাকেন। (মহাভারত),(বিষ্ণুপুরাণ) ছাড়াও
    🔳 (কালিকাপুরাণ) অাচার্য পঞ্চনন তর্করত্নের নবভারত পাবলিশার্স (কোলকাতা-৭০০০০৯ ৭২-ডি মহাত্মা গান্ধী রোড) ৬৭ নং অধ্যায়ে ১ থেকে ৪ নং শ্লোকে একই কথা লেখা অাছে! বলিদান বিধি( ভগবান বচ্যু )মানে ভগবানের কথা,শ্লোক (৮ ও ৯) মেষ মাংস প্রদান করলে ১১ মাস,গোমাংস প্রদান করলে ১ বৎসর পিতৃলোক সন্তুষ্ট থাকে।

    😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆

    1. অনেক গবেষণা করেছেন। গরু খাওয়ার পক্ষেও হিন্দু ধর্মগ্রন্থগুলোতে অনেক শ্লোক আছে। সযতনে সেসব বাদ দিয়েছেন। অন্য ধর্ম সম্পর্কে লিখতে গিয়ে সবাই এটাই করে থাকে।

      1. আপনার কমেন্টের বিষয়বস্তু বুঝলাম না । আমরা তো এখানে এটাই প্রামণ করার চেষ্টা করেছি যে গরু খাওয়ার পক্ষেও হিন্দু ধর্মগ্রন্থগুলোতে অনেক শ্লোক আছে । আপনিও তো সেটাই বললেন । তাহলে সযতনে বাদ দিলাম কি আমরা ? মনে হচ্ছে আপনার টাইপিং mistake হয়েছে । আর না হয় , সম্পূর্ণ না পড়েই কমেন্ট করেছেন ।

        1. শাবাশ ! হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে অনেক জ্ঞান লাভ করার জন্য। এত বৈচিত্র আর কোথায় পাবেন?

    2. Avatar নবীজী প্রথমে যে মেয়ের শশুর ছিলেন, পরে আবার তার স্বামী হলেন।এব্যাপারে আপনার লেখা চাই। says:

      নবীজী

  4. নবীজী প্রথমে যে মেয়ের শশুর ছিলেন, পরে আবার তার স্বামী হলেন।এব্যাপারে আপনার লেখা চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *