হেযবুত তাওহীদের এর ভুল ভ্রান্তি বা মিথ্যাচার , ব্যাখ্যা ও দলিল বা রেফারেন্স সহ

হেযবুত তাওহীদের পীর মুরিদ ভন্ড ভুল ভ্রান্তি তাবিজ মাজার কবর জিয়ারত জাল জাহান্নাম শিরক আকিদা চরমোনাই মাইজ ভান্ডার দরবার আটরশি বাবা দেওয়ান বাগি মিথ্যাচার ঈমান আমল জাহান্নাম কাফের ওসীলা সাবধান সতর্ক
হেযবুত তাওহীদের এর ভুল ভ্রান্তি বা মিথ্যাচার , ব্যাখ্যা ও দলিল বা রেফারেন্স সহ

এটি নামধারী একটি ইসলামিক দল হলেও মূলত এটি ইসলাম ধ্বংশ করার গোপন ষড়যন্ত্র।
সম্রাট আকবর যেমন সব ধর্ম মিলিয়ে “দ্বীনে এলাহী” নামক একটি ধর্মের গোড়াপত্তন করেছিল, ঠিক তেমনি বায়েজিদ খান পন্নীও সম্রাট আকবর প্রতিষ্ঠিত “দ্বীনে এলাহী” নামক ধর্মের মতই “হেযবুত তওহীদ” নামক এ নতুন ধর্মটি আবিস্কার করেন।
খুব অল্প সময়ে উদ্ভট সব থিউরী দিয়ে বেশ কিছু ভক্ত যুগিয়ে ফেলেন পন্নী সাহেব।ইসলামের মৌলিক বিধানাবলীর নতুন সব অপব্যাখ্যা করে পুরো দ্বীনটাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে রাখার দুষ্কর্ম তিনি আমরণ করে যান।

হেযবুত তাওহীদের এর ভুল ভ্রান্তি বা মিথ্যাচার , ব্যাখ্যা ও দলিল বা রেফারেন্স সহ নিন্মরূপ ঃ

1) বর্তমানের ইসলাম প্রকৃত ইসলাম নয়!

হিযবুত তাওহীদের বক্তব্যঃ
বর্তমান অমরা যে ধর্মটিকে এসলাম হিসেবে দেখছি,যেটাকে ধর্মপ্রাণ মানুষ অতি যত্ন সহকারে পালন করার চেষ্টা কোরছেন, যে এসলামটাকে সর্বত্র স্কুল,কলেজ মাদ্রাসায় ও পীরের খানকায় শেখানো হোচ্ছে সেটা প্রকৃত এসলাম নয়”।(সূত্রঃ এসলাম শুধু নাম থাকবে- পৃঃ ৯)
“যাত্রাদলের বন্দুকের সঙ্গে আসল বন্দুকের যতটা পার্থক্য, প্রকৃত এসলামের সঙ্গে বর্তমান এসলামের ততটাই পার্থক্য। এদু’টির চলার পথ সম্পূর্ণ বিপরীত”।(সূত্রঃ এসলাম শুধু নাম থাকবে- পৃঃ ৯)
হাদীসের বক্তব্যঃ আল্লাহ পাকের মনোনিত দ্বীন ইসলামের হেফাযত তিনি নিজেই করবেন।
যেদিন ইসলাম এবং মুসলিম থাকবে না সেদিন কেয়ামত সংগঠিত হয়ে যাবে।

⏹عن أنس بن مالك رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى لَا يُقَالَ فِي الْأَرْضِ اللَّهُ الله
অর্থাৎ আনাস রাঃ থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সঃ বলেন- যেদিন দুনিয়াতে কোনো আল্লাহ আল্লাহ বলনেওয়ালা মুমিন থাকবে না সেদিন কেয়ামত সংগঠিত হয়ে যাবে।(সহীহ মুসলিম হাদিস নং- ১৪৮;তিরমিযি হাদিস-২২০৭)

⏹عَنْ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ لَا يَجْمَعُ أُمَّتِي عَلَى ضَلَالَةٍ ، وَيَدُ اللَّهِ مَعَ الْجَمَاعَةِ
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাঃ বলেন রাসুলুল্লাহ সঃ বলেছেন আমার সকল উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা কখনও ভ্রান্ত (বিকৃত) বিষয়ের উপর ঐক্য করবেন না।
(তিরমিযি হাদিস-২১৬৭;আবু দাউদ হাদিস-৪২৫৩)

⏹عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ لاَ تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي ظَاهِرِينَ عَلَى الْحَقِّ لاَ يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ وَهُمْ كَذَلِكَ
সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের একটি দল সর্বদাই হকের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। তাঁদের সঙ্গ ত্যাগ করে কেউ তাদের কোন অনিষ্ট করতে পারবে না। এমন কি এভাবে আল্লাহর আদেশ অর্থাৎ কিয়ামত এসে পড়বে আর তারা যেমনটি ছিল তেমনটই থাকবে। (সহীহ মুসলিম-ইঃফা,হাদীস নং-৪৭৯৭)
সুতরাং হাদীসের ভাষ্য হচ্ছে উম্মতের একটি দল সবসময় হক্বের উপর থাকবে ।যদি ইসলাম বিকৃত হয়ে যায় তাহলে এ হাদীসকে ভুল বলতে হয়(নাউযুবিল্লাহ)

2) কবিরা গুনাহের হিসাব দেয়া নাকি লাগবে না!

হেযবুত তাওহীদের বক্তব্যঃ

তাওহীদে যিনি অবিচল তার মহাপাপও(গুনাহে কবীরা) হিসাবে ধরা হবে না।
( “আকিদা” পৃষ্ঠা- ৭)

উক্ত কথা সরাসরি আল্লাহর কুরআন এবং নবি সল্লল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদিস বিরোধী কথা।
যদি কথাটি কেউ বিশ্বাস করে তাহলে এক সেকেন্ডের জন্য ঈমান থাকবে না।
উপরন্তু কথাটি সত্য হলে মানুষ আর গুনাহকে গুনাহ মনে করবে না।
এ দেশের ভন্ডপীররা যেভাবে মারেফতের দোহায় দিয়ে সব হারামকে এখন হালাল বুঝে প্রকাশ্যে গুনাহ করে চলেছে এরাও সেই একই পথের পথিক।

◾কবিরা গুনাহের জন্য অবশ্যই হিসেব দিতে হবে।
প্রমাণ-১
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ
অর্থাৎ এবং কেউ অনু পরিমান অসৎ কর্ম করলে তাও (আমলনামায় ) দেখতে পাবে”।
(সুরা যিলযাল আয়াত-৮ )

অথচ পন্নী সাহেব কিভাবে বললো যে, তাওহীদে
অবিচল থাকলে মহাপাপও পাপ সিহেসেবে ধরা
হবেনা, তিনি তওবার কোন শর্তই দিলেননা।(নাউযুবিল্লাহ)
দলীল-২

عن عائشة أم المؤمنين قالت قال النبي صلي الله عليه وسلم يا عائشةُ إيَّاك ومحقِّراتِ الذُّنوبِ فإنَّ لها من اللهِ طالبًا
অর্থ. হে আয়েশা ছোট ছোট গোনাহ থেকেও বাচো
কেননা ওগুলোর ব্যপারেও আল্লাহ তায়ালার
পক্ষ থেকে জিজ্ঞাসিত হবে।
(আত-তারগিব ওয়াত তারতীব খঃ৩ পৃঃ২৮৯;
আল-মু’জামুল অাওসাত (তাবরানী) খঃ৪ পৃঃ১২৪ ; হিলইয়াতুল আওলিয়া খঃ৩ পৃঃ১৯৭;
ইবনে মাযাহ হাদিস-৪২৪৩; মুসনাদে অাহমাদ হাদিস-২৪৪৬০)
হাদিসের মানঃ
ইমাম মুনযিরি রঃ হাদিসটি সহিহ বলেছেন।
বিঃদ্রঃ
আয়েশা রাঃ কি তাওহীদে অবিচল ছিলেন না?? তাকে কেন ছোট ছোট গোনাহ থেকেও বাঁচতে বলেছেন? অথচ তিনি তাওহীদের উপর অবিচল ছিলেননা এ কথার তো প্রশ্নই ওঠেনা।
আপনারা কি সাহাবায়ে কেরামদের থেকেও বড় তাওহীদবাদী হয়ে গেলন??
যে সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) তারা জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েও নিজেদেরকে সবসময় গোনাহ মুক্ত রাখতেন। আর আপনারা এতবড় তাওহীদবাদী হলেন যে আপনারা তাওহীদে অবিচল থাকলে মহাপাপও
(গোনাহে কবীরা) হিসাবে ধরা হবেনা।
আল্লাহ তায়ালা আপনাদের হেদায়েত দান করুক এবং জাতিকে আপনাদের থেকে হেফাজত করুক


3) চলমান ইসলাম বিকৃত এটা হিন্দু বৌদ্ধ ধর্মের মত এটা আসল ইসলাম নয়!

জেহাদকে ছেড়ে মুসলিমরা ইসলাম পরিবর্তন করল।ঐ পরিবর্তনের ফলে এই সামরিক দ্বীন পৃথিবীর অন্যান্য অসামরিক দীনের পর্যায়ে পর্যবসিত হলো অর্থাৎ খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ,হিন্দু,ইহুদী জৈন ইত্যাদী বহু দীনের (ধর্মের) মতো আরেকটি ধর্মে পরিনত হলো।যেটার উদ্দেশ্য এবাদত।( ইসলামের প্রকৃত সালাহ-২০)

হাদীসের_বক্তব্যঃ
◾عَنْ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ لَا يَجْمَعُ أُمَّتِي عَلَى ضَلَالَةٍ ، وَيَدُ اللَّهِ مَعَ الْجَمَاعَةِ
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাঃ বলেন রাসুলুল্লাহ সঃ বলেছেন অামার সকল উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা কখনও ভ্রান্ত (বিকৃত) বিষয়ের উপর ঐক্য করবেন না।(তিরমিযি হাদিস-২১৬৭;আবু দাউদ হাদিস-৪২৫৩)

◾عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ لاَ تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي ظَاهِرِينَ عَلَى الْحَقِّ لاَ يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ وَهُمْ كَذَلِكَ
সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের একটি দল সর্বদাই হকের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে।তাঁদের সঙ্গ ত্যাগ করে কেউ তাদের কোন অনিষ্ট করতে পারবে না।এমন কি এভাবে আল্লাহর আদেশ অর্থাৎ কিয়ামত এসে পড়বে আর তারা যেমনটি ছিল তেমনটই থাকবে। (সহীহ মুসলিম-ইঃফা,হাদীস নং-৪৭৯৭)

◾قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ وَلاَ تَزَالُ عِصَابَةٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ يُقَاتِلُونَ عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِينَ عَلَى مَنْ نَاوَأَهُمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ যার মঙ্গল চান, তাকে দ্বীনের বুৎপত্তি (বুঝ) দিয়ে থাকেন এবং মুসলমানদের একটি দল সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে লড়াই করবে। যারা তাদের প্রতি বিরূপ ভাব পোষণ করবে তাদের বিরুদ্ধে থাকবে তারা তাদের উপর বিজয়ী থাকবে। কিয়ামত অবধি এভাবে চলতে থাকবে।(সহীহ মুসলিম-ইঃফা,হাদীস নং-৪৮০৩)

◾عن عمران بن حصين، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ لا تزال طائفة من امتي يقاتلون على الحق ظاهرين على من ناواهم حتى يقاتل اخرهم المسيح الدجال ‏”‏ ‏.‏

ইমরান ইবন হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মধ্যে একটি দলসর্বদা অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়কে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তাদের দুশমনের বিরুদ্ধেু যুদ্ধ করে তাদের উপর জয়ী হবে। অবশেষে তাদের শেষদলটি কুখ্যাত প্রতারক দাজ্জালের সাথে যুদ্ধ করবে।(সুনানে আবু দাউদ-ইঃফা-২৪৭৬)

◾عن عمران بن حصين، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ لا تزال طائفة من امتي يقاتلون على الحق ظاهرين على من ناواهم حتى يقاتل اخرهم المسيح الدجال ‏”‏ ‏.‏

জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ
কিয়ামত পর্যন্ত আমার উম্মাতের একদল হকের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে বাতিলের বিরুদ্ধে কিতাল করতে থাকবে এবং অবশেষে ঈসা (আলাইহিস সালাম) অবতরণ করবেন। মুসলমানদের আমীর বলবেনঃ আসুন, সালাতে আমাদের ইমামত করুন। তিনি উত্তর দিবেনঃ না, আপনাদেরই একজন অন্যদের জন্য ইমাম নিযুক্ত হবেন। এ হল আল্লাহর প্রদত্ত এ উম্মাতের সম্মান। (সহীহ মুসলিম, হাদিস নম্বরঃ ২৯২)

সুতরাং জিহাদ কখনও বন্ধ হয় নি।প্রত্যেক যুগেই মুজাহিদদের জামাত বিদ্যমান ছিল।

4) হেযবুত তওহীদের সকল সদস্যদের জন্য জান্নাত নিশ্চিত!

হেযবুত তাওহীদের বক্তব্যঃ
“হেযবুত তওহীদে যারা সত্যিকার ভাবে এসেছ তাদের জন্য জান্নাত তো নিশ্চিত। এইখানেও যেন কারো মনে কোন সন্দেহ না থাকে যে জান্নাত নিশ্চিত”।(আল্লাহর মোজেজা হেযবুত তওহীদের বিজয় ঘোষণা পৃঃ৬৩)
পর্যালোচনাঃ
যেখানে নবী মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত ওহী আসা ব্যতিত কারো ব্যাপারে জান্নাতের সার্টিফিকেট দেননি, সেখানে পন্নী সাহেব দাবী করে বসলেন যে, হেযবুত তওহীদের সকল সদস্যদের জন্য জান্নাত নিশ্চিত!!
কাউকে জান্নাতী বা জাহান্নামী বলা একমাত্র তার দ্বারাই সম্ভব যার নিকট ওহী আসে। রাসূলুল্লাহ সল্লল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহীর ভিত্তিতেই সাহাবায়ে কেরামকে সুসংবাদ দিয়েছেন।পন্নী সাহেবের এমন উক্তির ভিত্তি কি?
কাউকে নিশ্চিতরূপে জান্নাতী/জাহান্নামী বলা নিষেধ।

◾قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ-: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «كَانَ رَجُلَانِ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ مُتَوَاخِيَيْنِ، فَكَانَ أَحَدُهُمَا يُذْنِبُ وَالْآخَرُ مُجْتَهِدٌ فِي الْعِبَادَةِ، فَكَانَ لَا يَزَالُ الْمُجْتَهِدُ يَرَى الْآخَرَ عَلَى الذَّنْبِ فَيَقُولُ أَقْصِرْ فَوَجَدَهُ يَوْمًا عَلَى ذَنْبٍ، فَقَالَ لَهُ: أَقْصِرْ. فَقَالَ: خَلِّنِي وَرَبِّي أَبُعِثْتَ عَلَيَّ رَقِيبًا؟ فَقَالَ: وَاللَّهِ لَا يَغْفِرُ اللَّهُ لَكَ أَوْ لَا يُدْخِلُكَ اللَّهُ الْجَنَّةَ، فَقَبَضَ أَرْوَاحَهُمَا فَاجْتَمَعَا، عِنْدَ رَبِّ الْعَالَمِينَ، فَقَالَ لِهَذَا الْمُجْتَهِدِ: أَكُنْتَ بِي عَالِمًا؟ أَوْ كُنْتَ عَلَى مَا فِي يَدِي قَادِرًا، وَقَالَ لِلْمُذْنِبِ: اذْهَبْ فَادْخُلْ الْجَنَّةَ بِرَحْمَتِي، وَقَالَ لِلْآخَرِ: اذْهَبُوا بِهِ إِلَى النَّارِ؟ ».
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “বনি ইসরাইলে দুই বন্ধু ছিল। তাদের একজন পাপ করত, দ্বিতীয়জন খুব ইবাদত গুজার ছিল। ইবাদত গুজার তার বন্ধুকে সর্বদা পাপে লিপ্ত দেখত, তাই সে বলত বিরত হও, একদিন সে তাকে কোন পাপে লিপ্ত দেখে বলে: বিরত হও। সে বলল: আমাকে ও আমার রবকে থাকতে দাও, তোমাকে কি আমার ওপর পর্যবেক্ষক করে পাঠানো হয়েছে? ফলে সে বলল: আল্লাহর কসম আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করবেন না, অথবা তোমাকে আল্লাহ জান্নাতে প্রবেশ করাবেন না। অতঃপর তাদের উভয়ের রূহ কবজ করা হল এবং তারা উভয়ে আল্লাহর দরবারে একত্র হল। তিনি ইবাদত গুজারকে বলেন: তুমি কি আমার ব্যাপারে অবগত ছিলে? অথবা আমার হাতে যা রয়েছে তার ওপর তুমি ক্ষমতাবান ছিলে? আর পাপীকে তিনি বলেন: যাও আমার রহমতে তুমি জান্নাতে প্রবেশ কর। আর অপর ব্যক্তির জন্য বলেন: তাকে নিয়ে জাহান্নামে যাও ?
[আবু দাউদ] হাদিসটি হাসান।

5)  নাচ গান ভাষ্কর্য নির্মাণ বাদ্যযন্ত্র চিত্রাঙ্কন ইত্যাদি হালাল!

হেযবুত তাওহীদের বক্তব্যঃ
যে কোন জিনিস হারাম কিনা তা জানার জন্য আমাদেরকে আল্লাহর কেতাব দেখতে হবে।কোরআনে যা কিছু নিষিদ্ধ করা হোয়েছে সেগুলি ছাড়া আর সবই বৈধ।এখন কোরআনে দেখুন গান,বাদ্যযন্ত্র,চলচিত্র,নাট্যকলা,অভিনয়,নৃত্য,চিত্রাঙ্কন, ভাষ্কর্য নির্মাণ ইত্যাদি আল্লাহ হারাম কোরেছেন কিনা? যদি না কোরে থাকেন তাহলে এগুলো নিয়ে বাড়াবাড়ি করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ।আল্লাহ যেটিকে বৈধ কোরেছেন সেটিকে কোন আলেম,মুফতি,ফকীহ ,মোফাসসের হারাম করার অধিকার রাখেন না।(আসুন সিস্টেমটাকেই পাল্টাই-১২)
কুরআন হাদীসের বক্তব্যঃ
এখানে খুব সুচতুরভাবে হাদীসকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।অথচ হাদীসও শরীয়ার মানদণ্ড ।

গান বাদ্য হারামঃ আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
وَ مِنَ النَّاسِ مَنۡ یَّشۡتَرِیۡ لَہۡوَ الۡحَدِیۡثِ لِیُضِلَّ عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ بِغَیۡرِ عِلۡمٍ ٭ۖ وَّ یَتَّخِذَہَا ہُزُوًا ؕ اُولٰٓئِکَ لَہُمۡ عَذَابٌ مُّہِیۡنٌ
একশ্রেণীর লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহ করার উদ্দেশে অবান্তর কথাবার্তা সংগ্রহ করে অন্ধভাবে এবং উহাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। এদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি।(সূরা লুকমান-৬)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. কে উক্ত আয়াতের ‘লাহওয়াল হাদীস’-এর ব্যাখ্যা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘তা হল গান।’ আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা., আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. একই কথা বলেন।(তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/৪৪১)
◾ রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ
لَيَكُونَنَّ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامٌ يَسْتَحِلُّونَ الْحِرَ وَالْحَرِيرَ وَالْخَمْرَ وَالْمَعَازِفَ
আমার উম্মাতের মধ্যে অবশ্যই এমন কতগুলো দলের সৃষ্টি হবে, যারা ব্যভিচার, রেশমী কাপড়, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল জ্ঞান করবে।(সহীহ বুখারী-৫৫৯০)
◾গান-গায়িকা এবং এর ব্যবসা ও চর্চাকে হারাম আখ্যায়িত করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
তোমরা গায়িকা (দাসী) ক্রয়-বিক্রয় কর না এবং তাদেরকে গান শিক্ষা দিও না। আর এসবের ব্যবসায় কোনো কল্যাণ নেই। জেনে রেখ, এর প্রাপ্ত মূল্য হারাম।(জামে তিরমিযী হাদীস : ১২৮২; ইবনে মাজাহ হাদীস : ২১৬৮)
◾রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও ইরশাদ করেন, আমার উম্মতের কিছু লোক মদের নাম পরিবর্তন করে তা পান করবে। আর তাদের মাথার উপর বাদ্যযন্ত্র ও গায়িকা রমনীদের গান বাজতে থাকবে। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে যমীনে ধ্বসিয়ে দিবেন।(সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস : ৪০২০; সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস : ৬৭৫৮)
◾বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত নাফে’ রাহ. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার চলার পথে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বাঁশির আওয়াজ শুনলেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি দুই কানে আঙ্গুল দিলেন। কিছু দূর গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, হে নাফে’! এখনো কি আওয়াজ শুনছ? আমি বললাম হ্যাঁ। অতঃপর আমি যখন বললাম, এখন আর আওয়াজ শোনা যাচ্ছে না তখন তিনি কান থেকে আঙ্গুল সরালেন এবং বললেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলার পথে বাঁশির আওয়াজ শুনে এমনই করেছিলেন। (মুসনাদে আহমদ হাদীস : ৪৫৩৫; সুনানে আবু দাউদ হাদীস : ৪৯২৪)
বিখ্যাত তাবেয়ী মুজাহিদ রাহ. থেকেও এমন একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে।-(ইবনে মাজাহ হাদীস : ১৯০১)
◾রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ঘণ্টি, বাজা, ঘুঙুর হল শয়তানের বাদ্যযন্ত্র।(সহীহ মুসলিম হাদীস : ২১১৪)
মৃদু আওয়াজের ঘণ্টি-ঘুঙুরের যদি এই অবস্থা হয় তাহলে আধুনিক সুরেলা বাদ্যযন্ত্রের বিধান কী হবে তা খুব সহজেই বুঝা যায়।
ভাষ্কর্য_হারামঃ কুরআন মজীদের স্পষ্ট নির্দেশ-

فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْاَوْثَانِ وَ اجْتَنِبُوْا قَوْلَ الزُّوْرِۙ
‘তোমরা পরিহার কর অপবিত্র বস্ত্ত অর্থাৎ মূর্তিসমূহ এবং পরিহার কর মিথ্যাকথন।’ (সূরা হজ্জ : ৩০)
◾হযরত আমর ইবনে আবাসা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন ‘আল্লাহ তাআলা আমাকে প্রেরণ করেছেন আত্মীয়তার সর্ম্পক বজায় রাখার, মূর্তিসমূহ ভেঙ্গে ফেলার, এবং এক আল্লাহর ইবাদত করার ও তাঁর সঙ্গে অন্য কোনো কিছুকে শরীক না করার বিধান দিয়ে। (সহীহ মুসলিম হা. ৮৩২)
◾আবুল হাইয়াজ আসাদী বলেন, আলী ইবনে আবী তালেব রা. আমাকে বললেন, ‘আমি কি তোমাকে ওই কাজের দায়িত্ব দিয়ে প্রেরণ করব না, যে কাজের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে প্রেরণ করেছিলেন? তা এই যে, তুমি সকল প্রাণীর মূর্তি বিলুপ্ত করবে এবং সকল সমাধি-সৌধ ভূমিসাৎ করে দিবে।’ অন্য বর্ণনায় এসেছে,… এবং সকল চিত্র মুছে ফেলবে।’ (সহীহ মুসলিম হা. ৯৬৯)
◾আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
إِنَّ مِنْ أَشَدِّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْمُصَوِّرُوْنَ.
প্রতিকৃতি তৈরিকারী (ভাস্কর, চিত্রকর) শ্রেণী হল ওইসব লোকদের অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে কিয়ামত-দিবসে সবচেয়ে কঠিন শাস্তি প্রদান করা হবে।’ (সহীহ বুখারী হা. ৫৯৫০)
◾আলী ইবনে আবী তালেব রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি জানাযায় উপস্থিত ছিলেন। তখন তিনি বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে কে আছে, যে মদীনায় যাবে এবং যেখানেই কোনো প্রাণীর মূর্তি পাবে তা ভেঙ্গে ফেলবে, যেখানেই কোনো সমাধি-সৌধ পাবে তা ভূমিসাৎ করে দিবে এবং যেখানেই কোনো চিত্র পাবে তা মুছে দিবে?’ আলী রা. এই দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্ত্তত হলেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে কেউ পুনরায় উপরোক্ত কোনো কিছু তৈরী করতে প্রবৃত্ত হবে সে মুহাম্মাদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি নাযিলকৃত দ্বীনকে অস্বীকারকারী।’ (মুসনাদে আহমাদ হা. ৬৫৭)
◾উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. ও আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذَهَبَ يَخْلُقُ خَلْقًا كَخَلْقِيْ؟ فَلْيَخْلُقُوْا ذَرَّةً وَلْيَخْلُقُوْا حَبَّةً أَوْ لِيَخْلُقُوْا شَعِيْرَةً.

এই প্রতিকৃতি নির্মাতাদের (ভাস্কর, চিত্রকরদের) কিয়ামত-দিবসে আযাবে নিক্ষেপ করা হবে এবং তাদেরকে সম্বোধন করে বলা হবে, যা তোমরা ‘সৃষ্টি’ করেছিলে তাতে প্রাণসঞ্চার কর!’(সহীহ বুখারী হা. ৭৫৫৭, ৭৫৫৮;)
◾আউন ইবনে আবু জুহাইফা তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুদ ভক্ষণকারী ও সুদ প্রদানকারী, উল্কি অঙ্কণকারী ও উল্কি গ্রহণকারী এবং প্রতিকৃতি প্রস্ত্ততকারীদের (ভাস্কর, চিত্রকরদের) উপর লানত করেছেন। (সহীহ বুখারী হা. ৫৯৬২)

6)  আল্লাহ তায়ালা প্রভুত্বের আসনে নেই!

বাংলাদেশে গড়ে ওঠা নতুন উগ্রবাদি একটি কুফরী দলের নাম হেযবুত তাওহীদ। এদের অনেকগুলো মনগড়া বিশ্বাসের মধ্যে একটি হলো-
আল্লাহ তায়ালা প্রভুত্বের আসনে নেই (নাউজুবিল্লাহ)
প্রমাণঃ
তাদের কথিত এমাম বায়াজীদ খান পন্নী,
হেযবুত তওহীদের মোজাহেদ মোজাহেদাদের
উদ্দেশ্যে একটি ছোট্ট বই লিখেছে। বইটির নাম
দিয়েছে – “আসমাউ ওয়া আত্তাবেয়্যু”এই বইয়ের
৬ নং পৃষ্ঠায় তার দলের লোকদের লক্ষ্য করে বলছেনঃ

❝ সমস্ত পৃথিবী যার করতলগত সেই মহা শক্তিধর
দাজ্জালকে হটিয়ে দিয়ে প্রভুত্বের আসনে আল্লাহ
তায়ালাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার মতো আপাতঃ
দৃষ্টিতে অসম্ভব কাজটি করার দায়িত্বে তোমরা
নিজেদের নিয়োজিত করেছো ❞


যুক্তিখন্ডনঃ
প্রিয় পাঠক লক্ষ্য করুন,তারা আল্লাহকে প্রভুত্বের আসনে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে চায়, তাহলে প্রশ্ন আসে বর্তমানে আল্লাহ কি তাঁর প্রভুত্বের আসনে নেই? (নাউজুবিল্লাহ)
তাদের উল্লেখ করা “পুনঃপ্রতিষ্ঠিত” শব্দটির অর্থ কি? তার অর্থ হলো – কোন জিনিস আগে প্রতিষ্ঠিত ছিলো কিন্তু এখন নেই পরবর্তীতে আবার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটাকেই বলে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত।

বাংলায় ‘পুনঃ’ শব্দটি, পুনরায়/দ্বিতীয়বার অর্থে ব্যবহারিত হয়। (বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান ৮৩০ পৃঃ)

যেমনঃপ্রচার-পুনঃপ্রচার, প্রবেশ – পুনঃপ্রবেশ। ঠিক তেমনি প্রতিষ্ঠিত – পুনঃপ্রতিষ্ঠিত।

তাহলে তাদের বক্তব্য হলো, প্রভুত্বের আসনে আল্লাহ আগে ছিলো এখন নেই, তাই পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে। (নাউজুবিল্লাহ, এটা বিশ্বাস করলে ঈমান থাকবে না।)
চলুন দেখা যাক এ ব্যপারে আল কোরআন কি বলে-

◾পবিত্র কোরআন মাজিদে ইরশাদ হচ্ছে-

اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ
وَلَا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ

অর্থ – আল্লাহ তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী। তাঁহাকে তন্দ্রা অথবা নিদ্রা স্পর্শ করেনা। আকাশ ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে সমস্ত তাহারই। [সুরা বাকারা ২৫৫]
প্রিয় পাঠক! এই আয়াতে যে القيوم শব্দ এসেছে তার মাধ্যমেই প্রমাণিত হয় আল্লাহ তায়ালার ক্ষমতা কত মহান, আর সাময়িক সময়ের জন্য আল্লাহ তায়ালা ক্ষমতা বিহীন থাকবে-এটা ভাবা কল্পনাতেও অসম্ভব।

আল্লাহর ক্ষমতা চিরস্থায়ী কেউ তাকে তার ক্ষমতার আসন থেকে হটাতে পারবেনা। তাহলে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার তো প্রশ্নই আসেনা!

◾কাইয়্যূম শব্দের ব্যাখ্যাঃ

কাইয়্যুম শব্দের অর্থ হলো-সৃষ্টির তত্ত্বাবধান ও রক্ষনাবেক্ষনের জন্য যে সত্ত্বা অনাদি ও অনন্তকালব্যাপী বিরাজমান, আপন সত্তার জন্য যিনি কাহারও মুখাপেক্ষী নহেন, অথচ সর্বসত্ত্বার যিনি ধারক, তাহাকেই কাইয়্যুম বলা হয়।

(দেখুন ইফা থেকে প্রকাশিত কোরআনের অনুবাদ উক্ত আয়াতের ১৭৫ নম্বর টিকা। পৃষ্ঠা ৬৪)

প্রিয় পাঠক, এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে, তারা কী ভয়ংকর ঈমান বিধ্বংসী বাক্য ব্যবহার করছে!
তাদের আরেকটি কুফরি কথা খেয়াল করুন-

তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো তারা নাকি আল্লাহকে প্রভুত্বের আসনে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে চায়, তাহলে প্রশ্ন আসে আল্লাহ কি নিজের আসনে প্রতিষ্ঠিত হতে হেযবুতীদের মুখাপেক্ষী? নাউজুবিল্লাহ ,নাউজুবিল্লাহ, নাউজুবিল্লাহ।
◾অথচ আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করছেনঃ
اللّٰه الصمد
(সূরা ইখলাস,আয়াত নং-২) অর্থ আল্লাহ কাহারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাহার মুখাপেক্ষী

◾এবার আসুন প্রভুত্ব শব্দটিকে বুঝি।
প্রভু এবং প্রভুত্ব উভয় শব্দের মধ্যে পার্থক্য আছে,আমাদের রব/প্রভু আল্লাহ তায়ালাই, তিনিই আমাদের প্রভু। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হচ্ছেঃ

إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا
فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ

যাহারা বলে, আল্লাহ আমাদের রব, অতঃপর অটল থাকে, তাহাদের কোন ভয় নেই এবং তাহারা দুঃখিত হইবেনা।(সুরা আহ্কাফ আয়াত ১৩)

আর প্রভুত্ব অর্থ হলো, ঐ আল্লাহ তায়ালার কর্তৃত্ব, আধিপত্য, প্রভু শক্তি, এক কথায় বলি আল্লাহ তায়ালার ক্ষমতা (আধুনিক বাংলা অভিধান ৮৭১)
এর পরেও কি তাদেরকে সঠিক বলে মনে হয়?
বরং প্রমাণিত হলো তারা তাওহীদের দল নয়। সমসাময়িক কিছু মুখরোচক যুক্তি ও তাওহীদের স্লোগানের আড়ালে তারা মানুষকে কুফুরির দিকে আহবান করছে।

◾অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করছেন
وَرَبُّكَ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ

অর্থ – তোমাদের রব যাহা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন(সুরা কাসাস আয়াত ৬৮) যদি এখন আল্লাহ তায়ালা প্রভুত্বের আসনে না থাকে, তাহলে আল্লাহ যা ইচ্ছা তা সৃষ্টি করবেন কি ভাবে.? (নাউজুবিল্লাহ মিন যালিক)

◾অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করছেন

فعال لما يريد

অর্থ আল্লাহ যাহা ইচ্ছা করেন, তাহাই করেন(সুরা বুরুজ -আয়াত নম্বর ১৫)
এখন হেযবুতীদের কথা মেনে নিলে আল্লাহর কথা মিথ্যা হয়ে যায়, আর আল্লাহর কথা মেনে নিলে হেযবুতিরা মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এখন আমরা কোনটা সত্য ধরে নেব?
অবশ্যই আল্লাহর কথা।

◾কারন তিনি বলেনঃ
وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ حَدِيثًا

অর্থ- আর আল্লাহ তায়ালার চাইতে সত্যবাদী আর কে আছে (সুরা নেসা ৮৭)
এখন সিদ্ধান্ত আপনাদের কাছে।আল্লাহ তায়ালার কথা বিশ্বাস করবেন ,নাকি হেযবুতীদের কথা বিশ্বাস করবেন।

7) হঠাৎ করেই মুসলিম জাতির আক্বীদা বিকৃত হয়ে গেছে!

হেযবুত তাওহীদের বক্তব্যঃ
৬০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ঐ জাতিটি তখনকার দিনের অর্দ্ধেক পৃথিবী জয় কোরে আল্লাহর আইনের শাসনের অধীনে নিয়ে এলো …….. অর্দ্ধেক পৃথিবীতে আল্লাহর আইন প্রবর্ত্তন করার ফলে ঐ সমস্ত এলাকায় লুপ্ত হোয়ে গেলো শোষণ, অবিচার, অন্যায়, নিরাপত্তাহীনতা অর্থাৎ ফাসাদ ও সাফাকুদ্দিমা। প্রতিষ্ঠিত হোল সুবিচার; ব্যক্তিগত ও সমষ্ঠিগত, অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সুবিচার ও নিরাপত্তা; এক কথায় শান্তি।
এরপর ঘোটলো এক মহাদুর্ভাগ্য জনক ঘটনা। ঐ জাতি হঠাৎ তার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ভুলে গেলো (এসলামের প্রকৃত রূপরেখা ,পৃষ্ঠা ৪-৫)।

পর্যালোচনাঃ
কোন জাতি “হঠাৎ” করে তার লক্ষ্য উদ্দেশ্য ভুলে যায় না। আক্বীদা পরিবর্তন করে না। মানুষ যে আক্বীদায় পুষ্ট হয়, সে আক্বীদায় তার পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে ও এটা ধারাবাহিকতায় থাকে। পরিস্থিতির একান্ত প্রভাব ও নাজুকতা ব্যতীত সমাজ বা গোত্র মৌখিকভাবেও তাদের আক্বীদা পরিবর্তনে সায় দেয় না। পন্নীর কথাবার্তা কোনো ঐতিহাসিক ব্যাখ্যার ভাষায় আসেনি, সামাজিক বিশ্লেষণেও আসে নি, এমন কি তা সাধারণ লোকের সম্যক বিচার-বিশ্লেষণের ভিত্তিতেও নয়। আপনি বলবেন একটি জাতি ‘ইস্পাতের মত ঐক্যবদ্ধ গুণের অধিকারী’, তারপর বলবেন তারা ‘সঠিক আক্বীদা’ নিয়ে ‘সুবিচারের’ উপর সমাজ প্রতিষ্ঠাকারী, তারপর তারা সুষ্ঠু অর্থনীতির ভিত্তিতে সুব্যবস্থা প্রবর্তনকারী, নিরাপত্তা দানকারী এবং শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী।
তারপর?
তারপর তারা “হঠাৎ” উদ্দেশ্য ও লক্ষ ভুলে গেল? অপদার্থ কথা।
অথচ হাদীস বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা।এই উম্মত কখনই একসাথে ভ্রান্তিতে নিপতিত হবে না।একটি জামাত অবশ্যই হক্বের উপর থাকবে।

◾عَنْ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ لَا يَجْمَعُ أُمَّتِي عَلَى ضَلَالَةٍ ، وَيَدُ اللَّهِ مَعَ الْجَمَاعَةِ
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাঃ বলেন রাসুলুল্লাহ সল্লল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন আমার সকল উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা কখনও ভ্রান্ত (বিকৃত) বিষয়ের উপর ঐক্য করবেন না।
(তিরমিযি হাদিস-২১৬৭;আবু দাউদ হাদিস-৪২৫৩)

◾عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ لاَ تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي ظَاهِرِينَ عَلَى الْحَقِّ لاَ يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ وَهُمْ كَذَلِكَ

সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের একটি দল সর্বদাই হকের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। তাঁদের সঙ্গ ত্যাগ করে কেউ তাদের কোন অনিষ্ট করতে পারবে না। এমন কি এভাবে আল্লাহর আদেশ অর্থাৎ কিয়ামত এসে পড়বে আর তারা যেমনটি ছিল তেমনটাই থাকবে।(সহীহ মুসলিম-ইঃফা,হাদীস নং-৪৭৯৭)

হিযবুত তাওহীদের জন্ম ১৯৯৫ সালে।তাদের দাবি বর্তমান ইসলাম বিকৃত ইসলাম।তারা প্রকৃত ইসলামের প্রচারক।তাদের এ দাবি মেনে নিলে হাদীসের বক্তব্য মিথ্যা প্রতিপন্ন হয়।

হাদীস বলছে প্রত্যেক যুগেই একটি জামাত হক্বের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে।
হিযবুত তাওহীদ বলছে তাদের উত্থানের পূর্বে পৃথিবীতে যে ইসলাম ছিল তা বিকৃত।(নাউযুবিল্লাহ)

8 )বর্তমান ইসলামকে বিকৃত প্রমাণে হাদীসের অপব্যাখ্যা

হেযবুত তাওহীদের বক্তব্যঃ

মহানবী ভবিষ্যদ্বাণী কোরেছেন –আমার উম্মাহর আয়ূ ৬০/৭০ বছর (হাদিস –আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে তিরমিযি ও ইবনে মাযাহ, মেশকাত)”

তারপর তিনি এই হাদিসের অর্থ ব্যাখ্যা করেন এভাবে: “অর্থাৎ তাঁর উম্মাহ পৃথিবীতে থাকবে ৬০/৭০ বছর, তারপর যেটা হবে সেটা নামে মাত্র উম্মতে মোহাম্মদী, সেটা প্রকৃত পক্ষে উম্মতে মোহাম্মদী নয়।(এসলামের প্রকৃত রূপরেখা-৪৯)

পর্যালোচনাঃ

পন্নী এই হাদিসটি বুঝতে সাংঘাতিকভাবে ভুল করেছেন। হাদিসটির বিষয় মানুষের বয়সের গড়-সীমা নিয়ে। অর্থাৎ সাধারণভাবে এই উম্মতের লোকদের আয়ুষ্কাল হবে তাদের জীবনের ষাট ও সত্তর দশকের সীমায়: ষাট বলতে ৬০-৭০ আর সত্তর বলতে ৭০-৮০। এই হাদিসটি সেই সুদূরের অতীত থেকে আমাদের একাল পর্যন্ত এই অর্থেই বুঝা হয়েছে।
হাদিসটির বর্ণনা-ই এসেছে ‘উম্মতের লোকদের আয়ুষ্কালের’ পরিচ্ছেদে ।

সুনানে তিরমিযিতে হাদীসটি উল্লেখিত হয়েছে এভাবে-

باب مَا جَاءَ فِي فَنَاءِ أَعْمَارِ هَذِهِ الأُمَّةِ مَا بَيْنَ السِّتِّينَ إِلَى السَّبْعِينَ

পরিচ্ছদঃ এই উম্মতের বয়স ষাট থেকে সত্তরের মধ্যে হওয়া

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِﷺ عُمُرُ أُمَّتِي مِنْ سِتِّينَ سَنَةً إِلَى سَبْعِينَ سَنَةً ‏

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ আমার উম্মতের বয়স হল ষাট থেকে সত্তর বছর পর্যন্ত। (সুনানে তিরমিযি,ইঃফা,হাদীস নং-২৩৩৪)

বিজ্ঞ পাঠক! চলুন এবার আরো কয়েকটি হাদীসের দিকে দৃষ্টিপাত করা যাক

১.

◾عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ لاَ تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي ظَاهِرِينَ عَلَى الْحَقِّ لاَ يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ وَهُمْ كَذَلِكَ

সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ আমার উম্মাতের একটি দল সর্বদাই হকের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। তাঁদের সঙ্গ ত্যাগ করে কেউ তাদের কোন অনিষ্ট করতে পারবে না। এমন কি এভাবে আল্লাহর আদেশ অর্থাৎ কিয়ামত এসে পড়বে আর তারা যেমনটি ছিল তেমনটই থাকবে। (সহীহ মুসলিম-ইঃফা,হাদীস নং-৪৭৯৭)

২.
◾عن عمران بن حصين، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ لا تزال طائفة من امتي يقاتلون على الحق ظاهرين على من ناواهم حتى يقاتل اخرهم المسيح الدجال ‏”‏ ‏.‏

জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী ﷺ-কে বলতে শুনেছিঃ
কিয়ামত পর্যন্ত আমার উম্মাতের একদল হকের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে বাতিলের বিরুদ্ধে কিতাল করতে থাকবে এবং অবশেষে ঈসা (আলাইহিস সালাম) অবতরণ করবেন। মুসলমানদের আমীর বলবেনঃ আসুন, সালাতে আমাদের ইমামত করুন। তিনি উত্তর দিবেনঃ না, আপনাদেরই একজন অন্যদের জন্য ইমাম নিযুক্ত হবেন। এ হল আল্লাহর প্রদত্ত এ উম্মাতের সম্মান। (সহীহ মুসলিম, হাদিস নম্বরঃ ২৯২)

৩.
◾قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ وَلاَ تَزَالُ عِصَابَةٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ يُقَاتِلُونَ عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِينَ عَلَى مَنْ نَاوَأَهُمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ আল্লাহ যার মঙ্গল চান, তাকে দ্বীনের বুৎপত্তি (বুঝ) দিয়ে থাকেন এবং মুসলমানদের একটি দল সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে লড়াই করবে। যারা তাদের প্রতি বিরূপ ভাব পোষণ করবে তাদের বিরুদ্ধে থাকবে তারা তাদের উপর বিজয়ী থাকবে। কিয়ামত অবধি এভাবে চলতে থাকবে।(সহীহ মুসলিম-ইঃফা,হাদীস নং-৪৮০৩)

৪.
◾حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ، حَدَّثَنَا النَّضْرُ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي جَمْرَةَ، سَمِعْتُ زَهْدَمَ بْنَ مُضَرِّبٍ، سَمِعْتُ عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ ـ رضى الله عنهما ـ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ خَيْرُ أُمَّتِي قَرْنِي ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ‏”‏‏.‏ قَالَ عِمْرَانُ فَلاَ أَدْرِي أَذَكَرَ بَعْدَ قَرْنِهِ قَرْنَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا ‏”‏ ثُمَّ إِنَّ بَعْدَكُمْ قَوْمًا يَشْهَدُونَ وَلاَ يُسْتَشْهَدُونَ، وَيَخُونُونَ وَلاَ يُؤْتَمَنُونَ، وَيَنْذُرُونَ وَلاَ يَفُونَ، وَيَظْهَرُ فِيهِمُ السِّمَنُ

ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন, আমার উম্মাতের সর্বশ্রেষ্ঠ যুগ আমার যুগ। অতঃপর তৎপরবর্তী যুগ। অতঃপর তৎপরবর্তী যুগ। ‘ইমরান (রাঃ) বলেন, তিনি তাঁর যুগের পর দু’যুগ অথবা তিন যুগ বলেছেন তা আমার স্মরণ নেই। অতঃপর এমন লোকের আগমন ঘটবে যারা সাক্ষ্য প্রদানে আগ্রহী হবে অথচ তাদের নিকট সাক্ষ্য চাওয়া হবে না। বিশ্বাস ভঙ্গের কারণে তাদেরকে কেউ বিশ্বাস করবে না। তারা মানত করবে কিন্তু তা পূরণ করবে না। তারা হবে চর্বিওয়ালা মোটাসোটা। (সহীহ বুখারী,আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৮৫)

সারসংক্ষেপঃ

১.পন্নী সাহেব যে হাদীস উল্লেখ করে ইসলামকে বিকৃত প্রমাণের চেষ্টা করেছেন ,সে হাদীস থেকে কিছুতেই তার দাবি প্রমাণ হয় না।কারণ হাদীসটি উম্মতের গড় আয়ু সম্পর্কে।

২.উম্মতের একটি দল সকল যুগে অবশ্যই হক্বের উপর থাকবে।সুতরাং ইসলাম কিছু সময় পর বিকৃত হয়ে গিয়েছে- এমন কথা সরাসরি হাদীস বিরোধী।

৩.প্রকৃত উম্মতে মুহাম্মাদীর সময়কাল যদি ৬০-৭০ বছরের মধ্যে হয় তাহলে রাসূলুল্লাহ ﷺ তিনটি যুগকে সোনালী যুগ বলার যৌক্তিকতা কি?

৪.পন্নী সাহেবের ব্যাখ্যা সঠিক হলে বলতে হয়, পন্নীর প্রতিষ্ঠিত হেযবুত তওহীদও প্রকৃত উম্মতে মোহাম্মাদী নয়।কারণ তার এই দলের জন্মও রাসূলুল্লাহ ﷺ এর হাদীসে বর্ণিত ৬০-৭০ বছরের সময়সীমার পর।

সুতরাং প্রমাণিত হল পন্নী সাহেবের ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ হাদীস বিরোধী।

এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় সম্পর্কে আল্লহ সুবাহানাহু ওয়া তা’য়ালা বলেনঃ

◾وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا

“রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ কর এবং যা তোমাদের নিষেধ করেন তা হতে বিরত থাক”। (সূরা হাশর, আয়াত -০৭)

◾ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍ ﺃَﻃِﻴﻌُﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟَﻪُ ﻭَﻻ ﺗَﻮَﻟَّﻮْﺍ ﻋَﻨْﻪُ ﻭَﺃَﻧْﺘُﻢْ ﺗَﺴْﻤَﻌُﻮﻥَ
“হে মুমিনগণ, আল্লাহর ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর আর শুনার পর তা থেকে মুখ তোমরা ফিরিয়ে নিও না”। (সূরা আন-আনফাল, আয়াত-২০)

◾ﻗُﻞْ ﺃَﻃِﻴﻌُﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺍﻟﺮَّﺳُﻮﻝَ ﻓَﺈِﻥْ ﺗَﻮَﻟَّﻮْﺍ ﻓَﺈِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻻ ﻳُﺤِﺐُّ ﺍﻟْﻜَﺎﻓِﺮِﻳﻦَ
“তুমি বল, আল্লাহর ও রাসূলের আনুগত্য কর, যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় নিশ্চয় আল্লাহ অবিশ্বাসীদেরকে ভালবাসেন না”।(সূরা আলে-ইমরান,আয়াত-৩২)

◾ﻭَﻣَﻦْ ﻳُﺸَﺎﻗِﻖِ ﺍﻟﺮَّﺳُﻮﻝَ ﻣِﻦْ ﺑَﻌْﺪِ ﻣَﺎ ﺗَﺒَﻴَّﻦَ ﻟَﻪُ ﺍﻟْﻬُﺪَﻯ ﻭَﻳَﺘَّﺒِﻊْ ﻏَﻴْﺮَ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﻧُﻮَﻟِّﻪِ ﻣَﺎ ﺗَﻮَﻟَّﻰ ﻭَﻧُﺼْﻠِﻪِ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ ﻭَﺳَﺎﺀَﺕْ ﻣَﺼِﻴﺮًﺍ
“আর যে রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, তার জন্য হিদায়াত স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পরও এবং মুমিনের পথের বিপরীত পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে ফেরাব, যেদিকে সে ফিরে যেতে চায় এবং তাকে প্রবেশ করাব জাহান্নামে আর তা খুবই নিকৃষ্টতর আবাসস্থল”। (সূরা আন-নিসা, আয়াত-১১৫)

◾ﻭَﻳَﻮْﻡَ ﻳَﻌَﺾُّ ﺍﻟﻈَّﺎﻟِﻢُ ﻋَﻠَﻰ ﻳَﺪَﻳْﻪِ ﻳَﻘُﻮﻝُ ﻳَﺎ ﻟَﻴْﺘَﻨِﻲ ﺍﺗَّﺨَﺬْﺕُ ﻣَﻊَ ﺍﻟﺮَّﺳُﻮﻝِ ﺳَﺒِﻴﻼ ﻳَﺎ ﻭَﻳْﻠَﺘَﻰ ﻟَﻴْﺘَﻨِﻲ ﻟَﻢْ ﺃَﺗَّﺨِﺬْ ﻓُﻼﻧًﺎ ﺧَﻠِﻴﻼ ﺃَﺿَﻠَّﻨِﻲ ﻋَﻦِ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺑَﻌْﺪَ ﺇِﺫْ ﺟَﺎﺀَﻧِﻲ ﻭَﻛَﺎﻥَ ﺍﻟﺸَّﻴْﻄَﺎﻥُ ﻟِﻺﻧْﺴَﺎﻥِ ﺧَﺬُﻭﻻ

“জালেম সেদিন আপন হস্তদ্বয় দংশন করতে করতে বলবে, হায় আফসোস! আমি যদি রসূলের সাথে পথ অবলম্বন করতাম।হায় আমার দূর্ভাগ্য, আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম।আমার কাছে উপদেশ আসার পর সে আমাকে তা থেকে বিভ্রান্ত করেছিল। শয়তান মানুষকে বিপদকালে ধোঁকা দেয়”।
(সূরা ফুরকান,আয়াতঃ ২৭-২৯)

9) সকল ধর্মই সত্য

হেযবুত তাওহীদের বক্তব্যঃ

দীন শব্দের অর্থ জীবনব্যবস্থা আর কাইয়্যেমাহ শব্দটি এসেছে কায়েম থেকে যার অর্থ প্রতিষ্ঠিত, আদি, শাশ্বত, চিরন্তন। যা ছিল, আছে, থাকবে। সনাতন শব্দের অর্থও আদি, শাশ্বত, চিরন্তন। এই হিসাবে আমরা বলতে পারি, স্রষ্টার প্রেরিত সকল ধর্মই সনাতন ধর্ম। সুতরাং সকল ধর্মের অনুসারীরাই একে অপরের ভাই।(হেযবুত তওহীদের ওয়েব সাইটে প্রকাশিত ‘সকল ধর্মের মর্মকথা সবার ঊর্ধ্বে মানবতা’ প্রবন্ধ)
(বই-সকল ধর্মের মর্মকথা সবার ঊর্ধ্বে মানবতাঃপৃষ্ঠা- ৩-৪)

মানবসমাজে একটি ধারণা ব্যাপকভাবে প্রচলিত আছে যে, ‘পৃথিবীতে এতগুলো ধর্মের মধ্যে মাত্র একটি ধর্ম সত্য হতে পারে (!) অন্য সকল ধর্ম মিথ্যা এবং ঐ সত্য ধর্মই কেবল মানুষকে মুক্তি দিতে সক্ষম।’ এ ধারণা প্রচলিত থাকায় সকল ধর্মের অনুসারীরাই দাবি করে যে, কেবল তাদের ধর্মই সত্যধর্ম। এটা ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম মেনে চলে স্বর্গে যাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো- স্রষ্টা প্রদত্ত সকল ধর্মই সত্যধর্ম। এগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এর যে কোনোটি মানুষ মেনে চলতে পারে। তবে মানতে হবে পূর্ণাঙ্গভাবে।(হেযবুত তওহীদের ওয়েব সাইটে প্রকাশিত ‘মানবসমাজে ধর্ম-অধর্ম ও শান্তি-অশান্তির চিরন্তন দ্বন্দ্ব’ প্রবন্ধ)
কুরআনের বক্তব্যঃ
কুরআন স্পষ্টভাবে ইসলাম ব্যতীত অন্য যেকোন ধর্মকে সত্য হওয়ার সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়েছে ।
আল্লহ তা’য়ালা কুরআন মাজীদে বলেনঃ

কোথায় যাচ্ছেন? আরো নতুন কিছু জানার জন্য এই লেখাটি পড়ুনঃ   ধর্ম যার যার উৎসব সবার - এই কথাটা নিয়ে হিন্দু , খ্রিস্টান ও ইসলাম ধর্মের দৃষ্টিভঙ্গি

◾اِنَّ الدِّیۡنَ عِنۡدَ اللّٰہِ الۡاِسۡلَامُ
নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম।(সূরা আল ইমরান-১৯)

◾الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلاَمَ دِينًا
আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম। (সূরা মায়েদা-৩)

◾ﺃَﻓَﻐَﻴْﺮَ ﺩِﻳﻦِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻳَﺒْﻐُﻮﻥَ ﻭَﻟَﻪُ ﺃَﺳْﻠَﻢَ ﻣَﻦْ ﻓِﻲ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﻭَﺍﺕِ ﻭَﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ ﻃَﻮْﻋًﺎ ﻭَﻛَﺮْﻫًﺎ ﻭَﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻳُﺮْﺟَﻌُﻮﻥَ
তারা কি আল্লাহর দ্বীনের পরিবর্তে অন্য দ্বীন তালাশ করছে? আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে স্বেচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক, তাঁরই অনুগত হবে এবং তাঁর দিকেই ফিরে যাবে।
(সূরা আল ইমরান- ৮৩)

◾ﻭَﻣَﻦْ ﻳَﺒْﺘَﻎِ ﻏَﻴْﺮَ ﺍﻟْﺈِﺳْﻠَﺎﻡِ ﺩِﻳﻨًﺎ ﻓَﻠَﻦْ ﻳُﻘْﺒَﻞَ ﻣِﻨْﻪُ ﻭَﻫُﻮَ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺂﺧِﺮَﺓِ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺨَﺎﺳِﺮِﻳﻦَ
যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতি গ্রস্ত।(সূরা আল ইমরান-৮৫)

◾یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِنۡ تُطِیۡعُوۡا فَرِیۡقًا مِّنَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡکِتٰبَ یَرُدُّوۡکُمۡ بَعۡدَ اِیۡمَانِکُمۡ کٰفِرِیۡنَ ﴿۱۰۰﴾

হে ঈমানদারগণ! তোমরা যদি আহলে কিতাবদের কোন ফেরকার কথা মান, তাহলে ঈমান আনার পর তারা তোমাদিগকে কাফেরে পরিণত করে দেবে।(সূরা আল ইমরান-১০০)

উপরোক্ত আয়াত গুলো দ্বারা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয়ে গেল যে আল্লহ সুবাহানাহু ওয়া তা’য়ালার নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম।

মানবরচিত অন্যান্য ধর্মকে সত্যায়ন করে হিযবুত তাওহীদ স্পষ্টভাবে কুরআনের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছে।

অন্য ধর্ম অনুসরণ করে নাজাত পাওয়ার জন্য হিযবুত তাওহীদ শর্তারোপ করে বলেছে,”তবে মানতে হবে পূর্ণাঙ্গভাবে”।

আমরা জানি কোন ধর্ম অনুসরণ করা হয় সেই ধর্মের ধর্মগ্রন্থের ভিত্তিতে ।

ইহুদি এবং খ্রিস্টানরা নিজেদের ‘তাওরাত ও ইঞ্জিল’ এ দুটি আসমানী কিতাব এর অনুসারী বলে দাবি করে।কিন্তু তারা সত্যিকার আসমানী কিতাবের অনুসারী নয়।বরং তারা তাদের কিতাবকে বিকৃত করে ফেলেছে ।

চলুন দেখে নেই এ ব্যপারে কুরআন হাদীসের বক্তব্য কি

#কুরআনের_বক্তব্যঃ

◾فَوَیۡلٌ لِّلَّذِیۡنَ یَکۡتُبُوۡنَ الۡکِتٰبَ بِاَیۡدِیۡہِمۡ ٭ ثُمَّ یَقُوۡلُوۡنَ ہٰذَا مِنۡ عِنۡدِ اللّٰہِ لِیَشۡتَرُوۡا بِہٖ ثَمَنًا قَلِیۡلًا ؕ فَوَیۡلٌ لَّہُمۡ مِّمَّا کَتَبَتۡ اَیۡدِیۡہِمۡ وَ وَیۡلٌ لَّہُمۡ مِّمَّا یَکۡسِبُوۡنَ

অতএব তাদের জন্যে আফসোস! যারা নিজ হাতে গ্রন্থ লেখে এবং বলে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ-যাতে এর বিনিময়ে সামান্য অর্থ গ্রহণ করতে পারে। অতএব তাদের প্রতি আক্ষেপ, তাদের হাতের লেখার জন্য এবং তাদের প্রতি আক্ষেপ, তাদের উপার্জনের জন্যে।(সূরা বাকারাহ-৭৯)

হাদীসের বক্তব্যঃ

◾مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ أَخْبَرَنَا ابْنُ شِهَابٍ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ قَالَ كَيْفَ تَسْأَلُونَ أَهْلَ الْكِتَابِ عَنْ شَيْءٍ وَكِتَابُكُمْ الَّذِي أُنْزِلَ عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَحْدَثُ تَقْرَءُونَهُ مَحْضًا لَمْ يُشَبْ وَقَدْ حَدَّثَكُمْ أَنَّ أَهْلَ الْكِتَابِ بَدَّلُوا كِتَابَ اللهِ وَغَيَّرُوهُ وَكَتَبُوا بِأَيْدِيهِمْ الْكِتَابَ وَقَالُوا هُوَ مِنْ عِنْدِ اللهِ لِيَشْتَرُوا بِهِ ثَمَنًا قَلِيلاً أَلاَ يَنْهَاكُمْ مَا جَاءَكُمْ مِنْ الْعِلْمِ عَنْ مَسْأَلَتِهِمْ لاَ وَاللهِ مَا رَأَيْنَا مِنْهُمْ رَجُلاً يَسْأَلُكُمْ عَنْ الَّذِي أُنْزِلَ عَلَيْكُمْ
‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ইবনু ‘আববাস (রাঃ) বলেছেন, তোমরা কিভাবে আহলে কিতাবদেরকে কোন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর? অথচ তোমাদের কিতাব (আল-কুরআন) তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর এখন অবতীর্ণ হয়েছে, তা তোমরা পড়ছ যা পূত-পবিত্র ও নির্ভেজাল। এ কিতাব তোমাদেরকে জানিয়ে দিচ্ছে, আহলে কিতাবরা আল্লাহর কিতাবকে পরিবর্তিত ও বিকৃত করে দিয়েছে। তারা নিজ হাতে কিতাব লিখে তা আল্লাহর কিতাব বলে ঘোষণা দিয়েছে, যাতে এর দ্বারা সামান্য সুবিধা লাভ করতে পারে। তোমাদের কাছে যে ইল্ম আছে তা কি তোমাদেরকে তাদের কাছে কোন মাসআলা জিজ্ঞেস করতে নিষেধ করছে না? আল্লাহর কসম! আমরা তো তাদের কাউকে দেখিনি কখনো তোমাদের উপর নাযিল করা কিতাব সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞেস করতে। (সহীহ বুখারী,ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৬০)

উক্ত আয়াত ও হাদীস দ্বারা স্পষ্ট প্রমাণিত হল বর্তমানে প্রচলিত তাওরাত ও ইঞ্জিল বিকৃত করা হয়েছে ।

এছাড়াও বেদে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন শ্লোক যা হিন্দু পণ্ডিতরাই স্বীকার করেন। তারা এও বলে যে তাদের ধর্মগ্রন্থে অনেক কিছু যোগ বিয়োগ করা হয়েছে।

সুতরাং যাদের ধর্মগ্রন্থই বিকৃত,তাদের ধর্ম যে মানবরচিত মিথ্যা ধর্ম তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

পক্ষান্তরে কুরআন মাজীদ সম্পর্কে আল্লহ সুবাহানাহু ওয়া তা’য়ালার স্পষ্ট ঘোষণাঃ

◾اِنَّا نَحۡنُ نَزَّلۡنَا الذِّکۡرَ وَ اِنَّا لَہٗ لَحٰفِظُوۡنَ

আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতারণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক।(সূরা হিজর-৯)

তাই একথাই প্রতিয়মাণ হয় যে পৃথিবীর বুকে একমাত্র সত্যধর্ম হল ইসলাম।ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দ্বীন আল্লহ তা’য়ালার নিকট গ্রহণযোগ্য নয়।

যারা কুরআনের এমন সুস্পষ্ট বক্তব্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তারা কখনও হিযবুত তাওহীদ বা তাওহীদের দল হতে পারে না।বরং তাদের এই বক্তব্য স্পষ্ট কুফরের দিকে আহ্বান ।

হে হিযবুত তাওহীদের সমর্থক ভাই/বোনেরা!

একবারো ভেবে দেখেছেন কি ,তারা আপনাকে তাওহীদের চমকপ্রদ আহ্বানের অন্তরালে কুফরের দিকে নিয়ে যাচ্ছে কিনা?

আপনার সমীপে কুরআনের একটি আয়াত তুলে ধরছি।আশা করি আপনি আপনার মেধার যথাযথ প্রয়োগ করবেন।

আল্লহ তা’য়ালা ইরশাদ করেনঃ

الَّذِیۡنَ یَسۡتَمِعُوۡنَ الۡقَوۡلَ فَیَتَّبِعُوۡنَ اَحۡسَنَہٗ ؕ اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ ہَدٰىہُمُ اللّٰہُ وَ اُولٰٓئِکَ ہُمۡ اُولُوا الۡاَلۡبَابِ

যারা মনোনিবেশ সহকারে কথা শুনে, অতঃপর যা উত্তম, তার অনুসরণ করে। তাদেরকেই আল্লাহ সৎপথ প্রদর্শন করেন এবং তারাই বুদ্ধিমান।(সূরা যুমার-১৮)

10) হেযবুত তাওহীদ আন্তঃধর্মীয় ঐক্যে বিশ্বাসী

হেযবুত তাওহীদের বক্তব্যঃ
মানবজাতির বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা কাউকে কোনো বিশেষ ধর্মের দিকে আকৃষ্ট করাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি না।আমাদের কথা হচ্ছে আমরা সকলেই যদি শান্তি চাই,সকলেই যদি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি শান্তিময় পৃথিবী উপহার দিতে চাই এবং যদি সত্যই পরকাল বিশ্বাস করি এবং জান্নাত বা স্বর্গের আশা করি তবে এজন্য আমাদেরকে সকল প্রকার বিদ্বেষ ভুলে সম্প্রীতি সৃষ্টি করতে হবে,ঐক্যবদ্ধ হতেই হবে,এ কথাতে একমত হতে ধর্মব্যবসায়ীরা ছাড়া অন্য কারও আপত্তি থাকার কথা নয়।কিন্তু আমরা বিভিন্ন ধর্মের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হব কিসের ভিত্তিতে? সেটাই আজ খুঁজে বের করতে হবে ।
…………তাই শান্তি পেতে হলে আমাদেরকে স্রষ্টা আল্লাহর হুকুমের উপর ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।(সবার ঊর্ধ্বে মানবতা -১০)
পর্যালোচনাঃ
আমাদের এ আলোচনায় আমরা বিশেষভাবে ৪ টি পয়েন্টের উপর বিজ্ঞ পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।
১.আন্তঃধর্ম কি?
২.প্রচ্ছদ পর্যালোচনা
৩.ইসলামের দিকে দাওয়াতের গুরুত্ব
৪.আন্তঃধর্মীয় ঐক্য কি সম্ভব?
◾১.আন্তঃধর্ম কি?
এই সময়ে যেসব ফিতনা মুমিনদের ঈমান হরণে কাজ করছে তার মধ্যে অন্যতম হল আন্তঃধর্ম, যাকে আরবীতে বলা হয় ﻭﺣﺪﺓ ﺍﻷﺩﻳﺎن এবং এর ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে-interfaith .এটি একটি স্বতন্ত্র ও সক্রিয় মতবাদ ।এই মতবাদের মূল বিষয় হল-ইসলাম ছাড়া অন্যান্য ধর্মকেও ধর্মীয় সম-মর্যাদা দেয়া ও তার জন্য মুমিনদের অন্তরে ধর্মীয় সহানুভূতি প্রতিষ্ঠা করা। তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসগুলোকে ইসলামী দিক থেকে সত্যায়ন করে নেয়া।আরো স্পষ্ট করে বললে-এই ধারণা প্রতিষ্ঠা করা যে,ইসলাম হচ্ছে এমন ধর্ম যা বর্তমানে প্রচলিত সকল ধর্মকে সত্যায়ন করে।(নাউযুবিল্লাহ)
◾২.প্রচ্ছদ পর্যালোচনাঃ
প্রচ্ছদে দেখা যাচ্ছে তারা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এবং ইসলামের জন্য ‘আল্লাহ’ চিহ্নকে বাদ দিয়ে ইহুদীদের পক্ষ থেকে নির্ধারিত তারকা চিহ্নকে একই বৃত্তে এনে মানুষকে ইসলামের বিপরীতে “একটি নতুন কুফরী” ধর্মে ঐক্যবদ্ধ করার প্রয়াস চালিয়েছে ।(নাউযুবিল্লাহ)
◾৩.ইসলামের দিকে দাওয়াতের গুরুত্বঃ
হিযবুত তাওহীদ কোনো বিশেষ ধর্মের দিকে আকৃষ্ট করাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে না। অথচ,
⏩আল্লহ ﷻ কুরআন মাজীদে বলেনঃ

◾اِنَّ الدِّیۡنَ عِنۡدَ اللّٰہِ الۡاِسۡلَامُ
নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম।(সূরা আল ইমরান-১৯)

◾ﻭَﻣَﻦْ ﻳَﺒْﺘَﻎِ ﻏَﻴْﺮَ ﺍﻟْﺈِﺳْﻠَﺎﻡِ ﺩِﻳﻨًﺎ ﻓَﻠَﻦْ ﻳُﻘْﺒَﻞَ ﻣِﻨْﻪُ ﻭَﻫُﻮَ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺂﺧِﺮَﺓِ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺨَﺎﺳِﺮِﻳﻦَ
যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতি গ্রস্ত।(সূরা আল ইমরান-৮৫)

◾يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ

হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিৎ ঠিক তেমনিভাবে ভয় করতে থাক। এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।(সূরা আল ইমরান-১০২)

⏩রাসূল ﷺ বলেছেনঃ

◾وَالَّذِى نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لاَ يَسْمَعُ بِى أَحَدٌ مِنْ هَذِهِ الأُمَّةِ يَهُودِىٌّ وَلاَ نَصْرَانِىٌّ ثُمَّ يَمُوتُ وَلَمْ يُؤْمِنْ بِالَّذِى أُرْسِلْتُ بِهِ إِلاَّ كَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ

“মুহাম্মাদের জীবন যে সত্ত্বার হাতে, তার কসম করে বলছি, এই উম্মতের যে কেউ ইয়াহূদী হোক বা নাছারা হোক আমার কথা শোনে অথচ আমার রিসালাতের প্রতি ঈমান না আনা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, সে হবে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত” (মুসলিম হা/১৫৩; মিশকাত হা/১০ আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে)

◾عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ, أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِكِتَابٍ أَصَابَهُ مِنْ بَعْضِ أَهْلِ الْكُتُبِ , فَقَرَأَهُ عَلَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , فَغَضِبَ , وَقَالَ : ” أَمُتَهَوِّكُونَ فِيهَا يَا ابْنَ الْخَطَّابِ , وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ , لَقَدْ جِئْتُكُمْ بِهَا بَيْضَاءَ نَقِيَّةً , لَا تَسْأَلُوهُمْ عَنْ شَيْءٍ فَيُخْبِرُوكُمْ بِحَقٍّ فَتُكَذِّبُوا بِهِ , أَوْ بِبَاطِلٍ فَتُصَدِّقُوا بِهِ , وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ , لَوْ أَنَّ مُوسَى كَانَ حَيًّا , مَا وَسِعَهُ إِلَّا أَنْ يَتَّبِعَنِي

হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা) বর্ণনা করেছেন, একদা হযরত উমর ইবনে খাত্তাব (রা) আহলে কিতাবদের একটি কিতাব (কিতাবের একটি পৃষ্ঠা) হাতে করে নবী করিম ﷺ -এর নিকট নিয়ে আসলেন। তারপর সেটি নবীকরীম ﷺ -এর সামনে পাঠ করায় তিনি রাগান্বিত হন। তারপর তিনি বললেন হে ইবনে খাত্তাব! তোমরা কি কোনো দিশেহারা? কসম সেই সত্তার যার হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য খাটি ও নির্ভেজাল জিনিষ নিয়ে এসেছি।

কাজেই তোমরা তাদের (আহলে কিতাব) থেকে কিছু জিজ্ঞেস করবেনা। কেননা হয়ত (এমনও হতে পারে) তারা সত্য জিনিষ তোমাদের জানাল আর তোমরা তা মিথ্যা বললে, কিংবা তারা অসত্য কিছু জানাল আর তোমরা তা বিশ্বাস করে পেললে! সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, যদি মূসাও জীবিত থাকত তবে নিশ্চয় আমার আনুগত্য ছাড়া তাঁরও অবকাশ ছিলনা।” (মুসনাদে আহমদ, কিতাবুল ঈমান, হাদিস নং ১৪৮৫৯)।

এ সকল আয়াত ও হাদীস দ্বারা স্পষ্ট হয়ে গেল মুক্তির জন্য ইসলাম ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই।তাই দাওয়াত একমাত্র ইসলামের দিকেই হবে।অন্য কোন ধর্মের দিকে নয়।

অথচ হিযবুত তাওহীদ স্পষ্টভাবে বলছে বিশেষ কোনো ধর্মের দিকে আকৃষ্ট করাকে তারা গুরুত্বহীন মনে করে।(নাউযুবিল্লাহ)

এরপরেও কি তাদের ইসলামী দল বলার আর কোন সুযোগ আছে?

◾৪.আন্তঃধর্মীয় ঐক্য কি সম্ভব?

আন্তঃধর্মীয় ঐক্য একটি কুফরি মতবাদ।তাওহীদ ও কুফরের সাথে কখনও ঐক্য হওয়া সম্ভব নয়।

⏩আল্লহ ﷻ কুরআন মাজীদে ইরশাদ করেনঃ

◾یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَتَّخِذُوۡا عَدُوِّیۡ وَ عَدُوَّکُمۡ اَوۡلِیَآءَ تُلۡقُوۡنَ اِلَیۡہِمۡ بِالۡمَوَدَّۃِ وَ قَدۡ کَفَرُوۡا بِمَا جَآءَکُمۡ مِّنَ الۡحَقِّ
হে ঈমানদারগণ! আমার ও তোমাদের দুশমনদের প্রতি আকর্ষণ দেখিয়ে তাদের বন্ধু বানিয়ে নিও না,যেহেতু তারা সে সত্যকে অস্বীকার করেছে,যা তোমাদের নিকট এসেছে। (সূরা মুমতাহিনা-১)

◾لَا یَتَّخِذِ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ الۡکٰفِرِیۡنَ اَوۡلِیَآءَ مِنۡ دُوۡنِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ۚ وَ مَنۡ یَّفۡعَلۡ ذٰلِکَ فَلَیۡسَ مِنَ اللّٰہِ فِیۡ شَیۡءٍ اِلَّاۤ اَنۡ تَتَّقُوۡا مِنۡہُمۡ تُقٰىۃً ؕ وَ یُحَذِّرُکُمُ اللّٰہُ نَفۡسَہٗ ؕ وَ اِلَی اللّٰہِ الۡمَصِیۡرُ

মুমিনগন যেন অন্য মুমিনকে ছেড়ে কোন কাফেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যারা এরূপ করবে আল্লাহর সাথে তাদের কোন সম্পর্ক থাকবে না। তবে যদি তোমরা তাদের পক্ষ থেকে কোন অনিষ্টের আশঙ্কা কর, তবে তাদের সাথে সাবধানতার সাথে থাকবে আল্লাহ তা’আলা তাঁর সম্পর্কে তোমাদের সতর্ক করেছেন। এবং সবাই কে তাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে।(সূরা আল ইমরান-২৮)

◾یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَتَّخِذُوا الۡیَہُوۡدَ وَ النَّصٰرٰۤی اَوۡلِیَآءَ ۘؔ بَعۡضُہُمۡ اَوۡلِیَآءُ بَعۡضٍ ؕ وَ مَنۡ یَّتَوَلَّہُمۡ مِّنۡکُمۡ فَاِنَّہٗ مِنۡہُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الظّٰلِمِیۡنَ

হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।(সূরা মায়িদাহ-৫১)

◾وَ لَوۡ کَانُوۡا یُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰہِ وَ النَّبِیِّ وَ مَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡہِ مَا اتَّخَذُوۡہُمۡ اَوۡلِیَآءَ وَ لٰکِنَّ کَثِیۡرًا مِّنۡہُمۡ فٰسِقُوۡنَ

যদি তারা আল্লাহর প্রতি ও রসূলের প্রতি অবতীর্ণ বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করত, তবে কাফেরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করত না। কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকেই দুরাচার।(সূরা মায়িদাহ-৮১)

◾يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تُطِيعُوا الَّذِينَ كَفَرُوا يَرُدُّوكُمْ عَلَىٰ أَعْقَابِكُمْ فَتَنقَلِبُوا خَاسِرِينَ

হে মু’মিনগণ! যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তোমরা যদি তাদের কথা মান,তবে তারা তোমাদেরকে তোমাদের পেছন দিকে (কুফরের দিকে) ফিরিয়ে দেবে। ফলে তোমরা উল্টে গিয়ে কঠিনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।(সূরা আল ইমরান-১৪৯)

⏩রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ

◾من جامع الوشرك و سكن معه فانه مثله

“যে মুশরিকদের সাথে মিশে যায়/একত্রিত হয়/যোগ দেয়,এবং তাদের মাঝে বসবাস করে সে তাদের মতই।” (সুনানু আবি দাউদ,কিতাবুল জিহাদ,হা: ২৭৭৮; শাইখ আলবানীর(রাহঃ) মতে হাদিস হাসান,সহীহুল জামিঈস সগীর:২/২৭৯; হা:৬০৬২)

◾ لا تساكنوا المشركين و لا تجامعوهم فمن ساكنهم او جامعهم فليس منا

“মুশরিকদের সাথে বসবাস করও না,তাদের সাথে মিশেও যেও না/যোগ দিও না। যে কেউ তাদের সাথে বসবাস করে বা মিশে যায়/যোগ দেয় সে আমাদের কেউ নয়।” (ইমাম হাকিম,আল মুস্তাদরাক:২/১৪১; ইমাম হাকিমের (রাহঃ) মতে ইমাম বুখারীর (রাহঃ) শর্তে সহীহ,ইমাম যাহাবী(রাহঃ) একমত পোষণ করেছেন)

◾أَنَا بَرِيءٌ مِنْ كُلِّ مُسْلِمٍ يُقِيمُ بَيْنَ الْمُشْرِكِينَ

“মুশরিকদের মাঝে অবস্থানরত /বসবাসরত প্রত্যেক মুসলিমদের প্রতি আমি রুষ্ট।” (ইমাম ইবন হাজার আসকালানী,বুলুগুল মা’আম মিন আদিল্লাতিল আহকাম,হা: ১২৬৪, ইমাম ইবন হাজারের(রাহঃ) মতে সনদ সহীহ)
উল্লেখিত আয়াত ও হাদীসের বর্ণনাগুলো আমাদের স্পষ্টভাবে জানান দিচ্ছে যে,কাফেরদের সাথে মুসলিমদের কখনও ঐক্য হতে পারে না।যারা এর চেষ্টা করবে,তারা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত হবে।

11) রমজানে রোজা না রাখলে গুনাহ নেই!

হেযবুত তাওহীদের বক্তব্যঃ
আল্লাহ মানুষকে কষ্ট দিতে চান না,পরিশুদ্ধ করতে চান।তাই তিনি ইসলামের ভিতরে যেকোন বাড়াবাড়িকে হারাম করেছেন ।সাওম না রাখার জন্য তিনি কাউকে জাহান্নামে দিবেন বা শাস্তি দিবেন এমন কথা কোর’আনে কোথাও নেই। (সওমের উদ্দেশ্য-১৪; লিখক-হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম)
পর্যালোচনাঃ

প্রথমত, উক্ত বক্তব্য সরাসরি কুরআন-হাদীস পরিপন্থী ।

পবিত্র কুরআন মাজীদে আল্লহ ﷻ ইরশাদ করেনঃ

◾یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا کُتِبَ عَلَیۡکُمُ الصِّیَامُ کَمَا کُتِبَ عَلَی الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ لَعَلَّکُمۡ تَتَّقُوۡنَ

হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পার।(সূরা বাক্বারাহ-১৮৩)
এই আয়াতে স্পষ্টভাবে আল্লহ ﷻ রমজানের রোজাকে ফরজ ঘোষণা করেছেন ।রোজা দ্বীনের ৫ টি মূল ভিত্তির একটি।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ

◾ بُنِيَ الإِسْلامُ عَلَى خَمْسٍ : شَهَادَةِ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ ، وَإِقَامِ الصَّلاةِ ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ ، وَالْحَجِّ ، وَصَوْمِ رَمَضَان

“ইসলাম পাঁচটি রোকনের উপর প্রতিষ্ঠিত: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ ﷺ আল্লাহর রাসূল,নামায কায়েম করা, যাকাত দেওয়া, হজ্জ আদায় করা এবং রমজান মাসে রোজা পালন করা।”(সহীহ বুখারী-৪৫১৫)

সুতরাং যে ব্যক্তি রোজা ত্যাগ করল সে ইসলামের একটি রোকন ত্যাগ করল এবং কবিরা গুনাতে লিপ্ত হল।কবিরা গুনাহের কারণে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।
দ্বিতীয়ত, রোজা না রাখার শাস্তি সম্পর্কে শুধু কুরআনের আয়াত তলব করার উদ্দেশ্য কি? ইসলামের যাবতীয় হুকুম- আহকাম কি শুধু কুরআন থেকেই সাব্যস্ত হয়? হাদীস কি ইসলামী শরীয়ার দলিল নয়?
হাদীসের মধ্যে বিনা ওজরে রমজানের রোজা ত্যাগকারীদের ভয়াবহ শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে ।
আবুউমামা আল-বাহিলী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ

◾سمعت رسول الله ﷺ يقول : بينا أنا نائم إذ أتاني رجلان فأخذا بضبعيّ ( الضبع هو العضد ) فأتيا بي جبلا وعِرا ، فقالا : اصعد. فقلت: إني لا أطيقه . فقالا : إنا سنسهله لك. فصعدت حتى إذا كنت في سواء الجبل إذا بأصوات شديد، قلت : ما هذه الأصوات ؟ قالوا : هذا عواء أهل النار . ثم انطلق بي فإذا أنا بقوم معلقين بعراقيبهم ، مشققة أشداقهم ، تسيل أشداقهم دما ، قلت : من هؤلاء ؟ قال : هؤلاء الذين يفطرون قبل تحلة صومهم

আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেছি তিনি বলেনঃ একবার আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। এ সময় দুইজন মানুষ এসে আমার দুইবাহু ধরে আমাকে দুর্গম পাহাড়ে নিয়ে গেলো। সেখানে নিয়ে তারা আমাকে বললঃ পাহাড়ে উঠুন।আমি বললামঃ আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তারা বললঃ আমরা আপনার জন্য সহজ করে দিচ্ছি।তাদের আশ্বাস পেয়ে আমি উঠতে লাগলাম এবং পাহাড়ের চূড়া পর্যন্ত উঠে গেলাম। সেখানে প্রচণ্ড চিৎকারের শব্দ শোনা যাচ্ছিল।
আমি জিজ্ঞেস করলামঃ এটা কিসের শব্দ? তারা বললঃ এটা জাহান্নামী লোকদের চিৎকার।
এরপর তারা আমাকে এমন কিছু লোকদের কাছে নিয়ে এল যাদেরকে পায়ের টাখনুতে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের গাল ছিন্নবিন্ন, তা হতে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ এরা কারা? তিনি বললেনঃ এরা হচ্ছে এমন রোজাদার যারা রোজা পূর্ণের আগে ইফতার করত।”(সহীহ ইবনে খুযাইমাহ-১৯৮৬; সহীহ ইবনে হিব্বান -৭৪৯১)
এই শাস্তি হল তার জন্য যে রোজা রেখেছে; কিন্তু ইফতারের সময় হওয়ার পূর্বে ইচ্ছাকৃতভাবে ইফতার করে ফেলেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি মূলত রোজা-ই রাখেনি তার অবস্থা কি হতে পারে।
যারা হাদীসকে বাদ দিয়ে শুধু কুরআন থেকে দলিল গ্রহণ করতে চায় তাদের সম্পর্কে সচেতন করে দিয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ
◾জেনে রাখো আমাকে কিতাব (কুরআন) এবং তার সাথে অনুরূপ একটি বস্ত্ত দেয়া হয়েছে। অচিরেই এমন এক সময় আসবে যখন কোন পেটপুরে খাদ্য গ্রহণকারী (প্রাচুর্যবান) ব্যক্তি তার আসনে বসে বলবে, তোমরা শুধু এ কুরআনকেই গ্রহণ কর, তাতে যা হালাল পাবে তা হালাল আর তাতে যা হারাম পাবে তা হারাম মনে কর’ (আবুদাঊদ হা/৪৬০৫ ; মিশকাত হা/১৬২)।
অন্য হাদীসে এসেছে,
◾‘আমি যেন তোমাদের মধ্যে কাউকে এমন অবস্থায় না পাই যে, সে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে এবং তার নিকট যখন আমার আদিষ্ট কোন বিষয় অথবা আমার নিষেধ সম্বলিত কোন কিছু (হাদীস) উত্থাপিত হবে তখন সে বলবে, আমি তা জানি না, আল্লাহ তা‘আলার কিতাবে আমরা যা পেয়েছি, তারই অনুসরণ করব’ (আবুদাঊদ হা/৪৬০৪; মিশকাত হা/১৬৩)।
প্রিয় পাঠক! ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিধান সম্পর্কে এ ধরনের কুরআন হাদীস বহির্ভূত বক্তব্য প্রদান কি কোন সঠিক দলের বৈশিষ্ট্য হতে পারে?

12)  অনেক নবী-রাসূলগণ যেখানে ব্যর্থ সেখানে পন্নী সাহেব সফল!

পন্নী সাহেবের বক্তব্যঃ
একদম মহাসত্য পেয়েও যেখানে নবী রসুলদের মধ্যে অনেকে ব্যর্থ হোয়েছেন,পারেন নি,সেখানে আমি কে।আমি তো কেউ না,কিছুই না।কি হবে,কি হবে না-এই সংশয় আমার ছিল ২০০৮ সনের ফেব্রুয়ারীর দুই তারিখ পর্যন্ত,পূর্ণভাবে ছিল।যদিও সেটা আমাকে দমাতে পারে নি,এজন্য যে আমি চেষ্টা কোরে যাবো,নবী রসুলরা পারেন নি আর আমি কে? আমি চেষ্টা কোরে যাবো।মো’জেজার দিনটায় আল্লাহ আমার সব সংশয় অবসান কোরেছেন,জানিয়ে দিলেন নিজে যে,হবে,উনি কোরবেন,আমি না।(আল্লাহর মো’জেজা হেযবুত তওহীদের বিজয় ঘোষণা-৬৮)
পর্যালোচনাঃ
পন্নী সাহেবের এমন গর্হিত বক্তব্য নবী-রাসূল (আঃ) গণের রিসালাতের উপর মারাত্মক অপবাদ ছাড়া আর কিছুই নয়।আসুন কুরআনুল কারীম হতে তার প্রমাণ দেখি।
⏩নবী-রাসূলদের দায়িত্ব কি ছিল?
নবী-রাসূল (আঃ)-দের মূল দায়িত্ব ছিল তাওহীদের বাণী প্রচার করা।পবিত্র কুরআন মাজীদে আল্লহ ﷻ এর স্পষ্ট বিবরণ দিয়েছেন।যেমনঃ
?সকল রাসূলদের উদ্দেশ্য করে আল্লহ ﷻ ইরশাদ করেনঃ

◾وَ مَاۤ اَرۡسَلۡنَا مِنۡ قَبۡلِکَ مِنۡ رَّسُوۡلٍ اِلَّا نُوۡحِیۡۤ اِلَیۡہِ اَنَّہٗ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّاۤ اَنَا فَاعۡبُدُوۡنِ

আপনার পূর্বে আমি যে রাসূলই প্রেরণ করেছি, তাকে এ আদেশই প্রেরণ করেছি যে, আমি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। সুতরাং আমারই এবাদত কর।(সূরা আম্বিয়া-২৫)
?নূহ (আঃ) সম্পর্কে আল্লহ ﷻ ইরশাদ করেনঃ

◾لَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا نُوۡحًا اِلٰی قَوۡمِہٖ فَقَالَ یٰقَوۡمِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ مَا لَکُمۡ مِّنۡ اِلٰہٍ غَیۡرُہٗ

নিশ্চয় আমি নূহকে তার সম্প্রদায়ের প্রতি পাঠিয়েছি। সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন উপাস্য নেই। (সূরা আল-আ’রাফ-৫৯)
?হূদ (আঃ) সম্পর্কে আল্লহ ﷻ ইরশাদ করেনঃ

◾وَ اِلٰی عَادٍ اَخَاہُمۡ ہُوۡدًا ؕ قَالَ یٰقَوۡمِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ مَا لَکُمۡ مِّنۡ اِلٰہٍ غَیۡرُہٗ ؕ اَفَلَا تَتَّقُوۡنَ

আদ সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেছি তাদের ভাই হুদকে। সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর। তিনি ব্যতিত তোমাদের কোন উপাস্য নেই।(সূরা আল-আ’রাফ-৬৫)
?সালেহ (আঃ) সম্পর্কে আল্লহ ﷻ ইরশাদ করেনঃ

◾وَ اِلٰی ثَمُوۡدَ اَخَاہُمۡ صٰلِحًا ۘ قَالَ یٰقَوۡمِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ مَا لَکُمۡ مِّنۡ اِلٰہٍ غَیۡرُہٗ

সামুদ সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেছি তাদের ভাই সালেহকে। সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর। তিনি ব্যতিত তোমাদের কোন উপাস্য নেই। (সূরা আল-আ’রাফ-৭৩)
?শোয়ায়েব (আঃ) সম্পর্কে আল্লহ ﷻ ইরশাদ করেনঃ

◾وَ اِلٰی مَدۡیَنَ اَخَاہُمۡ شُعَیۡبًا ؕ قَالَ یٰقَوۡمِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ مَا لَکُمۡ مِّنۡ اِلٰہٍ غَیۡرُہٗ

আমি মাদইয়ানের প্রতি তাদের ভাই শোয়ায়েবকে প্রেরণ করেছি। সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর এবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন উপাস্য নেই। (সূরা আল-আ’রাফ-৮৫)
এ আয়াতগুলো হতে স্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছে যে নবী-রাসুলদের মূল দায়িত্ব ছিল “তাওহীদ” এর দাওয়াত ।
⏩তাঁরা কি তাঁদের দাওয়াত যথাযথভাবে পৌঁছিয়েছেন?
উত্তর হচ্ছে- অবশ্যই তাঁরা তাঁদের দাওয়াত যথাযথভাবে পৌঁছিয়েছেন।নূহ আঃ এর দাওয়াত প্রদান সম্পর্কে স্বয়ং আল্লহ ﷻ কুরআন মাজীদে বর্ণনা করেছেন এভাবেঃ

◾قَالَ رَبِّ اِنِّیۡ دَعَوۡتُ قَوۡمِیۡ لَیۡلًا وَّ نَہَارًا

সে বললঃ হে আমার পালনকর্তা! আমি আমার সম্প্রদায়কে দিবারাত্রি দাওয়াত দিয়েছি।(সূরা নূহ-৫)
◾فَلَمۡ یَزِدۡہُمۡ دُعَآءِیۡۤ اِلَّا فِرَارًا

কিন্তু আমার দাওয়াত তাদের পলায়নকেই বৃদ্ধি করেছে।(সূরা নূহ-৬)

◾وَ اِنِّیۡ کُلَّمَا دَعَوۡتُہُمۡ لِتَغۡفِرَ لَہُمۡ جَعَلُوۡۤا اَصَابِعَہُمۡ فِیۡۤ اٰذَانِہِمۡ وَ اسۡتَغۡشَوۡا ثِیَابَہُمۡ وَ اَصَرُّوۡا وَ اسۡتَکۡبَرُوا اسۡتِکۡبَارًا

আমি যতবারই তাদেরকে দাওয়াত দিয়েছি, যাতে আপনি তাদেরকে ক্ষমা করেন, ততবারই তারা কানে অঙ্গুলি দিয়েছে, মুখমন্ডল বস্ত্রাবৃত করেছে, জেদ করেছে এবং খুব ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেছে।
(সূরা নূহ-৭)
◾ثُمَّ اِنِّیۡ دَعَوۡتُہُمۡ جِہَارًا
অতঃপর আমি তাদেরকে প্রকাশ্যে দাওয়াত দিয়েছি।(সূরা নূহ-৮)

◾ثُمَّ اِنِّیۡۤ اَعۡلَنۡتُ لَہُمۡ وَ اَسۡرَرۡتُ لَہُمۡ اِسۡرَارًا

অতঃপর আমি ঘোষণা সহকারে প্রচার করেছি এবং গোপনে চুপিসারে বলেছি।(সূরা নূহ-৯)
এ থেকে বুঝা যায় তিনি তাঁর দায়িত্ব পালনে কোন ত্রুটি করেন নি।কিন্তু মানুষ তাঁর দাওয়াত গ্রহণ করে নি।এটি মোটেও তাঁর ব্যর্থতা নয়।
⏩মানুষ কর্তৃক দাওয়াত প্রত্যাখ্যান কি নবী-রাসূলদের দূর্বলতা/ব্যর্থতা?
মোটেও না,তাঁদের দায়িত্ব শুধু দাওয়াত পৌঁছে দেয়া। হিদায়াত আল্লহ তা’য়ালার নিকট।
পবিত্র কুরআন মাজীদে আল্লহ ﷻ ইরশাদ করেনঃ
◾فَہَلۡ عَلَی الرُّسُلِ اِلَّا الۡبَلٰغُ الۡمُبِیۡنُ

রাসূলের দায়িত্ব তো শুধুমাত্র সুস্পষ্ট বাণী পৌঁছিয়ে দেয়া।(সূরা নাহল-৩৫)

◾فَذَکِّرۡ ؕ اِنَّمَاۤ اَنۡتَ مُذَکِّرٌ . لَسۡتَ عَلَیۡہِمۡ بِمُصَۜیۡطِرٍ

অতএব, আপনি উপদেশ দিন, আপনি তো কেবল একজন উপদেশদাতা।আপনি তাদের শাসক নন।(সূরা গশিয়াহ-২১-২২)

◾یٰۤاَیُّہَا النَّبِیُّ اِنَّاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ شَاہِدًا وَّ مُبَشِّرًا وَّ نَذِیۡرًا .وَّ دَاعِیًا اِلَی اللّٰہِ بِاِذۡنِہٖ وَ سِرَاجًا مُّنِیۡرًا

হে নবী! আমি আপনাকে সাক্ষী, সুসংবাদ দাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি।এবং আল্লাহর আদেশক্রমে তাঁর দিকে আহবায়করূপে এবং উজ্জ্বল প্রদীপরূপে।(সূরা আহযাব-৪৫-৪৬)

উল্লেখিত আয়াত দ্বারা একথা স্পষ্ট যে, নবী-রাসূলদের দায়িত্ব শুধু দাওয়াত পৌঁছে দেয়া।হিদায়াত আল্লহ ﷻ এর এখতিয়ারে ।

আল্লহ ﷻ ইরশাদ করেনঃ
◾وَ اللّٰہُ یَدۡعُوۡۤا اِلٰی دَارِ السَّلٰمِ ؕ وَ یَہۡدِیۡ مَنۡ یَّشَآءُ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ

আর আল্লাহ্‌ শান্তির আবাসের দিকে আহ্বান করেন এবং যাকে ইচ্ছে সরল পথে পরিচালিত করেন ।(সূরা ইউনুস-২৫)
একই কথা বলা হয়েছে সূরা আল-আ’রাফ এর ১৮৬,সূরা বাক্বারাহ এর ২৭২ নং আয়াতসহ কুরআনের আরও অনেক আয়াতে।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রমাণিত হল যে, নবী-রাসূল (আঃ)-দের দায়িত্ব ছিল তাওহীদের দাওয়াত পৌঁছে দেয়া।কেউ সে দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করলে তার দায়ভার নবী-রাসূল (আঃ) -দের উপর বর্তায় না। হিদায়াতের মালিক আল্লহ ﷻ।সুতরাং নবী-রাসূল (আঃ)-গণ ব্যর্থ ছিলেন না,বরং তাঁরা সফল ছিলেন।তাদেরকে ব্যর্থ বলা তাঁদের রিসালাতের উপর মারাত্মক অপবাদ যা ঈমানের জন্য চরম ক্ষতিকর ।

13) সালাত ইবাদাত নয়

হেযবুত তাওহীদের বক্তব্যঃ

আল্লাহ মুসা (আ.) কে বলেছেন ,আমিই আল্লাহ,আমি ব্যতীত কোন এলাহ(হুকুমদাতা) নেই,অতএব আমার এবাদাত কর এবং আমার স্মরণার্থে সালাহ কায়েম কর (সূরা ত্বা-হা:১৪) এমনই আরো অনেক আয়াত থেকে সুস্পষ্ট হয়ে যায় যে এবাদত ও সালাহ আলাদা বিষয় ।প্রকৃতপক্ষে এবাদত হচ্ছে আল্লাহ কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব ।(চলমান সংকট নিরসনে আদর্শিক লড়াইয়ের অপরিহার্যতা-৯)

পর্যালোচনাঃ

বিজ্ঞ পাঠক,নিম্নের হাদীসটি লক্ষ করুনঃ

◾হজরত আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন, এক রাতে রাসূলুল্লাহ ﷺ আমার ঘরে এসে আমার সঙ্গে শয়ন করলেন। কিছুক্ষণ পর আমাকে বললেনঃ

يا عائشة ذريني أتعبد لربي، قالت: قلت: والله إني لأحب قربك، وأحب ما يسرك، قالت: فقام فتطهر، ثم قام يصلي، فلم يزل يبكي حتى بل حجره، ثم بكى. فلم يزل يبكي حتى بل الأرض

‘হে আয়েশা! আমি আমার রবের ইবাদত করতে চাই। আমাকে যেতে দাও।’ আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমি আপনার একান্ত কাছে থাকতে চাই। আবার এও চাই যে, আপনি মহান আল্লাহর ইবাদত করবেন। তিনি বিছানা থেকে উঠে পবিত্র হয়ে সালাতে দাঁড়ালেন। তিনি কাঁদতে আরম্ভ করলেন। কাঁদতে কাঁদতে তার দাঁড়ি ভিজে গেল, মাটি ভিজে গেল। তিনি কাঁদতে থাকলেন।(ইবনে হিব্বান : ৬২০)

এই হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ সালাতকে ইবাদাত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।যার উপর কুরআন মাজীদ অবতীর্ণ হয়েছে, সেই স্বয়ং রাসূলুল্লাহ ﷺ কুরআনকে বেশি বুঝেছেন নাকি হিযবুত তাওহীদ বেশি বুঝেছে?স্বয়ং রাসূলুল্লাহ ﷺ যেখানে সালাতকে ইবাদাত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সেখানে সালাতকে ইবাদাত থেকে পৃথক করার অধিকার হিযবুত তাওহীদেকে কে দিয়েছে ?

⏩পবিত্র কুরআন মাজীদে আল্লহ ﷻ ইরশাদ করেনঃ

◾اَلَّذِیۡنَ اِنۡ مَّکَّنّٰہُمۡ فِی الۡاَرۡضِ اَقَامُوا الصَّلٰوۃَ وَ اٰتَوُا الزَّکٰوۃَ وَ اَمَرُوۡا بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَ نَہَوۡا عَنِ الۡمُنۡکَرِ ؕ

তারা এমন লোক যাদেরকে আমি পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা দান করলে তারা সালাত কায়েম করবে, যাকাত দেবে এবং সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করবে। (সূরা হজ্জ-৪১)

◾وَ اَقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَ اٰتُوا الزَّکٰوۃَ ؕ

তোমরা সালাত কায়েম কর এবং জাকাত প্রদান কর। (সূরা বাকারা – ১১০)
◾اِنَّ الصَّلٰوۃَ کَانَتۡ عَلَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ کِتٰبًا مَّوۡقُوۡتًا

নিশ্চয় সালাত মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ। (সূরা নিসা -১০৩)
এই আয়াত গুলো থেকে কি প্রমাণ হয় না যে, সালাত মুমিন উপর আল্লাহ কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব?
এ আয়াতগুলো থেকে তো তাদের বক্তব্য অনুযায়ীও সালাত ইবাদাত হিসেবে সাব্যস্ত হয়।

14) আল্লাহর প্রতি ঈমান আনতে হবে যুক্তির ভিত্তিতে

হেযবুত তাওহীদের বক্তব্যঃ

আমরা মনে করি, আল্লাহ যদি চাইতেন সবাই আল্লাহর উপর ঈমান রাখবে সেটা আল্লাহ এক মুহূর্তেই করতে পারতেন।কিন্তু আল্লাহ চান মানুষ তার যুক্তি-বিচার দিয়ে আল্লাহকে জেনে নিক।মানুষের আসল পরীক্ষাটাই হল তার স্বাধীন ইচ্ছা শক্তি( Free will)।(চলমান সংকট নিরসনে আদর্শিক লড়াইয়ের অপরিহার্যতা-১৩)
পর্যালোচনাঃ

“আল্লাহ চান মানুষ তার যুক্তি-বিচার দিয়ে আল্লাহকে জেনে নিক” – এর স্বপক্ষে হিযবুত তাওহীদ কোন দলিল উল্লেখ করে নি।আল্লহ ﷻ এর উপর ঈমান আনয়নের মূল ভিত্তি যুক্তি নয় বরং ওহী।

⏩পবিত্র কুরআন মাজীদে আল্লহ ﷻ ইরশাদ করেনঃ
◾الَّذِیۡنَ یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡغَیۡبِ وَ یُقِیۡمُوۡنَ الصَّلٰوۃَ وَ مِمَّا رَزَقۡنٰہُمۡ یُنۡفِقُوۡنَ

যারা গায়েবের প্রতি ঈমান আনে, সালাত কায়েম করে এবং তাদেরকে আমি যা দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে।(সূরা বাক্বারাহ-৩)

উক্ত আয়াতে মুত্তাকীদের তিনটি গুণের উল্লেখ করা হয়েছে ।অদৃশ্যে বিশ্বাস স্থাপন, নামায প্রতিষ্ঠা করা এবং স্বীয় জীবিকা থেকে সৎপথে ব্যয় করা।আয়াতের মধ্যে কতগুলো জরুরি বিষয় সন্নিবেশিত হয়েছে তার মধ্যে একটি হল অদৃশ্যে বিশ্বাস স্থাপন ।

?ঈমানের সংজ্ঞাঃ ঈমানের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে পবিত্র কুরআনে দুটি শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে । (یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡغَیۡبِ )ঈমান এবং গায়েব।শব্দ দুটির অর্থ যথাযথভাবে অনুধাবন করলেই ঈমানের তাৎপর্য ও সংজ্ঞা হৃদয়ঙ্গম করা সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ ।

ঈমান শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে, কারো কথাকে তার বিশ্বস্ততার নিরিখে মনে-প্রাণে মেনে নেয়া।এজন্যই অনুভূতিগ্রাহ্য ও দৃশ্যমান কোন বস্তুতে কারো কথায় বিশ্বাস স্থাপন করার নাম ঈমান নয়।উদাহরণস্বরূপ বলা হয় যে,কোন ব্যক্তি যদি এক টুকরো সাদা কাপড়কে সাদা এবং কালো কাপড়কে কালো বলে এবং আরেক ব্যক্তি তার কথাকে সত্য বলে মেনে নেয় ,তাহলে একে ঈমান বলা যায় না।এতে বক্তার কোন প্রভাব বা দখল নেই।অপরদিকে রাসূল ﷺ এর কোন সংবাদ কেবল রাসূল ﷺ এর উপর বিশ্বাসবশতঃ মেনে নেয়াকেই শরীয়তের পরিভাষায় ঈমান বলে।

‘গায়েব’ (غيب) এর অর্থ হচ্ছে এমনসব বস্তু যা বাহ্যিকভাবে মানবকুলের জ্ঞানের উর্ধ্বে এবং যা মানুষ পঞ্চ-ইন্দ্রিয়ের দ্বারা অনুভব করতে পারে না, চক্ষু দ্বারা দেখতে পায় না, কান দ্বারা শুনতে পায় না, নাসিকা দ্বারা ঘাণ নিতে পারে না, জিহবা দ্বারা স্বাদ গ্রহণ করতে পারে না, হাত দ্বারা স্পর্শ করতে পারে না, ফলে সে সম্পর্কে জ্ঞান লাভও করতে পারে না।

কুরআনে ‘গায়েব'(غيب) শব্দ দ্বারা সে সমস্ত বিষয়কেই বোঝানো হয়েছে যেগুলোর সংবাদ রাসূল ﷺ দিয়েছেন এবং মানুষ যে সমস্ত বিষয়ে স্বীয় বুদ্ধিবলে ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অভিজ্ঞতার মধ্যমে জ্ঞান লাভে সম্পূর্ণ অক্ষম।

‘গায়েব’ শব্দ দ্বারা ঈমানের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে আল্লাহর অস্তিত্ব ও সত্তা, সিফাত বা গুণাবলী এবং তাকদীর সম্পর্কিত বিষয়সমূহ, জান্নাত-জাহান্নামের অবস্থা, কেয়ামত এবং কেয়ামতে অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘটনাসমূহ, ফেরেশতাকুল, সমস্ত আসমানী কিতাব, পূর্ববর্তী সকল নবী ও রাসূলগণের বিস্তারিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত যা সূরা বাকারার (امن الرسول) আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঈমানের মূল ভিত্তি ‘গায়েব’ বা অদৃশ্য বিষয়াদির উপর।স্রষ্টার অস্তিত্ব, তাঁর গুণাবলী, ফিরিশতা,সৃষ্টিজগতের সাথে স্রষ্টার সম্পর্ক, পরকালীন জীবন ইত্যাদি সবই মূলত অদৃশ্য বিষয় ।পঞ্চ-ইন্দ্রিয় বা মানবীয় জ্ঞান, বুদ্ধি বা বিবেক দিয়ে এগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না।মানবীয় জ্ঞান, বুদ্ধি বা বিবেক এগুলোর বাস্তবতা ও সম্ভাব্যতা অনুভব ও স্বীকার করে।কিন্তু এগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারে না।এ বিষয়ে যুক্তি বা বুদ্ধি দিয়ে অনেক বিতর্ক করা সম্ভব, তবে কোনো সুনির্ধারিত ঐকমত্যে পৌঁছানো যায় না।এজন্যই মূলত ঈমানের বিষয়ে ওহীর উপর নির্ভর করতে হয়।

বিশ্বাস বা ঈমানের ভিত্তি হলো জ্ঞান ।কোনো বিষয়ে বিশ্বাস করতে হলে তাকে জানতে হবে।মানবীয় জ্ঞানের বিভিন্ন উৎস রয়েছে ।লোকাচার,যুক্তি, অভিজ্ঞতা, দর্শন ,ল্যাবরেটরির গবেষণা ইত্যাদি বিভিন্ন উৎস থেকে মানুষ জ্ঞান অর্জন করে।

এখন প্রশ্ন হলো, ঈমান-আক্বীদা বিষয়ক জ্ঞানের উৎস কি?ঈমানী জ্ঞানের একমাত্র উৎস-‘ওহী’।

এজন্য কুরআন ও হাদীসে একদিকে যেমন ওহীর জ্ঞানের উপর ঈমানের ভিত্তি স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অপরদিকে তেমনি লোকাচার, কুসংস্কার, নিজের ব্যক্তিগত যুক্তি ও পছন্দের উপর বিশ্বাসের ভিত্তি স্থাপন করতে বিশেষভাবে নিষেধ করা হয়েছে এবং একে পথভ্রষ্টতার অন্যতম কারণ বলা হয়েছে ।

পবিত্র কুরআন মাজীদে আল্লহ ﷻ ইরশাদ করেনঃ

◾اِتَّبِعُوۡا مَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡکُمۡ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ وَ لَا تَتَّبِعُوۡا مِنۡ دُوۡنِہٖۤ اَوۡلِیَآءَ ؕ قَلِیۡلًا مَّا تَذَکَّرُوۡنَ

তোমরা অনুসরণ কর, যা তোমাদের প্রতি পালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য সাথীদের অনুসরণ করো না।(সূরা আ’রাফ-৩)

ওহীর বিপরীতে ওহীকে প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে যুগে যুগে মানুষের যুক্তি ও প্রমাণ ছিল সামাজিক প্রচলন, পূর্বপুরুষদের বিশ্বাস বা নিজেদের ব্যক্তিগত পছন্দ ।কুরআনে একে মানব সমাজের বিভ্রান্তির মূল কারণ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে ।
নিঃসন্দেহে, গায়েব বা অদৃশ্য জগত সম্পর্কে ওহীর বাইরে যা কিছু বলা হয় সবই ধারণা, অনুমান, আন্দায বা কল্পনা হতে বাধ্য।এরকম একটি নড়বড়ে মাধ্যমে আল্লাহ তা’য়ালাকে জেনে নেয়ার কথা বলা কোনো বুদ্ধিমানের বক্তব্য হতে পারে না।সুস্পষ্ট দ্ব্যর্থহীন বিবেক ও যুক্তিগ্রাহ্য ওহীকে প্রত্যাখ্যান করে এরূপ আন্দায বা ধারণাকে বিশ্বাসের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা নিজের মর্জি বা প্রবৃত্তির অনুসরণ বৈ কিছুই নয়।

কোথায় যাচ্ছেন? আরো নতুন কিছু জানার জন্য এই লেখাটি পড়ুনঃ   খিলাফত বিষয়ক আয়াত

এ বিষয়ে পবিত্র কুরআন মাজীদে আল্লহ ﷻ ইরশাদ করেনঃ

◾وَ مَنۡ اَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ ہَوٰىہُ بِغَیۡرِ ہُدًی مِّنَ اللّٰہِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الظّٰلِمِیۡنَ

আল্লাহর হেদায়েতের পরিবর্তে যে ব্যক্তি নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার চাইতে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে? নিশ্চয় আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে পথ দেখান না।(সূরা কাসাস-৫০)

◾بَلِ اتَّبَعَ الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡۤا اَہۡوَآءَہُمۡ بِغَیۡرِ عِلۡمٍ ۚ فَمَنۡ یَّہۡدِیۡ مَنۡ اَضَلَّ اللّٰہُ ؕ وَ مَا لَہُمۡ مِّنۡ نّٰصِرِیۡنَ

বরং যালিমরা অজ্ঞতাবশত তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করে, কাজেই আল্লাহ্ যাকে পথভ্রষ্ট করেন কে তাকে হিদায়াত দান করবে? আর তাদের কোন সাহাযাকারী নেই।(সূরা রূম-২৯)

এভাবে আমরা দেখতে পাই যে ,ঈমানের ভিত্তি অবশ্যই ওহীর জ্ঞানের উপর হতে হবে ।

কুরআনুল কারীমে ঈমানের মডেল হিসেবে সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) কে উপস্থাপন করে আল্লহ ﷻ ইরশাদ করেনঃ

اٰمِنُوۡا کَمَاۤ اٰمَنَ النَّاسُ
অন্যান্যরা(সাহাবীরা) যেভাবে ঈমান এনেছে তোমরাও সেভাবে ঈমান আন।(সূরা বাক্বারাহ-১৩)

ইসলামের বিশ্বাস বিষয়ক নির্দেশাবলির ক্ষেত্রে সাহাবী(রাঃ) গণের নীতি ছিল যে,কুরআনুল কারীমে বা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর মুখে এ বিষয়ে যা কিছু তাঁরা শুনেছেন বা জেনেছেন, সেগুলোকে বিনা বাক্যে ও নির্দ্বিধা বিশ্বাস করেছেন ।এগুলোর বিষয়ে অকারণ যুক্তিতর্কের আরোপ করেন নি।তাদের কর্মপদ্ধতি ছিল
سَمِعۡنَا وَ اَطَعۡنَا ؕ

আমরা শুনলাম ও মেনে নিলাম।(সূরা নূর-৫১)

আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ

لَوْ كَانَ الدِّيْنُ بِالرَّاْىِ لَكَانَ اَسْفَلَ الْخُفِّ اَوْلى بِالْمَسْحِ مِنْ اَعْلَاهُ وَقَدْ رَاَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَمْسَحُ عَلى ظَاهِرِ خُفَّيْهِ

দ্বীন যদি (মানুষের জন্য) বুদ্ধি অনুসারেই হতো, তাহলে মোজার উপরের চেয়ে নীচের দিকে মাসাহ করাই উত্তম হত। আমি রসূলুল্লাহ ﷺ কে দেখেছি যে, তিনি তাঁর মোজার উপরের দিক মাসাহ করেছেন।(সুনানে আবু দাউদ-১৬২)

পবিত্র কুরআন মাজীদে আল্লহ ﷻ ইরশাদ করেনঃ
◾الَّذِیۡ خَلَقَ الۡمَوۡتَ وَ الۡحَیٰوۃَ لِیَبۡلُوَکُمۡ اَیُّکُمۡ اَحۡسَنُ عَمَلًا ؕ وَ ہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡغَفُوۡرُ ۙ

যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন, যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন-কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাময়।(সূরা মূলক-২)

এই আয়াত থেকে বুঝা যায় আল্লহ ﷻ মানুষকে পরীক্ষা করছেন ।এরমধ্যে যারা ঈমান আনয়ন করবে তারা সফলকাম ।কিন্তু সেই ঈমানের ভিত্তি হতে হবে ওহী, যুক্তি নয়।উপরোক্ত আলোচনা হতে তা প্রমাণিত হয়েছে ।

সুতরাং হিযবুত তাওহীদের বক্তব্য চরম বিভ্রান্তিকর ।

15) দাজ্জাল কোনো মানুষ নয়,পাশ্চাত্য বস্তুবাদী ইহুদি খ্রিস্টান যান্ত্রিক সভ্যতাই হচ্ছে দাজ্জাল।

হেযবুত তাওহীদের বক্তব্যঃ
পাশ্চাত্য বস্তুবাদী ইহুদি খ্রিস্টান যান্ত্রিক সভ্যতাই হচ্ছে বিশ্বনবী বর্ণিত সেই দাজ্জাল,যে দানব ৪৭৫ বছর আগেই জন্ম নিয়ে তার শৈশব, কৌশর পার হয়ে বর্তমানে যৌবনে উপনীত হয়েছে এবং দোর্দণ্ড প্রতাপে সারা পৃথিবীকে পদদলিত করে চলছে; আজ মুসলিমসহ সমস্ত পৃথিবী অর্থাৎ মানবজাতি তাকে প্রভু বলে মেনে নিয়ে তার পায়ে সাজদায় পোড়ে আছে। (মহাসত্যের আহ্বান-১৮)
দাজ্জাল এমন কোন বস্তু নয় যা চোখে দেখা যায়( Visible) বা স্পর্শ করা যায় ( Tangible) ।
বর্তমান ইহুদি-খ্রিষ্টান সভ্যতাই হচ্ছে সেই মহাশক্তিধর দানব দাজ্জাল এবং যান্ত্রিক প্রযুক্তি হচ্ছে তার বাহন।(মহাসত্যের আহ্বান-১৯)
পর্যালোচনাঃ

দাজ্জাল একজন মানুষ। তা কোন সভ্যতার নাম নয়। কেননা, রাসুল ﷺ এর হাদীস সমূহে দাজ্জাল নামক ব্যক্তির অনেক বৈশিষ্ট্য উল্লেখিত হয়েছে। সেগুলো দিয়ে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, সে একজন রক্তমাংশে গড়া আমাদের মতই মানব সন্তান। সেও মায়ের পেট থেকেই দুনিয়ায় এসেছে। আসুন! দাজ্জাল যে মানুষ, কোন সভ্যতা নয় এ ব্যাপারে রাসুল ﷺ এর কয়েকটি অকাট্য হাদীসে চোখ বুলিয়ে নিইঃ

◾১.ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ

بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ أَطُوفُ بِالْكَعْبَةِ فَإِذَا رَجُلٌ آدَمُ سَبْطُ الشَّعَرِ يَنْطُفُ أَوْ يُهَرَاقُ رَأْسُهُ مَاءً قُلْتُ مَنْ هَذَا قَالُوا ابْنُ مَرْيَمَ ثُمَّ ذَهَبْتُ أَلْتَفِتُ فَإِذَا رَجُلٌ جَسِيمٌ أَحْمَرُ جَعْدُ الرَّأْسِ أَعْوَرُ الْعَيْنِ كَأَنَّ عَيْنَهُ عِنَبَةٌ طَافِيَةٌ قَالُوا هَذَا الدَّجَّالُ أَقْرَبُ النَّاسِ بِهِ شَبَهًا ابْنُ قَطَنٍ رَجُلٌ مِنْ خُزَاعَةَ

আমি ঘুমের অবস্থায় দেখতে পেলাম যে, আমি কা‘বার তাওয়াফ করছি। হঠাৎ একজন লোককে দেখতে পেলাম ধূসর বর্ণের আলুথালু কেশধারী, তার মাথা থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে কিংবা টপকে পড়ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? লোকেরা বলল, ইনি মারিয়ামের পুত্র। এরপর আমি তাকাতে লাগলাম, হঠাৎ দেখতে পেলাম, এক ব্যক্তি স্থুলকায় লাল বর্ণের, কোঁকড়ানো চুল, এক চোখ কানা, চোখটি যেন ফোলা আঙ্গুরের মত। লোকেরা বলল এ-হল দাজ্জাল! তার সঙ্গে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ লোক হল ইবনু কাতান, বানী খুযা‘আর এক লোক। (সহীহ বুখারী-৭১২৮)

⏭ এখানে স্পষ্ট رَجُلٌ (ব্যক্তি) শব্দ এসেছে ।এরপর তাকে ইবনু কাতান নামক এক লোকের সাথে তুলনা করা হয়েছে ।কোন সভ্যতা কি মানুষের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? এতে স্পষ্ট হয় দাজ্জাল মানুষ হবে।

◾২. নাওয়াস ইবনু সামআন (রাঃ) থেকে বর্ণিত,
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ

إِنَّهُ شَابٌّ قَطَطٌ عَيْنُهُ طَافِئَةٌ كَأَنِّي أُشَبِّهُهُ بِعَبْدِ الْعُزَّى بْنِ قَطَنٍ فَمَنْ أَدْرَكَهُ مِنْكُمْ فَلْيَقْرَأْ عَلَيْهِ فَوَاتِحَ سُورَةِ الْكَهْفِ

দাজ্জাল যুবক এবং কোঁকড়া চুল বিশিষ্ট হবে। তার চক্ষু হবে স্ফীত আঙ্গুরের ন্যায়। আমি তাকে কাফির আবদুল উযযা ইবনু কাতানের সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করছি। তোমাদের যে কেউ দাজ্জালের সময়কাল পাবে সে যেন সূরা কাহফের প্রথমোক্ত আয়াত সমুহ পাঠ করে।(সহীহ মুসলিম-৭১০৬)

⏭এই হাদীসে شَابٌّ (যুবক) শব্দ এসেছে ।সভ্যতা কি যুবক হতে পারে?

◾৩.আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) বর্ণনা করেনঃ

حَدَّثَنَا رَسُولُ اللهِ ﷺ يَوْمًا حَدِيثًا طَوِيلاً عَنْ الدَّجَّالِ فَكَانَ فِيمَا يُحَدِّثُنَا بِهِ أَنَّهُ قَالَ يَأْتِي الدَّجَّالُ وَهُوَ مُحَرَّمٌ عَلَيْهِ أَنْ يَدْخُلَ نِقَابَ الْمَدِينَةِ فَيَنْزِلُ بَعْضَ السِّبَاخِ الَّتِي تَلِي الْمَدِينَةَ فَيَخْرُجُ إِلَيْهِ يَوْمَئِذٍ رَجُلٌ وَهُوَ خَيْرُ النَّاسِ أَوْ مِنْ خِيَارِ النَّاسِ فَيَقُولُ أَشْهَدُ أَنَّكَ الدَّجَّالُ الَّذِي حَدَّثَنَا رَسُولُ اللهِ ﷺ حَدِيثَهُ فَيَقُولُ الدَّجَّالُ أَرَأَيْتُمْ إِنْ قَتَلْتُ هَذَا ثُمَّ أَحْيَيْتُهُ هَلْ تَشُكُّونَ فِي الأَمْرِ فَيَقُولُونَ لاَ فَيَقْتُلُهُ ثُمَّ يُحْيِيهِ فَيَقُولُ وَاللهِ مَا كُنْتُ فِيكَ أَشَدَّ بَصِيرَةً مِنِّي الْيَوْمَ فَيُرِيدُ الدَّجَّالُ أَنْ يَقْتُلَهُ فَلاَ يُسَلَّطُ عَلَيْهِ

একদিন নাবী ﷺ আমাদের কাছে দাজ্জাল সম্পর্কে দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করলেন। তিনি তার সম্পর্কে আমাদেরকে যা কিছু বলেছিলেন, তাতে এও বলেছেন যে, দাজ্জাল আসবে, তবে মাদ্বীনাহর প্রবেশপথে তার প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ থাকবে। মাদ্বীনাহর নিকটবর্তী বালুময় একটি স্থানে সে অবস্থান নিবে। এ সময় তার দিকে এক ব্যক্তি আসবে, যে মানুষের মাঝে উত্তম। কিংবা উত্তম ব্যক্তিদের একজন। সে বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুই সেই দাজ্জাল, যার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ আমাদের কাছে তাঁর হাদীস বর্ণনা করেছেন। তখন দাজ্জাল বলবে, তোমরা দেখ- আমি যদি একে হত্যা করে আবার জীবিত করে দেই তাহলে কি তোমরা এ ব্যাপারে সন্দেহ করবে? লোকেরা বলবে, না। এরপর সে তাকে হত্যা করবে এবং আবার জীবিত করবে। তখন সে লোকটি বলবে, আল্লাহর কসম! তোর সম্পর্কে আজকের মত দৃঢ় বিশ্বাসী ছিলাম না। তখন দাজ্জাল তাকে হত্যা করতে চাইবে। কিন্তু সে তা করতে পারবে না। (সহীহ বুখারী-১৮৮২)

⏭কোন সভ্যতা কি মানুষের সাথে কথপোকথন করতে পারে?হিযবুত তাওহীদের ঘোষিত দাজ্জালীয় সভ্যতার সাথে এ ধরনের কোন কথপোকথনের প্রমাণ আছে কি?ইহুদি-খ্রিস্টানদের প্রযুক্তির মাধ্যমে কি মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করা সম্ভব হয়েছে?

◾৪.মদীনায় ইবনুস সাইয়াদ নামে এক ছেলের জন্ম হল যার দৈহিক অবয়ব হাদীসে বর্ণিত দাজ্জালের অবয়বের সাথে মিলে যায়।ইবনুস সাইয়াদকে রাসূল ﷺ দাজ্জাল সন্দেহ করেছিলেন।এজন্য পরীক্ষার জন্য সাহাবাদের নিয়ে তাকে দেখতে গেলেন।তার সাথে কথোপকথনের এক পর্যায়ে উমার (রাঃ) বললেনঃ

دَعْنِي يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَضْرِبْ عُنُقَهُ فَقَالَ النَّبِيُّ إِنْ يَكُنْهُ فَلَنْ تُسَلَّطَ عَلَيْهِ وَإِنْ لَمْ يَكُنْهُ فَلاَ خَيْرَ لَكَ فِي قَتْلِهِ

আমাকে অনুমতি দিন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। নাবী ﷺ ইরশাদ করলেন : যদি সে সে-ই (অর্থাৎ মাসীহ্ দাজ্জাল) হয়ে থাকে, তাহলে তাকে কাবূ করার ক্ষমতা তোমাকে দেয়া হবে না। আর যদি সে-ই (দাজ্জাল) না হয়, তাহলে তাকে হত্যা করার মধ্যে তোমার কোন কল্যাণ নেই।(সহীহ বুখারী-১৩৫৪)

⏭উক্ত ইবনুস সাইয়াদ ছিল একজন মানুষ।
দাজ্জাল কোন সভ্যতা হলে রাসূল ﷺ কোন ব্যক্তিকে দাজ্জাল বলে সন্দেহ করতেন না।

◾৫. নাওয়াস ইবনু সামআন (রাঃ) থেকে বর্ণিত,রাসূল ﷺ কে দাজ্জালের স্থায়ীত্বকাল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেনঃ

أَرْبَعُونَ يَوْمًا يَوْمٌ كَسَنَةٍ وَيَوْمٌ كَشَهْرٍ وَيَوْمٌ كَجُمُعَةٍ وَسَائِرُ أَيَّامِهِ كَأَيَّامِكُمْ ‏”‏ ‏.‏ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَذَلِكَ الْيَوْمُ الَّذِي كَسَنَةٍ أَتَكْفِينَا فِيهِ صَلاَةُ يَوْمٍ قَالَ ‏”‏ لاَ اقْدُرُوا لَهُ قَدْرَهُ
চল্লিশ দিন পর্যন্ত। এর প্রথম দিনটি এক বছরের সমান, দ্বিতীয় দিন এক মাসের সমান এবং তৃতীয় দিন এক সপ্তাহের সমান হবে। অবশিষ্ট দিনগুলো তোমাদের দিনসমূহের মতই হবে।

আমরা জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! যেদিন এক বছরের সমান হবে, উহাতে এক দিনের সালাতই কি আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে? জবাবে তিনি বললেন, না, বরং তোমরা এদিন হিসাবে ঐ দিনের পরিমাণ নির্ধারণ করে নিবে।(সহীহ মুসলিম-৭১০৬)

⏭এই হাদীসে দাজ্জালের স্থায়িত্বকাল বর্ণনা করা হয়েছে ।এসময় সময়ের অস্বাভাবিক আবর্তনের ফলে সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) রাসূল নামাজ পড়ার ﷺ পদ্ধতি সম্পর্কে জানাতে চাইলে রাসূল ﷺ তা বাতলে দিয়েছেন ।হিযবুত তাওহীদের দাবিকৃত দাজ্জাল আবির্ভাবের পর এধরনের কোন ঘটনা ঘটেছে কি?

◾৬. ফাতিমা বিনত কায়স রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যেঃ

أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ ﷺ صَعِدَ الْمِنْبَرَ فَضَحِكَ فَقَالَ ‏ “‏ إِنَّ تَمِيمًا الدَّارِيَّ حَدَّثَنِي بِحَدِيثٍ فَفَرِحْتُ فَأَحْبَبْتُ أَنْ أُحَدِّثَكُمْ حَدَّثَنِي أَنَّ نَاسًا مِنْ أَهْلِ فِلَسْطِينَ رَكِبُوا سَفِينَةً فِي الْبَحْرِ فَجَالَتْ بِهِمْ حَتَّى قَذَفَتْهُمْ فِي جَزِيرَةٍ مِنْ جَزَائِرِ الْبَحْرِ فَإِذَا هُمْ بِدَابَّةٍ لَبَّاسَةٍ نَاشِرَةٍ شَعْرَهَا

فَقَالُوا مَا أَنْتِ

قَالَتْ أَنَا الْجَسَّاسَةُ ‏.‏

قَالُوا فَأَخْبِرِينَا ‏.‏

قَالَتْ لاَ أُخْبِرُكُمْ وَلاَ أَسْتَخْبِرُكُمْ وَلَكِنِ ائْتُوا أَقْصَى الْقَرْيَةِ فَإِنَّ ثَمَّ مَنْ يُخْبِرُكُمْ وَيَسْتَخْبِرُكُمْ ‏.‏

فَأَتَيْنَا أَقْصَى الْقَرْيَةِ فَإِذَا رَجُلٌ مُوثَقٌ بِسِلْسِلَةٍ فَقَالَ أَخْبِرُونِي عَنْ عَيْنِ زُغَرَ ‏.‏ قُلْنَا مَلأَى تَدْفُقُ ‏.‏ قَالَ أَخْبِرُونِي عَنِ الْبُحَيْرَةِ قُلْنَا مَلأَى تَدْفُقُ ‏.‏

قَالَ أَخْبِرُونِي عَنْ نَخْلِ بَيْسَانَ الَّذِي بَيْنَ الأُرْدُنِّ وَفِلَسْطِينَ هَلْ أَطْعَمَ قُلْنَا نَعَمْ ‏.‏

قَالَ أَخْبِرُونِي عَنِ النَّبِيِّ هَلْ بُعِثَ قُلْنَا نَعَمْ ‏.‏

قَالَ أَخْبِرُونِي كَيْفَ النَّاسُ إِلَيْهِ قُلْنَا سِرَاعٌ ‏.‏

قَالَ فَنَزَّ نَزْوَةً حَتَّى كَادَ ‏.‏

قُلْنَا فَمَا أَنْتَ قَالَ إِنَّهُ الدَّجَّالُ وَإِنَّهُ يَدْخُلُ الأَمْصَارَ كُلَّهَا إِلاَّ طَيْبَةَ ‏.‏ وَطَيْبَةُ الْمَدِينَةُ

একবার নাবী ﷺ মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং হাসলেন। পরে বললেনঃ তামীম দারী আমাকে একটি বিষয় বর্ণনা করেছে। বিষয়টি শুনে আমি খুশী হয়েছি। সুতরাং সে বিষয়টি তোমাদেরকে বর্ণনা করতে আমি ভাল মনে করি ফিলিস্তিনবাসী কিছু লোক জাহাজে সওয়ার হয়ে সমুদ্র যাত্রা করছিল। পথে তারা ঝড়ে পড়ে দিকভ্রান্ত হয়ে যায় এবং তারা সাগরের এক অজানা দীপে যেয়ে নিপতিত হয়। সেখানে তারা এক বিভ্রান্তকারী প্রাণীর তারা দেখা পায়। এর তুন ছিল চতুর্দিকে বিস্তৃত। তাঁরা বললঃ তুমি কে?

প্রাণীটি বললঃ আমি হলাম জাসসাসা (অনুসন্ধানী)।

তারা বললঃ আমাদের কিছু অনুসন্ধান দাও।

প্রাণীটি বললঃ তোমাদের আমি কিছু জানাবনা এবং তোমাদের কাছে কিছু জানতেও চাইব না। বরং তোমরা এই বস্তিটির মেষভাগে চল। সেখানে এমন একজন আছে যে তোমাদের কিছু জানাতে পারবে এবং তোমাদের কাছ থেকে কিছু জানতেও চাইবে।

তারপর আমরা বস্তিটির শেষ প্রান্তে গেলাম। দেখি, সেখানে একটি লোককে জিঞ্জির দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। সে বললঃ আমাকে তোমরা যুগার (শামের এক এলাকা) ঝর্না সম্পর্কে বলতো? আমরা বললামঃ সেটি তো পানি ভর্তি। এখনো পানি সবেগে প্রবাহিত হচ্ছে। সে বললঃ তাবারীয়া উপসাগর কেমন বলতো? আমরা বললামঃ সেটি তো পানিতে পরিপূর্ণ, সবেগে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

সে বললঃ জর্ডান এবং ফিলিস্তিনের মধ্যবর্তী বায়সান খেজুর উদ্যানটি কেমন? এখনও কি ফল উৎপাদিত হয়? আমরা বললামঃ হ্যাঁ।

সে বললঃ নাবী সম্পর্কে বলতো, তিনি কি আবির্ভুত হয়েছেন।

আমরা বললামঃ হ্যাঁ।

সে বললেনঃ মানুষ তাঁর দিকে কেমন ধাবিত হচ্ছে?

আমরা বরলামঃ খুবই দ্রুত।

তামীম দারী বলেনঃ (এই কথা শুনে) সে এমন এক লাফ দিল যে বন্ধন ছিন্ন করে ফেলছিল প্রায়।

আমরা বললামঃ তুমি কে?

সে বললঃ আমিই দাজ্জাল।

এ দাজ্জাল তায়বা ছাড়া সব ঘরেই প্রবেশ করবে। তায়বা হল মদীনা।

(সুনানে তিরমিজী-২২৫৬ ,সহীহ মুসলিম-৭২৭৬)

⏭এই দীর্ঘ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে তামীম দারী (রাঃ) দাজ্জালকে শৃঙ্খলবদ্ধ অবস্থায় দেখেছেন ।কোন সভ্যতাকে কি বেঁধে রাখা যায়?

◾৭. আবু হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ

فَإِذَا جَاءُوا الشَّأْمَ خَرَجَ فَبَيْنَمَا هُمْ يُعِدُّونَ لِلْقِتَالِ يُسَوُّونَ الصُّفُوفَ إِذْ أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَيَنْزِلُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ فَأَمَّهُمْ فَإِذَا رَآهُ عَدُوُّ اللَّهِ ذَابَ كَمَا يَذُوبُ الْمِلْحُ فِي الْمَاءِ فَلَوْ تَرَكَهُ لاَنْذَابَ حَتَّى يَهْلِكَ وَلَكِنْ يَقْتُلُهُ اللَّهُ بِيَدِهِ فَيُرِيهِمْ دَمَهُ فِي حَرْبَتِهِ

তারা(মুসলিমরা) যখন সিরিয়া পৌছবে তখন দাজ্জালের আগমন ঘটবে।যখন মুসলিম বাহিনী যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে এবং সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান হতে শুরু করা মাত্র সলাতের সময় হবে। অতঃপর ঈসা (আঃ) অবতরণ করবেন এবং সলাতে তাদের ইমামাত করবেন। আল্লাহর শত্রু (দাজ্জাল)তাঁকে দেখামাত্রই বিচলিত হয়ে যাবে যেমন লবণ পানিতে মিশে যায়। যদি ঈসা (আঃ) তাকে এমনিই ছেড়ে দেন তবে সেও নিজে নিজেই বিগলিত হয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে। অবশ্য আল্লাহ তা’আলা ঈসা (আঃ) এর হাতে তাকে হত্যা করবেন এবং তার রক্ত ঈসা (আঃ) এর বর্শাতে তিনি তাদেরকে(তাঁর ঈমানদার সাথীদের) দেখিয়ে দিবেন।(সহীহ মুসলিম-৭১৭০)

⏭কোন সভ্যতাকে কি হত্যা করা যায়? সভ্যতার কি রক্ত থাকে?

◾৮. আবূ বাকরাহ (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেনঃ

لاَ يَدْخُلُ الْمَدِينَةَ رُعْبُ الْمَسِيحِ لَهَا يَوْمَئِذٍ سَبْعَةُ أَبْوَابٍ عَلَى كُلِّ بَابٍ مَلَكَانِ

মাদ্বীনায় মাসীহ্ দাজ্জাল-এর প্রভাব পড়বে না। সে সময় মাদ্বীনাহর সাতটি প্রবেশদ্বার থাকবে। প্রতিটি প্রবেশদ্বারে দু’জন করে ফেরেশ্তা নিযুক্ত থাকবেন।(সহীহ বুখারী-৭১২৬)

⏭ ইহুদি-খ্রিস্টান যান্ত্রিক সভ্যতা যদি দাজ্জাল হয় এবং প্রযুক্তি যদি হয় তার বাহন, তবে সেই প্রযুক্তির ছোঁয়া কি মদীনায় পৌঁছে নি? ইহুদি-খ্রিস্টান সভ্যতার অন্যতম উপাদান টিভি, ইন্টারনেট ইত্যাদিতো মক্কা মদীনায় দেদারসে ব্যবহার হচ্ছে ।

উল্লেখিত হাদীসগুলো থেকে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় যে দাজ্জাল কোনো যান্ত্রিক সভ্যতা নয়,বরং সে হবে রক্তে মাংশে গড়া একজন মানুষ ।

ইহুদি-খ্রিস্টান যান্ত্রিক সভ্যতাকে দাজ্জাল প্রমাণের জন্য পন্নী সাহেব তার রচিত ‘দাজ্জাল? ইহুদি-খৃষ্টান সভ্যতা!’ -বইয়ে দাজ্জাল সম্পর্কিত হাদীসগুলোর যে মনগড়া ব্যাখ্যা ও হাদীসের ইবারতে যেভাবে কারচুপি করেছেন তার জবাব দেখতে আগ্রহী পাঠকগণ মুফতি রেজাউল করীম আবরার (হাঃফিঃ) এর রচিত ‘দাজ্জাল’ বইটি সংগ্রহ করুন।

16) হেযবুত তওহীদে আসলেই দুই শহীদের মর্যাদা।

হেযবুত তাওহীদের বক্তব্যঃ
এমনিতেতো হেযবুত তওহীদে আসলেই দুই শহীদের মর্যাদা।যে নাকি শেষ পর্যন্ত আছে।(আল্লাহর মোজেজা হেযবুত তওহীদের বিজয় ঘোষণা -৬৪)
বিশ্বনবী বলেছেন, ‘”অভিশপ্ত দাজ্জালকে যারা প্রতিরোধ করবে তাদের মরতবা বদর ও ওহুদ যুদ্ধে শহীদের মরতবার সমান হবে (বোখারী ও মুসলিম)।”
রাসূলুল্লাহর এই হাদীসটি এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে ।মাননীয় এমামুজ্জামান দাজ্জালকে চিহ্নিত করেছেন এবং তাঁর অনুসারীগণ দাজ্জালের পরিচয় বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরছেন,এভাবে তারা দাজ্জালকে প্রতিরোধ করছেন ।হেযবুত তওহীদ ছাড়া পৃথিবীতে আর কেউই দাজ্জালকে দাজ্জাল বলে চিনছেন না,সুতরাং তাকে প্রতিরোধও করছেন না।কাজেই বিশ্বনবীর হাদীস মোতাবেক হেযবুত তওহীদের প্রত্যেক অকপট মোজাহেদ মোজাহেদা জীবিত অবস্থাতেই দুই জন কোরে শহীদের সমান।(মহাসত্যের আহ্বান-১৯)
পর্যালোচনাঃ
[প্রথমত]বিগত পর্বে আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বেশ কিছু অকাট্য হাদীস থেকে প্রমাণ দেখিয়েছি যে দাজ্জাল কোন যান্ত্রিক সভ্যতা নয়,বরং সে একজন রক্তে মাংসে গড়া মানব সন্তান ।দাজ্জালকে সভ্যতা রূপে আখ্যায়িত করা পন্নী সাহেবের নিজস্ব মনগড়া মতবাদ ।হাদীসের সাথে এর দূরতম সম্পর্ক নেই।নিজস্ব মনগড়া মতবাদে তৈরিকৃত দাজ্জালের বিরোধিতা করে হাদীসে বর্ণিত সত্যিকারের দাজ্জাল প্রতিরোধের ফজিলত সম্বলিত হাদীস নিজেদের দলের স্বপক্ষে পেশ করা নিতান্তই হাস্যকর ও অগ্রহণযোগ্য ।
[দ্বিতীয়ত]হিযবুত তাওহীদ স্পষ্টভাবেই তাদের লিখনীতে একাধিকবার উল্লেখ করেছে “এই উম্মত রাসূলুল্লাহ ﷺ এর ওফাতের ৬০-৭০ বছর পর পথভ্রষ্ট হয়ে গিয়েছে ।ইসলাম সম্পূর্ণ বিকৃত হয়ে গিয়েছে। হিযবুত তাওহীদ নতুনভাবে সহীহ ইসলাম প্রচার করছে ।”
অর্থাৎ হিযবুত তাওহীদ প্রাচীন ইসলামের প্রচারক নয়,বরং তারা এর বিপরীত ইসলামের প্রচারক যা তাদের ভাষায় -‘দ্বীনুল হক্ব।’অতএব হিযবুত তাওহীদের প্রচারিত মতবাদের নিরবিচ্ছিন্ন ঐতিহাসিক সূত্র নেই।
অপরদিকে নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুনঃ

◾ইমরান ইবন হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ

لا تزال طائفة من امتي يقاتلون على الحق ظاهرين على من ناواهم حتى يقاتل اخرهم المسيح الدجال ‏

আমার উম্মাতের মধ্যে একটি দলসর্বদা অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়কে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তাদের দুশমনের বিরুদ্ধেু যুদ্ধ করে তাদের উপর জয়ী হবে। অবশেষে তাদের শেষদলটি কুখ্যাত প্রতারক দাজ্জালের সাথে যুদ্ধ করবে।(সুনানে আবু দাউদ-২৪৭৬)
এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হল দাজ্জালের সাথে যারা যুদ্ধ করবে তাঁরা নতুন কেউ নয়।বরং তাঁদের এই জামাত প্রত্যেক যুগেই ন্যায়ের পক্ষে অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিরবিচ্ছিন্নভাবে যুদ্ধ করে আসছে।তারা হুট করে জন্ম নেয়া নতুন কোনো দল নয়।
তাই দাজ্জাল প্রতিরোধকারীদের ফজিলত নিজেদের পক্ষে পেশ করার অধিকার নব্য ফিরকা হিযবুত তাওহীদের নেই।
[তৃতীয়ত]বিজ্ঞ পাঠক, এবার নিচের হাদীসগুলো ভাল করে লক্ষ্য করুনঃ

◾নাফি ইবনু উতবাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ

تَغْزُونَ جَزِيرَةَ الْعَرَبِ فَيَفْتَحُهَا اللَّهُ ثُمَّ فَارِسَ فَيَفْتَحُهَا اللَّهُ ثُمَّ تَغْزُونَ الرُّومَ فَيَفْتَحُهَا اللَّهُ ثُمَّ تَغْزُونَ الدَّجَّالَ فَيَفْتَحُهُ اللَّهُ ‏

তোমরা জাযিরাতুল আরবে যুদ্ধ করবে, আল্লাহ তা বিজিত করে দিবেন। অতঃপর পারস্যবাসীদের সঙ্গে লড়াই করবে, আল্লাহ তাও তোমাদের আয়ত্তে এনে দিবেন। এরপর রোমীয়দের সঙ্গে লড়াই করবে, আল্লাহ তা’আলা এতেও তোমাদের বিজয় দান করবেন। পরিশেষে তোমরা দাজ্জালের সঙ্গে লড়াই করবে, এখানেও আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে বিজয়ী করবেন।(সহীহ মুসলিম-৭১৭৬)

◾ইউসায়র ইবনু জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত।

قَالَ هَاجَتْ رِيحٌ حَمْرَاءُ بِالْكُوفَةِ فَجَاءَ رَجُلٌ لَيْسَ لَهُ هِجِّيرَى إِلاَّ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ جَاءَتِ السَّاعَةُ ‏.‏ قَالَ فَقَعَدَ وَكَانَ مُتَّكِئًا فَقَالَ إِنَّ السَّاعَةَ لاَ تَقُومُ حَتَّى لاَ يُقْسَمَ مِيرَاثٌ وَلاَ يُفْرَحَ بِغَنِيمَةٍ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ بِيَدِهِ هَكَذَا – وَنَحَّاهَا نَحْوَ الشَّأْمِ – فَقَالَ عَدُوٌّ يَجْمَعُونَ لأَهْلِ الإِسْلاَمِ وَيَجْمَعُ لَهُمْ أَهْلُ الإِسْلاَمِ ‏.‏ قُلْتُ الرُّومَ تَعْنِي قَالَ نَعَمْ وَتَكُونُ عِنْدَ ذَاكُمُ الْقِتَالِ رَدَّةٌ شَدِيدَةٌ فَيَشْتَرِطُ الْمُسْلِمُونَ شُرْطَةً لِلْمَوْتِ لاَ تَرْجِعُ إِلاَّ غَالِبَةً فَيَقْتَتِلُونَ حَتَّى يَحْجُزَ بَيْنَهُمُ اللَّيْلُ فَيَفِيءُ هَؤُلاَءِ وَهَؤُلاَءِ كُلٌّ غَيْرُ غَالِبٍ وَتَفْنَى الشُّرْطَةُ ثُمَّ يَشْتَرِطُ الْمُسْلِمُونَ شُرْطَةً لِلْمَوْتِ لاَ تَرْجِعُ إِلاَّ غَالِبَةً فَيَقْتَتِلُونَ حَتَّى يَحْجُزَ بَيْنَهُمُ اللَّيْلُ فَيَفِيءُ هَؤُلاَءِ وَهَؤُلاَءِ كُلٌّ غَيْرُ غَالِبٍ وَتَفْنَى الشُّرْطَةُ ثُمَّ يَشْتَرِطُ الْمُسْلِمُونَ شُرْطَةً لِلْمَوْتِ لاَ تَرْجِعُ إِلاَّ غَالِبَةً فَيَقْتَتِلُونَ حَتَّى يُمْسُوا فَيَفِيءُ هَؤُلاَءِ وَهَؤُلاَءِ كُلٌّ غَيْرُ غَالِبٍ وَتَفْنَى الشُّرْطَةُ فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الرَّابِعِ نَهَدَ إِلَيْهِمْ بَقِيَّةُ أَهْلِ الإِسْلاَمِ فَيَجْعَلُ اللَّهُ الدَّبْرَةَ عَلَيْهِمْ فَيَقْتُلُونَ مَقْتَلَةً – إِمَّا قَالَ لاَ يُرَى مِثْلُهَا وَإِمَّا قَالَ لَمْ يُرَ مِثْلُهَا – حَتَّى إِنَّ الطَّائِرَ لَيَمُرُّ بِجَنَبَاتِهِمْ فَمَا يُخَلِّفُهُمْ حَتَّى يَخِرَّ مَيْتًا فَيَتَعَادُّ بَنُو الأَبِ كَانُوا مِائَةً فَلاَ يَجِدُونَهُ بَقِيَ مِنْهُمْ إِلاَّ الرَّجُلُ الْوَاحِدُ فَبِأَىِّ غَنِيمَةٍ يُفْرَحُ أَوْ أَىُّ مِيرَاثٍ يُقَاسَمُ فَبَيْنَمَا هُمْ كَذَلِكَ إِذْ سَمِعُوا بِبَأْسٍ هُوَ أَكْبَرُ مِنْ ذَلِكَ فَجَاءَهُمُ الصَّرِيخُ إِنَّ الدَّجَّالَ قَدْ خَلَفَهُمْ فِي ذَرَارِيِّهِمْ فَيَرْفُضُونَ مَا فِي أَيْدِيهِمْ وَيُقْبِلُونَ فَيَبْعَثُونَ عَشَرَةَ فَوَارِسَ طَلِيعَةً ‏.‏ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ إِنِّي لأَعْرِفُ أَسْمَاءَهُمْ وَأَسْمَاءَ آبَائِهِمْ وَأَلْوَانَ خُيُولِهِمْ هُمْ خَيْرُ فَوَارِسَ عَلَى ظَهْرِ الأَرْضِ يَوْمَئِذٍ أَوْ مِنْ خَيْرِ فَوَارِسَ عَلَى ظَهْرِ الأَرْضِ يَوْمَئِذٍ

তিনি বলেন, একবার কুফা নগরীতে লাল ঝঞ্ঝা বিশিষ্ট বায়ু প্রবাহিত হলো। এমন সময় জনৈক লোক কুফায় এসে বলল যে, হে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ সতর্ক হও, কিয়ামাত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না উত্তরাধিকার সম্পদ অবণ্টিত থাকবে এবং যতক্ষণ না মানুষেরা গনীমাতের বিষয়ে আনন্দ প্রকাশ না করবে। তারপর তিনি নিজ হাত দ্বারা সিরিয়ার প্রতি ইশারা করে বললেন, আল্লাহর শক্ররা একত্রিত হবে মুসলিমদের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য এবং মুসলিমগণও তাদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য একত্রিত হবে। এ কথা শ্রবণে আমি বললাম, আল্লাহর শক্র বলে আপনাদের উদ্দেশ্য হলো রোমীয় (খ্ৰীষ্টান) সম্প্রদায়। তিনি বললেন, হ্যাঁ! এবং তখন ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হবে। তখন মুসলিম জাতি একটি দল অগ্রে প্রেরণ করবে, তারা মৃত্যুর জন্য সম্মুখে এগিয়ে যাবে। বিজয় অর্জন করা ছাড়া তারা প্রত্যাবর্তন করবে না। এরপর পরস্পর তাদের মধ্যে যুদ্ধ হবে। যুদ্ধ করতে করতে রাত্রি অতিবাহিত হয়ে যাবে। তারপর দু’ পক্ষের সৈন্য জয়লাভ করা ছাড়াই ফিরে চলে যাবে। যুদ্ধের জন্য মুসলিমদের যে দলটি এগিয়ে গিয়েছিল তারা প্রত্যেকেই মৃত্যুবরণ করবে।
অতঃপর পরবর্তী দিন মুসলিমগণ মৃত্যুর জন্য অপর একটি দল সামনে পাঠাবে। তারা সবাই মৃত্যুবরণ করবে। অতঃপর পরবর্তী দিন মুসলিমগণ মৃত্যুর জন্য অপর একটি দল সামনে পাঠাবে। তারা বিজয়ী না হয়ে ফিরবে না। এদিনও পরস্পরের মধ্যে মারাত্মক যুদ্ধ হবে। পরিশেষে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। উভয় বাহিনী বিজয়লাভ করা ছাড়াই স্বীয় শিবিরে প্রত্যাবর্তন করবে। যে দলটি সামনে ছিল তারা সরে যাবে। অতঃপর তৃতীয় দিন আবার মুসলিমগণ মৃত্যু বা বিজয়ের উদ্দেশে অপর একটি বাহিনী পাঠাবে। এ যুদ্ধ সন্ধ্যা পর্যন্ত চলতে থাকবে। পরিশেষে বিজয়লাভ করা ছাড়াই উভয় বাহিনী প্রত্যাবর্তন করবে। তবে মুসলিম বাহিনীর সামনের সেনাদলটি শাহীদ হয়ে যাবে। তারপর যুদ্ধের চতুর্থ দিনে অবশিষ্ট মুসলিমগণ সকলেই যুদ্ধের জন্য সামনে এগিয়ে যাবে। সেদিন কাফিরদের উপর আল্লাহ তা’আলা অকল্যাণ চক্র চাপিয়ে দিবেন। তারপর এমন যুদ্ধ হবে যা জীবনে কেউ দেখবে না অথবা যা জীবনে কেউ দেখেনি। পরিশেষে তাদের শরীরের উপর পাখী উড়তে থাকবে। পাখী তাদেরকে অতিক্রম করবে না; এমতাবস্থায় তা মাটিতে পড়ে নিহত হবে।
একশ’ মানুষ বিশিষ্ট একটি গোত্রে, মাত্র এক লোক বেঁচে থাকবে। এমন সময় কেমন করে গনীমাতের সম্পদ নিয়ে লোকেরা আনন্দোৎসব করবে এবং কেমন করে উত্তরাধিকার সম্পদ ভাগ করা হবে। এমতাবস্থায় মুসলিমগণ আরেকটি ভয়ানক বিপদের খবর শুনতে পাবে এবং এ মর্মে একটি শব্দ তাদের কাছে পৌছবে যে, দাজ্জাল তাদের পেছনে তাদের পরিবার-পরিজনের মধ্যে চলে এসেছে। এ সংবাদ শুনতেই তারা হাতের সমস্ত কিছু ফেলে দিয়ে রওনা হয়ে যাবে এবং দশজন অশ্বারোহী ব্যক্তিকে সংবাদ সংগ্রাহক দল হিসেবে প্রেরণ করবে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দাজ্জালের খবর সংগ্রাহক দলের প্রতিটি লোকের নাম, তাদের বাপ-দাদার নাম এবং তাদের ঘোড়ার রং সম্পর্কেও আমি জ্ঞাত আছি। এ পৃথিবীর সর্বোত্তম অশ্বারোহী দল সেদিন তারাই হবে।(সহীহ মুসলিম-৭১৭৩)

◾আবু হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ

لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَنْزِلَ الرُّومُ بِالأَعْمَاقِ أَوْ بِدَابِقَ فَيَخْرُجُ إِلَيْهِمْ جَيْشٌ مِنَ الْمَدِينَةِ مِنْ خِيَارِ أَهْلِ الأَرْضِ يَوْمَئِذٍ فَإِذَا تَصَافُّوا قَالَتِ الرُّومُ خَلُّوا بَيْنَنَا وَبَيْنَ الَّذِينَ سَبَوْا مِنَّا نُقَاتِلْهُمْ ‏.‏ فَيَقُولُ الْمُسْلِمُونَ لاَ وَاللَّهِ لاَ نُخَلِّي بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ إِخْوَانِنَا ‏.‏ فَيُقَاتِلُونَهُمْ فَيَنْهَزِمُ ثُلُثٌ لاَ يَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ أَبَدًا وَيُقْتَلُ ثُلُثُهُمْ أَفْضَلُ الشُّهَدَاءِ عِنْدَ اللَّهِ وَيَفْتَتِحُ الثُّلُثُ لاَ يُفْتَنُونَ أَبَدًا فَيَفْتَتِحُونَ قُسْطُنْطِينِيَّةَ فَبَيْنَمَا هُمْ يَقْتَسِمُونَ الْغَنَائِمَ قَدْ عَلَّقُوا سُيُوفَهُمْ بِالزَّيْتُونِ إِذْ صَاحَ فِيهِمُ الشَّيْطَانُ إِنَّ الْمَسِيحَ قَدْ خَلَفَكُمْ فِي أَهْلِيكُمْ ‏.‏ فَيَخْرُجُونَ وَذَلِكَ بَاطِلٌ فَإِذَا جَاءُوا الشَّأْمَ خَرَجَ فَبَيْنَمَا هُمْ يُعِدُّونَ لِلْقِتَالِ يُسَوُّونَ الصُّفُوفَ إِذْ أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَيَنْزِلُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ فَأَمَّهُمْ فَإِذَا رَآهُ عَدُوُّ اللَّهِ ذَابَ كَمَا يَذُوبُ الْمِلْحُ فِي الْمَاءِ فَلَوْ تَرَكَهُ لاَنْذَابَ حَتَّى يَهْلِكَ وَلَكِنْ يَقْتُلُهُ اللَّهُ بِيَدِهِ فَيُرِيهِمْ دَمَهُ فِي حَرْبَتِهِ

কিয়ামাত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না রোমীয় (সিরিয়ার অন্তর্গত) সেনাবাহিনী আমাক অথবা দাবিক নহরের কাছে অবতীর্ণ হবে। তখন তাদের মুকাবিলায় মদীনাহ হতে এ দুনিয়ার সর্বোত্তম মানুষের এক দল সৈন্য বের হবে। তারপর উভয় দল সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান হবার পর রোমীয়গণ বলবে, তোমরা ঐ সমস্ত লোকেদের থেকে পৃথক হয়ে যাও, যারা আমাদের লোকেদেরকে বন্দী করেছে। আমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করব। তখন মুসলিমগণ বলবে, আল্লাহর শপথ আমরা আমাদের ভাইদের থেকে কক্ষনো সম্পর্কচ্ছেদ করব না। পরিশেষে তাদের পরস্পর যুদ্ধ হবে। এ যুদ্ধে মুসলিমদের এক তৃতীয়াংশ সৈন্য পলায়নপর হবে। আল্লাহ তা’আলা কক্ষনো তাদের তাওবাহ্ গ্রহণ করবেন না। সৈন্যদের এক তৃতীয়াংশ নিহত হবে এবং তারা হবে আল্লাহর কাছে শহীদানের মাঝে সর্বোত্তম শহীদ। আর সৈন্যদের অপর তৃতীয়াংশ বিজয়ী হবে। জীবনে আর কক্ষনো তারা ফিতনায় আক্রান্ত হবে না। তারাই কুম্ভনতিনিয়া বিজয় করবে।

তারা নিজেদের তলোয়ার যাইতুন বৃক্ষে লটকিয়ে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ ভাগ করতে থাকবে। এমতাবস্থায় তাদের মধ্যে শাইতান (শয়তান) উচ্চঃস্বরে বলতে থাকবে, দাজ্জাল তোমাদের পেছনে তোমাদের পরিবার-পরিজনের মধ্যে চলে এসেছে। এ কথা শুনে মুসলিমরা সেখান থেকে বের হবে। অথচ এ ছিল মিথ্যা সংবাদ। তারা যখন সিরিয়া পৌছবে তখন দাজ্জালের আগমন ঘটবে। যখন মুসলিম বাহিনী যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে এবং সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান হতে শুরু করা মাত্র সলাতের সময় হবে। অতঃপর ঈসা (আঃ) অবতরণ করবেন এবং সলাতে তাদের ইমামাত করবেন। আল্লাহর শত্রু(দাজ্জাল) তাকে দেখামাত্রই বিচলিত হয়ে যাবে যেমন লবণ পানিতে মিশে যায়। যদি ঈসা (আঃ) তাকে এমনিই ছেড়ে দেন তবে সেও নিজে নিজেই বিগলিত হয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে। অবশ্য আল্লাহ তা’আলা ঈসা (আঃ) এর হাতে তাকে হত্যা করবেন এবং তার রক্ত ঈসা (আঃ) এর বর্শাতে তিনি তাদেরকে (তাঁর ঈমানদার সাথিদের) দেখিয়ে দিবেন। (সহীহ মুসলিম-৭১৭০)

এই হাদীসগুলো হতে প্রমাণিত হয় দাজ্জালকে নির্মূল করা হবে সশস্ত্র জিহাদের মাধ্যমে।এবং এই জিহাদের নেতৃত্বে থাকবেন ঈসা (আঃ)।

যেহেতু এখনও ঈসা (আঃ) এর আগমণ ঘটেনি এবং হিযবুত তাওহীদ সশস্ত্র জিহাদে লিপ্ত নেই, তাই দাজ্জাল প্রতিরোধের ফজিলত নিজের দলের পক্ষে বর্ণনা করা হঠকারিতা ছাড়া কিছুই নয়।


17) খ্রিস্টানদের অপকর্মের জন্য ঈসা (আঃ) এর দায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে

হেযবুত তাওহীদের বক্তব্যঃ
এমন হোতে পারে যে, আসমানে উঠিয়ে নেবার পর আল্লাহ ঈসাকে (আঃ) ভবিষ্যতে তার উম্মহর কাজের ফলে যে দাজ্জালের জন্ম হবে তা দেখিয়ে দিলেন, যা দেখে ঈসা (আঃ) আল্লাহকে বোললেন- ইয়া আল্লাহ! আমার উম্মতের কাজের ফলের জন্য আমিও অন্তত আংশিকভাবে দায়ী।কাজেই আমার উম্মতের সৃষ্ট দানবকে ধ্বংস করার দায়িত্ব আমাকে দাও।অথবা এমনও হোতে পারে যে, আল্লাহই ঈসাকে বোললেন- ঈসা! দ্যাখো, তোমার উম্মতের ভুলের,বিপথগামীতার ফলে কেমন মহাশক্তিধর দানব সৃষ্টি হোয়েছে যে আমার সর্বভৌমত্বকে অস্বীকার কোরে নিজেকে রব,প্রভু বোলে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা কোরেছে এবং আমার শেষ নবীর উম্মতসহ মানবজাতি তাকে রব বোলে মেনে নিয়েছে ।যেহেতু তোমার উম্মত থেকেই এই কাফের দানবের জন্ম, কাজেই তোমাকেই আমি দায়িত্ব দিচ্ছি একে ধ্বংস করার জন্য।দাজ্জালকে হত্যা বা ধ্বংস করার জন্য আল্লাহর প্রচলিত নিয়ম ভেঙে আসামান থেকে হাজার হাজার বছরের অতীতের একজন নির্দিষ্ট নবীকে পৃথিবীতে পাঠাবার অন্য কোন কারণ আমি দেখি না।যদি কেউ অন্য কারণ বের কোরতে পারেন তবে তা প্রকাশ কোরলে আমার ভুল সংশোধন কোরবো।(দাজ্জাল? ইহুদি-খ্রিষ্টান সভ্যতা!-৫৫)
পর্যালোচনাঃ
নাউযুবিল্লাহ। ঈসা (আঃ) এর মত একজন জ্বলিলুল ক্বদর রাসূলের শানে এহেন বেয়াদবীমূলক অপবাদ দিতে পন্নী সাহেবের হাত কি একবারও কাঁপলো না? কুরআনুল কারীমের মধ্যে খ্রিস্টানদের যাবতীয় অপকর্মের সাথে ঈসা (আঃ) এর সংশ্লিষ্টতা সুষ্পষ্টভাবে নাকচ করে দেয়া হয়েছে ।
⏩পবিত্র কুরআন মাজীদে আল্লহ ﷻ ইরশাদ করেনঃ

◾وَ اِذۡ قَالَ اللّٰہُ یٰعِیۡسَی ابۡنَ مَرۡیَمَ ءَاَنۡتَ قُلۡتَ لِلنَّاسِ اتَّخِذُوۡنِیۡ وَ اُمِّیَ اِلٰہَیۡنِ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ ؕ قَالَ سُبۡحٰنَکَ مَا یَکُوۡنُ لِیۡۤ اَنۡ اَقُوۡلَ مَا لَیۡسَ لِیۡ ٭ بِحَقٍّ ؕ؃ اِنۡ کُنۡتُ قُلۡتُہٗ فَقَدۡ عَلِمۡتَہٗ ؕ تَعۡلَمُ مَا فِیۡ نَفۡسِیۡ وَ لَاۤ اَعۡلَمُ مَا فِیۡ نَفۡسِکَ ؕ اِنَّکَ اَنۡتَ عَلَّامُ الۡغُیُوۡبِ

আরও স্মরণ করুন, আল্লাহ্‌ যখন বলবেন, ‘হে মারইয়াম –তনয় ‘ঈসা! আপনি কি লোকদেরকে বলেছিলেন যে, তোমরা আল্লাহ্‌ ছাড়া আমাকে আমার জননীকে দুই ইলাহরূপে গ্রহণ কর? ‘তিনি বলবেন, ‘আপনিই মহিমান্বিত! যা বলার অধিকার আমার নেই তা বলা আমার পক্ষে শোভন নয়। যদি আমি তা বলতাম তবে আপনি তো তা জানতেন।আমার অন্তরের কথাতো আপনি জানেন, কিন্তু আপনার অন্তরের কথা আমি জানি না ; নিশ্চয় আপনি অদৃশ্য সম্বদ্ধে সবচেয়ে ভালো জানেন।(সূরা মায়িদা-১১৬)

◾مَا قُلۡتُ لَہُمۡ اِلَّا مَاۤ اَمَرۡتَنِیۡ بِہٖۤ اَنِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ رَبِّیۡ وَ رَبَّکُمۡ ۚ وَ کُنۡتُ عَلَیۡہِمۡ شَہِیۡدًا مَّا دُمۡتُ فِیۡہِمۡ ۚ فَلَمَّا تَوَفَّیۡتَنِیۡ کُنۡتَ اَنۡتَ الرَّقِیۡبَ عَلَیۡہِمۡ ؕ وَ اَنۡتَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ شَہِیۡدٌ

আপনি আমাকে যে আদেশ করেছেন তা ছাড়া তাদেরকে আমি কিছুই বলিনি, তা এই যেঃ তোমরা আমার রব ও তোমাদের রব আল্লাহ্‌র ইবাদত কর এবং যতদিন আমি তাদের মধ্যে ছিলাম ততদিন আমি ছিলাম তাদের কাজকর্মের সাক্ষী,কিন্তু যখন আপনি আমাকে তুলে নিলেন তখন আপনিইতো ছিলেন তাদের কাজকর্মের তত্ত্বাবধায়ক এবং আপনিই সব বিষয়ে সাক্ষী।(সূরা মায়িদা-১১৭)

◾اِنۡ تُعَذِّبۡہُمۡ فَاِنَّہُمۡ عِبَادُکَ ۚ وَ اِنۡ تَغۡفِرۡ لَہُمۡ فَاِنَّکَ اَنۡتَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ

আপনি যদি তাদেরকে শাস্তি দেন তবে তারাতো আপনারই বান্দা।আর যদি তাদেরকে ক্ষমা করেন তবে আপনি তো পরাক্রমশালী,প্রজ্ঞাময়।(সূরা মায়িদা-১১৮)

আয়াত থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, খ্রিস্টানদের অপকর্মের সাথে ঈসা (আঃ) এর কোন যোগসূত্র নেই।তিনি এ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ।

আল্লহ ﷻ ঈসা (আঃ) কেই কেন দাজ্জালকে হত্যা করার জন্য নির্বাচন করেছেন তার ইলম আল্লহ ﷻ এর কাছে।ওহী ব্যতীত ধারনার ভিত্তিতে এ ধরনের উদ্ভট কথোপকথন আবিষ্কারের অধিকার পন্নী সাহেব কোথায় পেলেন?

কুরআন-সুন্নাহর অতন্দ্র প্রহরী ফকিহ,মুহাদ্দীস ও উলামায়ে কেরামকে দ্বীন বিকৃতকারী ভিলেন সাব্যস্তকরণের জন্য যিনি তার লিখনীর বিভিন্ন স্থানে তাঁদেরকে ‘অতিবিশ্লেষণকারী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন, সেই পন্নী সাহেব এখানে এসে কি করলেন?

আল্লহ ﷻ যে বিষয় জানান নি তা নিয়ে এত ঘাটাঘাটির প্রয়োজন হল কেন? এটা কি অতিবিশ্লেষণ নয়? বরং আমি তো বলবো -ওহী ব্যতীত যে জিনিস জানা সম্ভব নয় সে বিষয়ে মন্তব্য পেশ করতে গিয়ে একজন সম্মানিত রাসূলের শানে অপবাদ দেয়াকে ‘অতিবিশ্লেষণ’ না বলে ‘অপবিশ্লেষণ’ বলাটা অধিক বাঞ্ছনীয় ।

18)  বর্তমানে পুরো মানবজাতি কাফের ও মুশরিক।

হেযবুত তাওহীদের বক্তব্যঃ
গত ১৩০০ বছর ধোরে রাসূলাল্লাহর আনীত দীন বিকৃত হোতে হোতে এখন যেটা এসলাম হিসাবে দুনিয়াময় পালিত হোচ্ছে সেটার সঙ্গে প্রকৃত এসলামের বাহ্যিক কিছু সাদৃশ্য ছাড়া কোন মিলই নেই;ভিতরে ,আত্মায়,চরিত্রে সেটা প্রকৃত এসলামের সম্পূর্ণ বিপরীত ।আল্লাহর সর্বব্যাপী সার্বভৌমত্ব অর্থাৎ তওহীদ থেকে বিচ্যুত হোয়ে পুরো মানবজাতি কার্য্যত কাফের ও মোশরেকে পরিণত হোয়েছে।(আল্লাহর মোজেজা হেযবুত তওহীদের বিজয় ঘোষণা-পৃষ্ঠা-২৩)

পর্যালোচনাঃ
এই উম্মতের সকলে ভ্রান্ত বিষয়ে ঐক্যমত হবে না,উম্মতের একটি দল সর্বদা হক্বের উপর থাকবে-এসব হাদীসের বিপরীতে গোটা উম্মতে মুসলিমাকে কাফির-মুশরিক আখ্যায়িত করা হাদীসগুলোকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের নামান্তর।

দুনিয়ার সব মুসলিম কাফের,মুশরিক এক কথায় ধ্বংশ হয়ে গেছে এমন কথা যারা বলে তাদের সম্পর্কে হাদীসে কঠোর হুশিয়ারি এসেছে ।
◾আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ

إذا قال الرجل هلك الناس فهو أهلكهم

যে বলবে সমস্ত মানুষ ধ্বংশ (অর্থাৎ বেঈমান) হয়ে গেছে সে লোকটিই সবচেয়ে ধ্বংশপ্রাপ্ত।
অথবা সে তার অনুসারিদের ধ্বংশ করে ছাড়বে।
(সহীহ মুসলিম-২৬২৩;আবু দাউদ-৪৯৮৩)
এই হাদীস থেকে হেযবুত তওহীদ যে ভ্রান্ত দল তা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হল।

19)  মু’মিন হতে হলে বায়েজিদ খান পন্নীর আনুগত্য আবশ্যক

#হিযবুত_তাওহীদের_বক্তব্যঃ এখনকার সময়ের জন্য তিনিই আল্লাহর মনোনীত এমাম।কাজেই এই সময়ে যারা মোমেন মুসলিম হতে চায়,আল্লাহর সঠিক দিক নির্দেশনা,হেদায়াহ লাভ করতে চায় তাদের এমামুযযামানের আনুগত্য ছাড়া মুক্তি নেই। (হিযবুত তাওহীদের ওয়েবসাইটে মাননীয় এমামুযযামান বিষয়ের অধিনে রচিত ‘যামানার এমাম শব্দের অর্থ কী’ প্রবন্ধের শেষ প্যারা)
#পর্যালোচনাঃ
নাবী ﷺ বলেছেনঃ

কোথায় যাচ্ছেন? আরো নতুন কিছু জানার জন্য এই লেখাটি পড়ুনঃ   সমাজে প্রচলিত কিছু শিরক এর তালিকা জেনে নিই (পর্ব ৫)।

اسمعوا وأطيعوا، إلا أن تروا كفراً بواحاً عندكم عليه من الله برهان

তোমরা শাসকের কথা শ্রবণ করবে ও তার অনুগত থাকবে কিন্তু যদি স্পষ্ট কুফরী দেখ, তোমাদের কাছে আল্লাহর তরফ থেকে যে বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণ বিদ্যমান, তাহলে আলাদা কথা।(সহীহ বুখারী-৭০৫৬ , সহীহ মুসলিম-১৭০৯)

আলী (রাঃ) বর্ণনা করেন, নাবী ﷺ বলেছেনঃ

لاَ طَاعَةَ فِي مَعْصِيَةٍ إِنَّمَا الطَّاعَةُ فِي الْمَعْرُوفِ

আল্লাহর নাফরমানীর কাজে কোনরূপ আনুগত্য নেই। আনুগত্য করতে হয় কেবলমাত্র ন্যায়সঙ্গত কাজে। (সহীহ বুখারী-৭২৫৭ , সহীহ মুসলিম -১৮৪০)
কুরআন -হাদীস ও ইসলামের মৌলিক আক্বীদার বিরুদ্ধে অবস্থানকারী বায়েজিদ খান পন্নীর আনুগত্য করলে মু’মিন নয় বরং ঈমান হারানো ছাড়া উপায় নেই।

20) ইসলামে কোন নির্দিষ্ট পোশাক নেই (নাউজুবিল্লাহ)

প্রমাণ :- তাদের বইয়ে তারা লিখেছে;

❝ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে কোনরূপ বাধ্যবাধকতা নেই যে, পুরুষদেরকে আরবীয় জুব্বা পরিধান করতে হবে, মেয়েদেরকে আপাদমস্তক ঢাকা বোরকা পরিধান করতে হবে পৃথিবীর একেক অঞ্চলের মানুষ একেক ধরনের পোশাক পরে থাকে। ভৌগলিক অবস্থা, জলবায়ু ঐতিহাসিক পটভূমি ইত্যাদি এলাকার মানুষের পোশাক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসলাম যেহেতু সমগ্র পৃথিবীর জন্য এসেছে তাই
এর কোন নির্দিষ্ট পোশাক থাকা সম্ভবও নয়। শুধু একটি মাত্র শর্ত আল্লাহ দিয়েছেন তা হলো পোশাক যেন শালীনতা পরিপন্থী না হয়। অশালীন পোশাক পরিধান করা নিশ্চয় কোন ধর্মমতেই অনুমোদিত নয়।❞
[সূত্র: আসুন-সিস্টেমটাকেই পাল্টাই: ১৭ পৃঃ]

★পর্যালোচনা :-
প্রিয় পাঠক লক্ষ্য করুন, তাদের লেখনীর মধ্যে একটি বিষয় ফুটে উঠেছে আর তা হল, তারা শরীয়তের পোশাকের বাধ্যবাধকতা মানে না। এখানে তাদের মুল দাবি হলো,পুরুষ হোক বা মহিলা হোক
ইসলামে উভয়ের কোন নির্দিষ্ট পোশাক নেই। আমি আপনাদের সামনে কোরআন সুন্নাহ থেকে তুলে ধরবো, ইসলামি কোন পোশাক আছে কি না।

প্রথমেই দেখবো পোশাকের ব্যপারে মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে কি বলেছেন
মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করছেন :-
يَا بَنِي آَدَمَ قَدْ أَنْزَلْنَا عَلَيْكُمْ لِبَاسًا يُوَارِي سَوْآَتِكُمْ وَرِيشًا
وَلِبَاسُ التَّقْوَى ذَلِكَ خَيْرٌ ذَلِكَ مِنْ آَيَاتِ اللَّهِ لَعَلَّهُمْ يَذَّكَّرُونَ

অর্থ: হে বনী-আদম! আমি তোমাদের জন্য পোশাক অবতীর্ণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং অবতীর্ণ করেছি সাজ-সজ্জার বস্ত্র এবং পরহেযগারীর পোশাক এটি সর্বোত্তম। এটা আল্লাহর
কুদরতের অন্যতম নিদর্শন যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।

[সুরা আরাফ: ২৬ নম্বর আয়াত]প্রিয় পাঠক লক্ষ করুন: আলোচ্য আয়াতে
শুধুমাত্র মুসলমানদেরকে সম্বোধন করে বলা হয়নি বরং সমগ্র বনি আদমকে সম্বোধন করে বলা হয়েছে এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে গুপ্তাঙ্গ আচ্ছাদন ও পোশাক। মানবজাতির একটি সহজাত প্রবৃত্তি ও প্রয়োজন। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবাই এ নিয়ম পালন করেন আয়াতে তিন প্রকার পোশাকের কথা আলোচিত হয়েছে
১/ لِبَاسًا يُوَارِي سَوْآَتِكُمْ এখানে يُوَارِي শব্দটি موارة
শব্দ থেকে এসেছে, এর অর্থ আবৃত করা। سوآت
শব্দটি سوأة এর বহুবচন এর অর্থ মানুষের ওই সব অঙ্গ, যেগুলো খোলা রাখাকে মানুষ স্বভাবগতভাবেই খারাপ ও লজ্জাকর মনে করে। উদ্দেশ্য এই যে আমি তোমাদের মঙ্গলার্থে এমন একটি পোশাক সৃষ্টি
করেছি যদ্বারা তোমরা গুপ্তাঙ্গ আবৃত করতে পারো।

২/ এরপর বলা হয়েছে وَرِيشًا – সাজসজ্জার জন্য মানুষ যে পোশাক পরিধান করে তাকে رِيش বলা হয় অর্থ এই যে গুপ্তাঙ্গ আবৃত করার জন্য তো সংক্ষিপ্ত পোষাকই যথেষ্ট হয়, কিন্তু আমি তোমাদেরকে আরও পোশাক দিয়েছি যাতে তোমরা তদ্দ্বারা সাজসজ্জা করে বাহ্যিক দেহাবয়বকে সুশোভিত করতে পারো।

৩/ لِبَاسُ التَّقْوَى ذَلِكَ خَيْرٌ -তাকওয়ার পোশাক এটি সর্বোত্তম পোশাক। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) ও ওরওয়া ইবনে যুবায়ের (রাঃ) এর তাফসীর অনুযায়ী তাকওয়ার পোশাক বলে সৎকর্ম ও
আল্লাহ ভীরুতাকে বুঝানো হয়েছে।
[সূত্র:তাফসীরে মারেফুল কুরআন]

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করছেন :-
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ
অর্থ নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসুল ﷺ এর মধ্যে
তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ। (আহযাব: ২১)

তো চলুন দেখা যাক
মহা নবী ﷺ এ বিষয়ে কি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন
★নবীজি ﷺ ইরশাদ করেছেন
من تشبه بقوم فهو منهم
যে ব্যক্তি যে জাতির সাথে সামঞ্জস্য রাখবে সে তাদের মধ্যেই গন্য হবে।
(সূত্র: আবু দাউদ হাঃ নং ৪০৩১)

সুতরাং আমাদের পোশাক যেন বিজাতীয় কোন পোশাকের সাথে সামঞ্জস্য না হয়।অতএব আমরা যা খুশি তাই পরতে পারবোনা। বরং ভিন্ন ধর্মীয় কোন পোশাক পরিধান করতেও
নবীজি ﷺ নিষেধ করে দিয়েছেন।

عن عَبْدَ اللهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَأَى رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلَىَّ ثَوْبَيْنِ مُعَصْفَرَيْنِ فَقَالَ إِنَّ هَذِهِ مِنْ ثِيَابِ الْكُفَّارِ فَلاَ تَلْبَسْهَا-

আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আছ রাঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমার পরিধানে দু’টি রঙ্গিন কাপড় দেখে বললেন,এটা কাফিরদের কাপড়। অতএব তা পরিধান করো না’
[সূত্র:মুসলিম হাঃ নং ২০৭৭]

শুধু তাই নয়, নবীজি ﷺ আমাদের পোশাকের একটি সীমানাও দিয়েছেন আর তা হলো আমাদের পরিধানের বস্ত্র যেন টাখনু গিরার নিচে না যায়, নবীজি ﷺ ইরশাদ করছেন
ما اسفل من الكعبين من الازار فى النار
টাখনুর যেই অংশ পায়জামা বা লুঙ্গি দ্বারা ঢাকা থাকবে সেই অংশ জাহান্নামে যাবে।
[সূত্র:বুখারী হাঃ নং ৫৭৮৭]

আল্লাহু আকবার কতোবড় ধমকি! তবুও আমরা এর উপরে আমল করতে চাইনা।

নবীজি ﷺ ঐ পোশাক পরিধান নিষিদ্ধ করেছেন যে পোশাক অন্যান্য মানুষের চেয়ে খ্যাতি বা প্রসিদ্ধি লাভ করার জন্য পরা হয়।

عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ لَبِسَ ثَوْبَ شُهْرَةٍ أَلْبَسَهُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ثَوْبَ مَذَلَّةٍ.

আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) বর্ণনা করেন,
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,যে ব্যক্তি দুনিয়ায় খ্যাতির পোশাক পরবে,কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে লাঞ্ছনার পোশাক পরাবেন। [ইবনে মাজাহ হাঃ নং ৩৬০৬/মিশকাত হাঃ নং ৪৩৪৬]

প্রিয় পাঠক আরো লক্ষ্য করুন- অন্য হাদিসে প্রিয় নবীজি ﷺ পুরুষদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন:
عن انس رضي اللّٰه عنــه قال نهى النبي
صلى اللّٰه عليه وسلم ان يتزعفر الرجل
হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন নবী ﷺ পুরুষদের জাফরানি রং এর কাপড় পরিধান করতে নিষেধ করেছেন
[সূত্র: বুখারী হাঃ নং ৫৮৪৬]

পুরুষদের জন্য আরো এরশাদ করেছেন
من لبس الحرير في الدنيا
لم يلبســــه في الاخــــــرة
নবী করীম ﷺ বলেছেন:যে লোক দুনিয়ায় রেশমি কাপড় পরবে, পরকালে সে তা পরবে না।
[সূত্র: বুখারী হাঃ নং ৫৮৩৩]

তবে রেশমি কাপড় মহিলাদের জন্য বৈধ
عَنْ عَلِىٍّ قَالَ أُهْدِيَتْ لِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم حُلَّةُ سِيَرَاءَ فَبَعَثَ بِهَا إِلَىَّ فَلَبِسْتُهَا فَعَرَفْتُ الْغَضَبَ فِى وَجْهِهِ فَقَالَ إِنِّى لَمْ أَبْعَثْ بِهَا إِلَيْكَ لِتَلْبَسَهَا إِنَّمَا بَعَثْتُ بِهَا إِلَيْكَ لِتُشَقِّقَهَا خُمُرًا بَيْنَ النِّسَاءِ.

আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ ﷺ কে একটা রেশমের পোশাক উপহার দেওয়া হলো পরে তিনি সেটা আমার নিকট পাঠিয়েন দিলেন। আমি সেটি পরলাম। এতে তাঁর চেহারায় অসন্তোষের
চিহ্ন দেখতে পেলাম। তিনি বললেন,ওটা তোমার নিকট এজন্য পাঠাইনি যে, তুমি পরবে। বরং এটা তোমার কাছে এজন্য পাঠিয়েছি যে, তুমি ওটা টুকরো করে ওড়না বানিয়ে মহিলাদের মধ্যে বিতরণ করবে।
[সূত্র: মুসলিম হাঃ নং ২০৬৮/মিশকাত হাঃনং ৪৩২২]

★আরো লক্ষ্য করুন: মহিলাদের জন্য নির্ধারিত বা তাঁদের পোশাকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ পোশাক, পুরুষদের পরিধান করা নিষিদ্ধ। তেমনি পুরুষদের জন্য নির্ধারিত বা তাদের পোশাকের সাদৃশ্যপূর্ণ পোশাকও, মহিলাদের জন্য পরিধান করা হারাম। হাদিস শরিফে এসেছে
لعن رسول اللّٰه صلى اللّٰه عليه وسلم
المتشبهين من الرجل بالنساء والمتشبهين
من النساء بالرجال: [رواه البخــــــــــــارى] অভিসম্পাত করেছেন নবীজি ﷺ ঐসকল পুরুষের
উপর, যারা মহিলাদের মত পোশাক পরিধান করে। এবং ঐসকল নারীদের উপর যারা পুরুষের মত পোশাক পরিধান করে। [সূত্র:বুখারী হাঃ নং ৫৮৮৫]

এরপর হাদিসে প্রিয়নবীজির পছন্দনীয় পোশাকের বর্ননাও এসেছে, যেমন উম্মে সালমা রাঃ বলেন:-
كان احب الثياب الى رسول اللّٰه
صلى اللّٰه عليه وسلم القميص
নবীজি সঃ এর পছন্দনীয় পোশাক ছিলো ক্বামিস। [সূত্র: মিশকাত শরিফ ৩৭৪ পৃঃ]

শুধু এতটুকুই নয়, নবীজি ﷺ এর এই ক্বামিস কতটুকু লম্বা ছিলো তাও হাদিসে পাকে এসেছে
عن ابن عباس رضي اللّٰه عنه انه صلى اللّٰه عليه وسلم
كان يلبس قميصا فوق الكعبين (الجامع الصغير للسيوطى
برواية ابن ماجه بحوالة مرقـــــــات: ٨\٢٤٥ باكســــــــتان)
অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্নিত আছে যে নবীয়ে আকরাম ﷺ যে ক্বামিস পরিধান করতেন তা টাখনু গিরার উপরে ছিলো। (মেশকাত)

মনে রাখবেন পোশাক দ্বারা শুধু শরীর আবৃত করাই উদ্দেশ্য নয় বরং তার পাশাপাশি সওয়াবের সাথেও সম্পর্ক রয়েছে অতএব আমাদের পোশাক ইসলামি নীতিমালা অনুযায়ী হতে হবে। যা খুশি তাই পরিধান করা যাবেনা

হেযবুতিদের ২য় ভাষ্য:

উক্ত বক্তব্যের শুরুতে লিখেছে
❝ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে কোনরূপ বাধ্যবাধকতা নেই যে পুরুষদেরকে আরবীয় জুব্বা পরিধান করতে হবে। ❞

এসব অজ্ঞ মূর্খদের উক্তির জবাবে বলি,
পবিত্র হাদিসে জুব্বার কথাও এসেছে- যার দ্বারা প্রমাণিত হয় জুব্বা অবশ্যই ইসলামি পোশাক তবে বাধ্যতামূলক নয়

حدثنى المغيرة بن شعبة رضي اللّٰه عنه قال
انطلق رسول اللّٰه صلى اللّٰه عليه وسلم لحاجته
ثم اقبل فلقيته بماء فتوضأ وعليه جبة شاميــة
মুগীরাহ ইবনে শু’বা রাঃ থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল ﷺ একদা হাজত পূরণের জন্য গেলেন। সেখান থেকে ফিরে এলে, আমি তাঁর নিকট পানি নিয়ে গেলাম। তিনি তা দিয়ে উযূ করেন। তাঁর পরিধানে ছিল সিরীয় জুব্বা।
[সূত্র: বুখারী হাঃ নং ২৯১৮]

অন্য হাদিসে এসেছে
عن سلمان الفارسي ان رسول اللّٰه صلى اللّٰه عليه وسلم
توضأ فقلب جبة صوف كانت عليه فمســـح بهاوجهــــــه
হযরত সালমান ফারসী (রাঃ) তিনি বলেন:
রাসূল ﷺ অযু করলেন এবং নিজের পরনের জুব্বা উল্টিয়ে চেহারা মুছলেন। [সূত্র: ইবনে মাজাহ হাঃ নং ৪৬৮!]

উক্ত হাদিসদ্বয়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো নবীজি ﷺ জুব্বা পরিধান করেছেন, যে ব্যক্তি নবীজি ﷺ কে ভালোবাসে সে বাধ্যবাধকতা না থাকলেও সুন্নাহ হিসেবে জুব্বা পরিধান করতে অবশ্যই পছন্দ করবে।

এরপর তাদের বক্তব্য হলো মেয়েদেরকে আপাদমস্তক বোরকা পরিধান করতে হবে। এটা নাকি বাধ্যতামূলক নয়।
নাউজুবিল্লাহ এই বক্তব্যের মাধ্যমে পর্দার মত ফরজ বিধানকে অস্বীকার করা হলো। তাফসীরে মারেফুল কুরআনে পর্দার স্তর সুন্দর ভাবে বর্নিত হয়েছে।


হেযবুতিদের ৩য় ভাষ্য:

সবশেষে তারা একটি শর্তের কথা বলেছে যে-
❝ পোশাক যেন শালীনতা পরিপন্থী না হয়। অশালীন পোশাক পরিধান করা নিশ্চয় কোন ধর্মমতেই অনুমোদিত নয়।❞
আমাদের কথা হলো, জ্বি ঠিক বলেছেন পোশাক
শালীন হতে হবে। এখন প্রশ্ন হলো কোনটা শালীন পোশাক আর কোনটা অশালীন পোশাক এটা নির্বাচন করে দিবে কে?
সেটা ঠিক করবে হেযবুত তওহীদ? না কুরআন সুন্নাহ? সোজা উত্তর-অবশ্যই কুরআন সুন্নাহই নির্বাচন করে দিবে কোন পোশাক শালীন আর কোন পোশাক অশালীন।

21) সালাত মৌলিক ইবাদাত নয়, সালাত হচ্ছে কুচকাওয়াজ,জিহাদের প্রশিক্ষণ

হেযবুত তাওহীদের বক্তব্যঃ
আমাদের আজ যারা ইসলাম শেখান তাদের ইসলাম সম্বন্ধে আকিদা বিকৃত। এই দীনের উদ্দেশ্য কী, ঐ উদ্দেশ্য অর্জনের প্রক্রিয়া কী, দীনের মূল্যবোধের গুরুত্ব অর্থাৎ Priority কী এসব তাদের বিকৃত, উল্টাপাল্টা হোয়ে গেছে। এরা ওয়াজ করেন, শিক্ষা দেন-নামাজ পড়ো নামাজ পড়ো, যেন নামাজই উদ্দেশ্য। নামাজ উদ্দেশ্য নয়, নামাজ প্রক্রিয়া, উদ্দেশ্য অর্জনের প্রক্রিয়া। সংগ্রামের মাধ্যমে সমস্ত পৃথিবীতে আল্লাহর আইনের শাসনে আনার মত দুরূহ ও বিরাট কাজের দায়িত্ব যে জাতির উপর অর্পণ করা আছে তাদের যে চরিত্র প্রয়োজন, যে কোরবানি করার শক্তির প্রয়োজন, যে ঐক্য ও শৃঙ্খলার প্রয়োজন তা সৃষ্টি করে এই নামাজ। (হিযবুত তাওহীদের ওয়েব সাইটে প্রকাশিত -নামাজের প্রকৃত উদ্দেশ্য (তৃতীয় পর্ব)- প্রবন্ধ)
সালাতের প্রশিক্ষণ শুধু আমাদের যুদ্ধ শেখায় না,সালাহ চারিত্রিক, দৈহিক, মানসিক, আত্মিক,আধ্যাত্মিক বহু প্রকারের শিক্ষা দেয় যদিও যুদ্ধের প্রশিক্ষণটাই প্রথম ও মুখ্য।সালাতের দৃশ্য পৃথিবীতে আর একটি মাত্র দৃশ্যের সঙ্গে নিলে, আর কিছুর সাথেই মিলে না,আর সেটা হচ্ছে পৃথিবীর যে কোনো সামরিক বাহিনীর কুচকাওয়াজের সঙ্গে ।(ইসলামের প্রকৃত সালাহ-২১)
সালাতকে কুচকাওয়াজ ঘোষণা দিয়েই ক্ষ্যান্ত হয় নি।বরং সালাতকে তারা কুচকাওয়াজের মতই আদায় করে।
কুচকাওয়াজের মত নব আবিষ্কৃত পদ্ধতিতে হিযবুত তাওহীদের সালাত দেখুনঃ এখানে 

পর্যালোচনাঃ
ইসলামের অন্যান্য বিধানের মতো সালাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিধানও হিযবুত তাওহীদের বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা পায় নি।অন্যান্য ইবাদাতের মতো সালাতকেও তারা জাগতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাখ্যা করার প্রয়াস চালিয়েছে ।হিযবুত তাওহীদের লিখনী হতে দুটি বিষয় ফুটে উঠেছে ।
(ক)সালাত উদ্দেশ্য নয়, উদ্দেশ্য অর্জনের প্রক্রিয়া।
(খ)সালাত হচ্ছে কুচকাওয়াজ বা জিহাদের প্রশিক্ষণ।
দুটো মতবাদই কুরআন-সুন্নাহ পরিপন্থি ।

(ক) সালাত কি উদ্দেশ্য অর্জনের প্রক্রিয়া নাকি সালাত-ই মূল উদ্দেশ্য?

◾পবিত্র কুরআন মাজীদে আল্লহ ﷻ ইরশাদ করেনঃ

اَلَّذِیۡنَ اِنۡ مَّکَّنّٰہُمۡ فِی الۡاَرۡضِ اَقَامُوا الصَّلٰوۃَ وَ اٰتَوُا الزَّکٰوۃَ وَ اَمَرُوۡا بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَ نَہَوۡا عَنِ الۡمُنۡکَرِ ؕ وَ لِلّٰہِ عَاقِبَۃُ الۡاُمُوۡرِ

তারা এমন লোক যাদেরকে আমি পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা দান করলে তারা সালাত কায়েম করবে, যাকাত দেবে এবং সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করবে। প্রত্যেক কর্মের পরিণাম আল্লাহর এখতিয়ারভূক্ত।(সূরা হজ্জ-৪১
এ আয়াত থেকে বুঝা যায় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে সালাত ,যাকাত প্রভৃতি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ।অতএব মূল উদ্দেশ্য হল সালাত,যাকাত প্রভৃতি প্রতিষ্ঠা করা এবং রাষ্ট্র তার জন্য সহায়ক।
(খ) সালাত কি কুচকাওয়াজ বা জিহাদের ট্রেনিং?
[এক] সালাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিধান,ইসলামের ৫টি রোকনের অন্যতম একটি ।সালাত এর মৌলিক উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লহ এর হুকুম পালন ও তাঁর নৈকট্য অর্জন।◾পবিত্র কুরআন মাজীদে আল্লহ ﷻ ইরশাদ করেনঃ
◾وَ اَقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَ اٰتُوا الزَّکٰوۃَ ؕ

তোমরা সালাত কায়েম কর এবং জাকাত প্রদান কর। (সূরা বাকারা – ১১০)

◾اِنَّ الصَّلٰوۃَ کَانَتۡ عَلَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ کِتٰبًا مَّوۡقُوۡتًا

নিশ্চয় সালাত মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ। (সূরা নিসা -১০৩)

◾وَ مَاۤ اُمِرُوۡۤا اِلَّا لِیَعۡبُدُوا اللّٰہَ مُخۡلِصِیۡنَ لَہُ الدِّیۡنَ ۬ۙ حُنَفَآءَ وَ یُقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَ یُؤۡتُوا الزَّکٰوۃَ وَ ذٰلِکَ دِیۡنُ الۡقَیِّمَۃِ

আর তাদেরকে কেবল এই নির্দেশ দেয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে । তাঁরই জন্য দীনকে একনিষ্ঠ করে; সালাত কায়েম করে এবং জাকাত দেয়; আর এটিই হল সঠিক দীন। (সূরা বাইয়িনা-৫)
এসকল আয়াত দ্বারা স্পষ্ট হয় যে সালাত আল্লহ ﷻ এর হুকুম।তাই তা পালন করা আবশ্যকরণীয়।

⏩সালাতের মাধ্যমে আল্লহ ﷻ এর নৈকট্য হাসিল হয়।

আল্লহ ﷻ বলেনঃ

◾সেজদা কর এবং নিকটবর্তী হও।’ (সূরা আলাক- ১৯)

এই আয়াতে নবী করীম ﷺ – কে আদেশ করা হয়েছে যে, আবু জাহলের কথায় কৰ্ণপাত করবেন না এবং সেজদা ও সালাতে মশগুল থাকুন। সিজদা করা মানে সালাত আদায় করা। অর্থাৎ হে নবী ! আপনি নিৰ্ভয়ে আগের মতো সালাত আদায় করতে থাকুন। এর মাধ্যমে নিজের রবের নৈকট্য লাভ করুন। কারণ, এটাই আল্লাহ্‌ তা‘আলার নৈকট্য অর্জনের উপায়। [কুরতুবী]

◾রাসূলুল্লাহ ‌ﷺ বলেনঃ

“বান্দা যখন সেজদায় থাকে, তখন তার পালনকর্তার অধিক নিকটবর্তী হয়। তাই তোমরা সেজদায় বেশী পরিমাণে দো‘আ কর।” (সহীহ মুসলিম-৪৮২; আবুদাউদ-৮৭৫; নাসায়ী- ২/২২৬; মুসনাদে আহমাদ-২/৩৭০)

◾আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ

قَالَ قَالَ النَّبِيُّ إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا كَانَ فِي الصَّلاَةِ فَإِنَّمَا يُنَاجِي رَبَّهُ
নাবী ﷺ বলেছেনঃ মু’মিন যখন সালাতে থাকে, তখন সে তার প্রতিপালকের সাথে একান্তে কথা বলে।(সহীহ বুখারী- ৪১৩)

এসকল আয়াত ও হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় সালাতের মৌলিক উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লহ ﷻ এর হুকুম পালন ও তাঁর নৈকট্য অর্জন।

[দুই] এছাড়াও সালাতের আরও বিভিন্ন উপকারিতা কুরআন-হাদীসে বর্ণিত হয়েছে ।সালাতের মাধ্যমে গুনাহ মাফ হয়,সালাত অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে,সালাত আনুগত্য-শৃঙ্খলা ইত্যাদি শিক্ষা দেয়।কিন্তু কুরআন ও হাদীসের কোথাও সালাতকে প্রশিক্ষণ/ কুচকাওয়াজ বলা হয় নি।তাহলে পন্নী সাহেবের দাবির ভিত্তি কি?এর ভিত্তি হচ্ছে- হাদীসে বর্ণিত সালাতের পদ্ধতিকে জাগতিক বিষয়ের সাথে তুলনা করা।

বিজ্ঞ পাঠক,নিম্নের হাদীসটি লক্ষ করুনঃ

◾হজরত আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন, এক রাতে রাসূলুল্লাহ ﷺ আমার ঘরে এসে আমার সঙ্গে শয়ন করলেন। কিছুক্ষণ পর আমাকে বললেনঃ

يا عائشة ذريني أتعبد لربي، قالت: قلت: والله إني لأحب قربك، وأحب ما يسرك، قالت: فقام فتطهر، ثم قام يصلي، فلم يزل يبكي حتى بل حجره، ثم بكى. فلم يزل يبكي حتى بل الأرض

‘হে আয়েশা! আমি আমার রবের ইবাদত করতে চাই। আমাকে যেতে দাও।’ আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমি আপনার একান্ত কাছে থাকতে চাই। আবার এও চাই যে, আপনি মহান আল্লাহর ইবাদত করবেন। তিনি বিছানা থেকে উঠে পবিত্র হয়ে সালাতে দাঁড়ালেন। তিনি কাঁদতে আরম্ভ করলেন। কাঁদতে কাঁদতে তার দাঁড়ি ভিজে গেল, মাটি ভিজে গেল। তিনি কাঁদতে থাকলেন।(ইবনে হিব্বান : ৬২০)

এই হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ সালাতকে ইবাদাত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, কুচকাওয়াজ/প্রশিক্ষণ হিসেবে নয়।

শত শত বছর ধরে চলে আসা সালাতের পদ্ধতির বিপরীতে পন্নী সাহেবের আবিষ্কৃত নতুন পদ্ধতির সালাত দেখে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে- তবে কি যুগ যুগ ধরে এই উম্মত ভুল সালাত পড়ে আসছে? অথচ হাদীসের বর্ণনা হচ্ছে -এই উম্মত একইসাথে সবাই ভ্রান্তিতে লিপ্ত হবে না।

এছাড়াও হযরত আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

◾عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَالَ ‏ “‏ إِنَّ اللَّهَ يَبْعَثُ لِهَذِهِ الأُمَّةِ عَلَى رَأْسِ كُلِّ مِائَةِ سَنَةٍ مَنْ يُجَدِّدُ لَهَا دِينَهَا ‏”‏ ‏

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ এই উম্মাতের জন্য প্রতি একশত বছরের শিরোভাগে এমন লোকের আবির্ভাব ঘটাবেন, যিনি এই উম্মাতের দীনকে তার জন্য সংস্কার করবেন।(সুনানে আবু দাউদ-৪২৯১)
এই হাদীস অনুযায়ী ইসলাম একটা দীর্ঘ সময় সময় ধরে বিকৃত থাকার কোন সুযোগ নেই।যদি পন্নী সাহেবের আবিষ্কৃত পদ্ধতি সঠিক হত,তাহলে উক্ত হাদীস অনুযায়ী ইসলামের ইতিহাসে এর নজির থাকত।সুতরাং হঠাৎ করেই নতুন পদ্ধতির সালাত পন্নী সাহেবের নব আবিষ্কৃত পদ্ধতি ছাড়া আর কিছুই নয়।
[তিন] হিযবুত তাওহীদের দাবি অনুযায়ী যদি সালাতকে জিহাদের প্রশিক্ষণ/কুচকাওয়াজ হিসেবে মেনে নেয়া হয়,তাহলে প্রশ্ন হয়,প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কি সারাজীবন একই রকম থাকে ,নাকি প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর এর গুরুত্ব কিছুটা হ্রাস পায়?সালাতকে প্রশিক্ষণ ধরা হলে জিহাদের মাধ্যমে ইসলামী হুকুমত কায়েম হওয়ার পর প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কি আগের মত বহাল থাকবে?কারণ ইসলামী হুকুমত কায়েম হয়ে গেলে জিহাদ ফরজে কিফায়া অবস্থায় থাকে। তখন কি ট্রেনিং হিসেবে সালাত এর বিধান ফরজে কিফায়া হবে নাকি সালাত সর্বাবস্থায় সকল বালেগ-বালেগার উপর ফরজে আইন ?

এছাড়াও যাদের উপর জিহাদ ফরজ হয় না,যেমন অন্ধ ও বিভিন্ন শ্রেণীর মাজুর,তাদের উপর কি সালাত ফরজ নয়?
সুতরাং উক্ত ধারণা কোনভাবেই সহীহ হতে পারে না।বরং তা দ্বীনের মধ্যে নতুন সংযোজন

22)  নাস্তিকদের বিশ্বাসের স্বাধীনতা সংরক্ষণ করা একজন ধার্মিকের কর্তব্য

হেযবুত তাওহীদের বক্তব্যঃ
নাস্তিক বা আস্তিক যে কোনোটি হওয়ার স্বাধীনতা আল্লাহই মানুষকে দিয়েছেন ।তাই যারা বিশ্বাস করেন যে নিখুঁত সৃষ্টি আছে,কিন্তু তার কোন স্রষ্টা নেই,তাদের এই বিশ্বাস করার স্বাধীনতা( Freedom of thinking) সংরক্ষণ করাও একজন প্রকৃত ধার্মিকের কর্তব্য।আল্লাহ যখন মেঘমালা থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন সেই বৃষ্টি ধার্মিকের বাড়িতেও পড়ে,আল্লাহদ্রোহীর বাড়িতেও পড়ে।আল্লাহ প্রদত্ত কোনো নেয়ামত থেকেই তারা কেউ বঞ্চিত হয় না,বৈষম্যের শিকারও হয় না।সুতরাং আল্লহর এই উদারতা ধার্মিকেরও অনুসরণীয়। (চলমান সংকট নিরসনে আদর্শিক লড়াইয়ের অপরিহার্যতা-১৩)
পর্যালোচনাঃ
কুরআনুল কারীমে এক ও অদ্বিতীয় আল্লহ ﷻ এর অস্তিত্বের বিকল্প যে কোন প্রকারের ধারণা হতে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।পবিত্র কুরআনের বাণী সমূহের প্রতি আস্থাশীল ও অকৃত্রিম বিশ্বাসী থাকার আহ্বান জানান হয়েছে। এতদসত্ত্বেও কেউ কল্পনাপ্রসূতভাবে নিত্যনতুন কর্মকান্ডে প্রবৃত্ত হলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ।মহান আল্লহ ﷻ রাসূল ﷺ -কে সতর্ককারীরূপে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। তাঁর মাধ্যমেই মানুষকে হুঁশিয়ার করেছেন।

⏩পবিত্র কুরআন মাজীদে আল্লহ ﷻ ইরশাদ করেনঃ

◾قُلۡ اِنَّمَاۤ اَنَا مُنۡذِرٌ ٭ۖ وَّ مَا مِنۡ اِلٰہٍ اِلَّا اللّٰہُ الۡوَاحِدُ الۡقَہَّارُ . رَبُّ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ وَ مَا بَیۡنَہُمَا الۡعَزِیۡزُ الۡغَفَّارُ

বলুন, আমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র এবং সত্য কোন ইলাহ্ নেই আল্লাহ ছাড়া, যিনি এক, প্রবল প্ৰতাপশালী।যিনি আসমানসমূহ, যমীন ও তাদের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছুর রব, প্রবল পরাক্রমশালী, মহাক্ষমাশীল।(সূরা সোয়াদঃ৬৫-৬৬)

◾اَمۡ خُلِقُوۡا مِنۡ غَیۡرِ شَیۡءٍ اَمۡ ہُمُ الۡخٰلِقُوۡنَ . اَمۡ خَلَقُوا السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضَ ۚ بَلۡ لَّا یُوۡقِنُوۡنَ

তারা কি স্রষ্টা ছাড়া সৃষ্টি হয়েছে, না তারা নিজেরাই স্রষ্টা ?নাকি তারা আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছে? বরং তারা দৃঢ় বিশ্বাস করে না।(সূরা তূরঃ৩৫-৩৬)

এধরনের আরও অনেক আয়াতে আল্লহ ﷻ তাঁর অস্তিত্বের জানান দিয়েছেন ।কেউ যদি তার আয়াতসমূকে অস্বীকার করে তবে তার সম্পর্কে আল্লহ ﷻ ইরশাদ করেনঃ

◾اِنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا بِاٰیٰتِنَا سَوۡفَ نُصۡلِیۡہِمۡ نَارًا ؕ کُلَّمَا نَضِجَتۡ جُلُوۡدُہُمۡ بَدَّلۡنٰہُمۡ جُلُوۡدًا غَیۡرَہَا لِیَذُوۡقُوا الۡعَذَابَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ عَزِیۡزًا حَکِیۡمًا

নিশ্চয় যারা আমার আয়াতকে প্রত্যাখ্যান করে অবশ্যই তাদেরকে আমি আগুনে পোড়াব; যখনই তাদের চামড়া পুড়ে পাকা দগ্ধ হবে তখনই তার স্থলে নতুন চামড়া বদলে দেব, যাতে তারা শাস্তি ভোগ করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (সূরা নিসা-৫৬)

নাস্তিক বলতে আমরা তাদেরকেই বুঝি যারা আল্লহ ﷻ এর অস্তিত্ব কে অস্বীকার করে।ফলে তারা আল্লহ ﷻ এর আয়াতসমূকে অস্বীকার করার মাধ্যমে নিজেদের ঠিকানা জাহান্নাম বানিয়ে নিয়েছে ।তারা ওহীর জ্ঞানকে প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের খোঁড়া যুক্তি ও প্রবৃত্তির অনুসরণ করে আল্লাহ ﷻ এর অস্তিত্বকে অস্বীকার করে থাকে।এসকল প্রবৃত্তি পূজারীদের সম্পর্কে আল্লহ ﷻ ইরশাদ করেনঃ

◾وَ اِنَّ کَثِیۡرًا لَّیُضِلُّوۡنَ بِاَہۡوَآئِہِمۡ بِغَیۡرِ عِلۡمٍ ؕ اِنَّ رَبَّکَ ہُوَ اَعۡلَمُ بِالۡمُعۡتَدِیۡنَ
আর নিশ্চিত অনেকে অজ্ঞতাবশত নিজেদের খেয়াল –খুশী দ্বারা অন্যকে বিপদ্গামী করে; নিশ্চয় আপানার রব সীমালঙ্ঘনকারীদের সম্বদ্ধে অধিক জানেন। (সূরা আনআম-১১৯)

◾وَ مَنۡ اَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ ہَوٰىہُ بِغَیۡرِ ہُدًی مِّنَ اللّٰہِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الظّٰلِمِیۡنَ

আর আল্লাহ্‌র পথ নির্দেশ অগ্রাহ্য করে যে ব্যাক্তি নিজ খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করে তার চেয়ে বেশী বিভ্রান্ত আর কে? আল্লাহ্‌ তো যালিম সম্প্রদায়কে হেদায়াত করেন না। (সূরা কাসাস-৫০)

সুতরাং প্রবৃত্তির অনুসারীরা যে পথভ্রষ্ট তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

যারা নিজেদেরকে নাস্তিক বলে দাবি করে তারা ওহীর অস্তিত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করেন ।এরূপ নাস্তিকতার দাবিদারগণও মনের গভীরে স্রষ্টার অস্তিত্বের কথা অনুভব করে।এ বিজ্ঞানময় বিশ্বের প্রতিটি সৃষ্টির মধ্যে বিরাজমান অভাবনীয় বৈজ্ঞানিক শৃঙ্খলার মধ্যে যার অস্তিত্বের সাক্ষ্য বিদ্যমান তাঁকে অস্বীকার করি বলে গায়ের জোরে দাবি করলেও বিবেক এরূপ দাবি পুরোপুরি মানতে পারে না।তবে শয়তানের প্ররোচনা ও প্রবৃত্তির তাড়নায় মনের গভীরের বিশ্বাসের অনুভূতিকে তারা বাড়তে দেয় না।নিঃসন্দেহে তাদের এসব চিন্তাধারা চরম গর্হিত এবং সীমালঙ্ঘন।

⏩পবিত্র কুরআন মাজীদে আল্লহ ﷻ ইরশাদ করেনঃ
◾وَ لَا تَعَاوَنُوۡا عَلَی الۡاِثۡمِ وَ الۡعُدۡوَانِ

এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অন্যের সাহায্য করবে না।(সূরা মায়িদা-২)

◾আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত,তিনি বলেনঃ

سَمِعتُ رَسُولَ الله صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَقُولُ مَنْ رَأى مِنْكُمْ مُنْكَراً فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ فَإنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ فَإنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ وَذَلِكَ أضْعَفُ الإيمَانِ

আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেছি, “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোন গর্হিত কাজ দেখবে, সে যেন তা নিজ হাত দ্বারা পরিবর্তন করে দেয়। যদি (তাতে) ক্ষমতা না রাখে, তাহলে নিজ জিভ দ্বারা (উপদেশ দিয়ে পরিবর্তন করে)। যদি (তাতেও) সামর্থ্য না রাখে, তাহলে অন্তর দ্বারা (ঘৃণা করে)। আর এ হল সবচেয়ে দুর্বল ঈমান।” (আহমাদ ১১০৭৪, মুসলিম ১৮৬)

আল্লহ ﷻ এর অস্তিত্ব অস্বীকারের চাইতে নিকৃষ্ট গর্হিত কাজ আর কি হতে পারে?

◾আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ

قَالَ رَسُولُ اللهِﷺ انْصُرْ أَخَاكَ ظَالِمًا أَوْ مَظْلُومًا قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم هَذَا نَنْصُرُهُ مَظْلُومًا فَكَيْفَ نَنْصُرُهُ ظَالِمًا قَالَ تَأْخُذُ فَوْقَ يَدَيْهِ

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমার ভাইকে সাহায্য কর, সে যালিম হোক অথবা মাযলুম। তিনি (আনাস) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! মাযলুমকে সাহায্য করব, তা তো বুঝলাম। কিন্তু যালিমকে কি করে সাহায্য করব? তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তার হাত ধরে তাকে বিরত রাখবে। (অর্থাৎ তাকে যুলুম করতে দিবে না)।(সহীহ বুখারী-২৪৪৪)

উপরোক্ত আয়াত ও হাদীস থেকে প্রমাণ হল যে অন্যায় ও গর্হিত কাজের প্রশ্রয় বা সংরক্ষণ নয়,বরং তা প্রতিরোধ করতে হবে।

আল্লহ ﷻ এর আয়াতের সাথে বিদ্রোহ ঘোষণা করে যারা আল্লহ ﷻ এর অস্তিত্বের অস্বীকার করে তাদের এহেন চিন্তাভাবনাকে সংরক্ষণ করা কি করে একজন ধার্মিকের কর্তব্য হতে পারে? আল্লহ ﷻ এর অস্তিত্ব অস্বীকার করার মত নিকৃষ্ট পাপকাজের সংরক্ষণ করা ধার্মিকের কর্তব্য বলে ঘোষণাকারীরা কি আদৌ তাওহীদের দল হতে পারে?

শেষের দিকে আস্তিক-নাস্তিক সকলের আল্লহ ﷻ এর নিয়ামতপ্রাপ্তি সম্পর্কে হিযবুত তাওহীদ হাস্যকর যুক্তি উপস্থাপন করেছে।সকলেই আল্লাহ ﷻ এর নিয়ামতপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে যদি নাস্তিকের বিশ্বাসের স্বাধীনতা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়,তবে চোর-ডাকাত,ব্যভিচারী ইত্যাদি অপরাধীরাও তো আল্লহ ﷻ এর নিয়ামতপ্রাপ্ত হয়ে থাকে।এখন কি তথাকথিত উদারতা ও কর্মস্বাধীনতার স্লোগানে তাদেরকেও বিচারের আওতাধীন করা থেকে বিরত থাকতে হবে?

23) পন্নী সাহেবের তথাকথিত মু’জিজা বিশ্বাস না করা মুনাফেকি

হেযবুত তাওহীদের বক্তব্যঃ
“হেযবুত তওহীদের এ মো’জেজাও অনেকেই বিশ্বাস কোরবে না, এমন কি আমার মনে হয় যারা ঘটনাস্থলে ছিল তাদের মধ্যেও অনেকে বিশ্বাস কোরবে না। তাদের মুক্তি নাই।“(আল্লাহর মোজেজা হেযবুত তওহীদের বিজয় ঘোষণা পৃঃ৬২)
“হেযবুত তওহীদে যারা আছো তারা এটার সম্বন্ধে কোন সন্দেহ রাখবে না।সন্দেহই মোনাফেকী।১০০% এর ভিতর যার মনে ৫% সন্দেহ আছে সে ৫% মোনাফেক।যার ১০% সন্দেহ আছে সে ১০% মোনাফেক।সন্দেহই মোনাফেকী।আল্লাহ কোর’আনে বোলছেন, ‘যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে’ , অর্থাৎ অসুখ, এই অসুখ বোলতে আল্লাহ বোঝাচ্ছেন এই মোনাফেকী।যে ঘটনা ২ ফেব্রুয়ারী ‘০৮ তারিখে হোয়ে গেছে তোমরা এর মধ্যে বিন্দুমাত্র সন্দেহ রাখবে না,বিন্দুমাত্র না।” (আল্লাহর মোজেজা হেযবুত তওহীদের বিজয় ঘোষণা -৬৩)
পর্যালোচনাঃ
এ ব্যাপারে সমস্ত মুসলিম একমত, যে সমস্ত অলৌকিক ঘটনা নবীদের দ্বারা সংগঠিত হয় তাকে মো’জেজা বলে এবং উম্মতের নেকবান্দাদের দ্বারা যেসব অলৌকিক ঘটনা ঘটে সেগুলোকে কারামত বলা হয়।
আরব-অনারবের সকলে একমত যে, মোজেজা নবিদের সাথে নির্ধারিত।কোনো উম্মত যদি নিজের ক্ষেত্রে মোজেজা ঘটেছে দাবি করে সে নিতান্তই একজন প্রতারক।
কিন্তু পন্নী সাহেব নিজের বেলায় দাবি করেছেন যে তার দ্বারা নাকি মো’জেজা ঘটেছে। এমনকি ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর “মো’জেজা বার্ষিকী” শিরোনামে অনুষ্ঠান করেছেন।পূর্বে তার দাবিকৃত মু’যিজার অসারতার প্রমাণ দেয়া হয়েছে ।এরকম ভিত্তিহীন মু’যিজা অস্বীকার করাকেই তিনি মুনাফেকীর মানদন্ড হিসেবে উপস্থাপন করেছেন !


————————————————————————————–
১ . সশস্ত্র জিহাদে রত নয় এমন কেউ উম্মতে মুহাম্মদী নয়!

হেযবুত তওহীদ, করটিয়া, টাঙ্গাইল থেকে প্রকাশিত “ইসলামের প্রকৃত আকীদা, ক্রমিক নং-১” নামক বইয়ে লিখা হয়েছেঃ “উম্মতে মুহাম্মদীর সংজ্ঞা হল, আল্লাহ যে কাজের দায়িত্ব দিয়ে তার রসূলকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন ও যে দায়িত্ব তিনি তার গঠিত জাতির ওপর অর্পণ করে চেলে গিয়েছেন, যে বা যারা সেই কাজ চালিয়ে যাবে শুধু তারাই উম্মতে মুহাম্মদী। যারা সেই কাজ অর্থাৎ জেহাদ চালিয়ে যাবে না তারা যত বড় মুসল্লিই হন,যত বড় মুত্তাকি, আলেম দরবেশ হন না কেন-উম্মতে মুহাম্মদী নন। হাশরের দিন তার উম্মত হিসাবে রসূলের শাফায়াতের ওপর তাদের কোন দাবী থাকবে না।“ [পৃষ্ঠা নং-১৬]


এর মানে কী দাঁড়াচ্ছে?

জিহাদরত নয়,এমন প্রতিটি মুসলমানই হেযবুত তাওহীদের আকীদায় উম্মতে মুহাম্মদীর গণ্ডি থেকে বেরিয়ে গেছে।

অথচ জিহাদ করলেই ব্যক্তি উম্মতে মুহাম্মদী থাকবে, নতুবা উম্মতে মুহাম্মদী থেকে বেরিয়ে যাবে এমন কথা কুরআন ও হাদীসের কোথাও বিদ্যমান নেই।

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এমন অনেক সাহাবীই জিহাদের ময়দানে যাওয়া ছাড়াই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। এর মানে কি তারা উম্মতে মুহাম্মদী নয়? [নাউজুবিল্লাহ বিন মিন জালিক]

২ . জিহাদ না থাকলে নামাযের কোন দাম নেই!

উপরোক্ত বইয়ের ৮ নং পৃষ্ঠায় লিখেছেঃ “ছাদ না থাকলে যেমন থামের কোনও দাম নেই, প্রয়োজন নেই, তেমনি জিহাদ সশস্ত্র সংগ্রাম না থাকলে নামাযেরও কোন দাম নেই।“

ইন্নালিল্লাহ। কী ভয়াবহ বক্তব্য। যদি জিহাদ তথা সশস্ত্র সংগ্রাম না থাকলে নামাযের কোন দাম না থাকে, তাহলে হিজরতের আগে নবীজী এবং সাহাবাগণ কেন নামায পড়েছেন?

নবীজী অসুস্থ্য হয়ে যাবার পর দুই সাহাবীর কাঁধে ভর করে কেন নামাযে গেলেন? তখনতো আর নবীজীর জিহাদে যাবার কোন সুযোগ ছিল না। তারপরও নামাযের এত গুরুত্ব নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেন দিয়েছিলেন?

“জিহাদ না থাকলে, নামায লাগবে না” দাবী করা পাগলামী বৈ আর কী হতে পারে?

৩ . নবীরা যা পারেননি তা করতে মনোনিত বায়জীদ খান পন্নী?

বায়জীদ খান পন্নীর একটি ভিডিও লেকচার ইউটিউবে পাওয়া যায়। যা আমরা আহলে হক মিডিয়ার ইউটিউব চ্যানেলে “হেযবুত তাওহীদ একটি নতুন ধর্মঃ বায়জিদ খান পন্নি যে ধর্মের নবী” শিরোনামে আপলোড করেছি।

উক্ত ভিডিও লেকচারে বায়জীদ খান পন্নী সাহেব বলেনঃ “মহাসত্য পেয়েও যেখানে নবী রাসূলদের মধ্যেও অনেকে ব্যর্থ হয়েছেন, পারেন নাই, সেখানে আমিকে সেই মু’জিজা দিয়ে, আল্লাহর রহমে, আল্লাহ অবসান করে দিলেন আমার যে, কর! হবে!”

আস্তাগফিরুল্লাহ! কি মারাত্মক কুফরী বক্তব্য! নবীরা নাকি তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। নাউজুবিল্লাহ। যেখানে নবীরা ব্যর্থ, সেখানে এ উন্মাদ বায়জীদ খান পন্নী মুজিজাসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত?!

পাগলের প্রলাপ ছাড়া এসব আর কী?

৪. জিহাদকারীর সম্মান নবীদেরও উপরে?

হেযবুত তওহীদ প্রকাশিত বইয়ে তাদের আকীদা লিখা হয়েছেঃ “তওহীদের ওপর ঈমানের পরই শ্রেষ্ঠ আমল ঐ তওহীদ প্রতিষ্ঠার জেহাদ বলেই তার পুরস্কার আল্লাহ রেখেছেন ইসলামের শ্রেষ্ট পুরস্কার ও সম্মান, যে পুরস্কার ও সম্মান কয়েকটি বৈশিষ্ঠে আল্লাহর নবীদেরও ছাড়িয়ে গেছে।“ [ইসলামের প্রকৃত আকীদা, পৃষ্ঠা-১৭]

যে নবীদের মাধ্যমে বিধান নাজিল হল, সেই নবীর সম্মানের চেয়ে বিধানপালনকারীর সম্মান বেড়ে যায়? নাউজুবিল্লাহ! এর মানে নবীদের চেয়ে তার উম্মতের মর্যাদা বেশি?

এ কোন ধর্মের দিকে আহবানকারী হেযবুত তওহীদ? যে ধর্মে নবীর চেয়ে উম্মতীর সম্মান অধিক!

৫ . হিন্দু দেবতা শ্রীকৃষ্ণ নবী ছিল?

“ভারতীয় মোসলেম চিন্তাবিদ ও এসলামিক দার্শনিকগণ শ্রীকৃষ্ণ সম্বন্ধে যেসব সুচিন্তিত মতামত রেখেছেন এবং কোর’আন হাদিসের আলোকে তাঁর সম্বন্ধে যে বক্তব্য দিয়েছেন ঐসব মতামতও বক্তব্য বিচার-বিশ্লেষণ করে এই ধারণা সৃষ্টি হয় যে, শ্রীকৃষ্ণ একজন নবী। [শোষণের হাতিয়ার, লেখক- হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম, এমাম, হেযবুত তাওহীদ, প্রকাশক-তওহীদ প্রকাশন, দ্বিতীয় প্রকাশ-২০ ফেব্রুয়ারী-২০১৫ ঈসায়ী]

নাউজুবিল্লাহি মিন জালিক। হিন্দুদের এক কাল্পনিক দেবতা নবী ছিলেন? যে কৃষ্ণ হিন্দুদের বই অনুপাতেই একজন নারীলোভী এবং আপন মামার বিবি রাধাকে ভাগিয়ে বিয়েকারী। এমন অসৎ চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি কিভাবে নবী হতে পারেন?

এরকম অনেক ভ্রান্ত আকীদার কারণে এ নতুন ফিরকাটি একটি কুফরী ফিরক্বায় পরিণত হয়েছে।

প্রকৃত ইসলামের সাথে। কুরআন ও হাদীসের সাথে এদের সামান্যতম কোন যোগসাজস নেই। এটি একটি মনগড়া নতুন মতবাদ। ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষকে ঈমানহারা করাই যাদের মূল মিশন।

তাদের নামায পড়ার পদ্ধতির মাঝেও রয়েছে ভিন্নতা। রয়েছে কবর দেবার পদ্ধতির মাঝেও।

ধর্ম এবং দেশজাতির জন্য মারাত্মক খতরনাক দল হল “হেযবুত তওহীদ”। তাই তাদের থেকে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে এদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে সবার সাধ্যমত চেষ্টা করা উচিত। সেই সাথে সামাজিকভাবেও তাদের বয়কট করা উচিত।

আল্লাহ তাআলা হেযবুত তওহীদ নামক ভ্রান্ত ফিরকাসহ সকল ভ্রান্ত দল থেকে আমাদের ঈমান ও আমলকে হিফাযত করুন। আমীন।

 

MuslimPoint Organization

About MuslimPoint Organization

MuslimPoint একটি অনলাইন ভিত্তিক ইসলামী প্রশ্নোত্তর, গ্রন্থাগার, ব্লগিং, কুরআন, হাদিস, কুইজ এবং বিষয় ভিত্তিক রেফারেন্স প্ল্যাটফর্ম।

View all posts by MuslimPoint Organization →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *