আসসালামু আলাইকুম । এখানে রেজিস্ট্রেশন না করেই অংশগ্রহণ/ব্যবহার করতে পারবেন কিন্তু সর্বোচ্চ সুবিধার জন্য বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন !
0 votes
87 views
in জীবনি by
edited by
আমাদের দেশের সার্বিক রাজনৈতিক অবস্থা মিলিয়ে যদি ভোট না দিই, তবে কি গুনাহগার হব?

1 Answer

0 votes
by (1.9k points)
edited by
আপনার প্রশ্নটাকে যদি ভালো করে বলি তাহলে প্রশ্নটি এমন হবে যে,
প্রশ্ন : আমাদের দেশের সার্বিক রাজনৈতিক অবস্থা মিলিয়ে যদি ভোট না দিই, তবে কি গুনাহগার হব?

উত্তর :
ভোট দেওয়া কি সওয়াবের কাজ? না। এটি সওয়াব বা গুনাহের কাজ কোনোটিই না। এটা ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু এটি যে দায়িত্বের বিষয়, সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। আর ভোট না দিলে তিনি গুনাহগার হবেন, ব্যাপারটি এমন নয়। কারণ এটি শরিয়তের বিধানের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। শরিয়তের ফরজ, ওয়াজিব, নফলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।

তবে নাগরিক হিসেবে একজন ব্যক্তিকে কিছু অধিকার দেওয়া হয়েছে। যেমন- দুটি মন্দ লোক মহল্লায় নির্বাচনে দাঁড়াল। এখন যদি ভালো লোকগুলো সব নীরবে ঘরে বসে থাকে, ভালো লোককে ভোট না দেয়, আর মন্দ লোক তাঁর অর্থের জোরে, মাস্তানির জোরে কিছু ভোট আদায় করে। মন্দ লোকের শাসন তো আমাদের কাম্য নয়। সেখানে দায়িত্বের জায়গাটি চলেই আসে।

মোট কথা, যেহেতু শরিয়তের বিধান না, সেহেতু কেউ যদি না চায় সে ভোট নাও দিতে পারে। আর সামাজিক দায়-দায়িত্বের দিক থেকে সেটা তার নিজস্ব বিবেচনার বিষয়। তবে কোনো সন্দেহ নেই একটি সমাজে বসবাস করলে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা, অন্যায়ের প্রতিরোধ করতে হবে। মানুষ যেহেতু সামাজিক জীব, মানুষের যেহেতু সামাজিক অবস্থান রয়েছে, সে জন্য সেখানে তাঁর দায়িত্ব যেগুলো রয়েছে, সেগুলোকে আনজাম দেওয়া কোনো কোনো সময় তাঁর করণীয়র মধ্যে পড়ে, ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করতে হবে।

তবে যেহুতু প্রচলিত গণতন্ত্র হারাম বা নাজায়েজ তাই আমাদের মতে ভোট না দেওয়াই ভালো  তবে প্রার্থী বা যিনি ভোটে দাড়িয়েছেন তিনি যদি সর্বদিক থেকে একজন ভাল লোক হয় তাহলে ভোট দেওয়া যেতে পারে কিন্তু  তিনি যদি খারাপ লোক হয় তাহলে কখনোই তাকে ভোট দেয়া যাবেনা ।

আর একটি বিষয় হলে, মহিলা বা নারীদেরকে ভোট দেওয়া যাবে না কারণ নারী নেতৃত্ব কে ইসলাম সমর্থন দেয় না।

দলিলঃ  

হযরত আবু হুরায়রা রাযি থেকে বর্ণিত
عن أبي هريرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:...............  وإذا كان أمراؤكم شراركم وأغنياؤكم بخلاءكم، وأموركم إلى نسائكم فبطن الأرض خير لكم من ظهرها.
রাসূলুল্লাহ বলেন,যখন তোমাদের মধ্যে নিকৃষ্ট মানুষ তোমাদের আমীর হবে।এবং তোমাদের মধ্যে ধণী ব্যক্তি কৃপনে পরিণত হবে,এবং তেমাদের নেতা মহিলা হবে,তখন তোমার জন্য যমিনের উপরের চেয়ে যমিনের নিচই শুভনীয়(সুনানু(তিরমিযি-২২৬৬)

الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاء بِمَا فَضَّلَ اللّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنفَقُواْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِّلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللّهُ وَاللاَّتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوهُنَّ فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلاَ تَبْغُواْ عَلَيْهِنَّ سَبِيلاً إِنَّ اللّهَ كَانَ عَلِيًّا كَبِيرًا
পুরুষেরা নারীদের উপর কৃর্তত্বশীল এ জন্য যে, আল্লাহ একের উপর অন্যের বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং এ জন্য যে, তারা তাদের অর্থ ব্যয় করে। সে মতে নেককার স্ত্রীলোকগণ হয় অনুগতা এবং আল্লাহ যা হেফাযতযোগ্য করে দিয়েছেন লোক চক্ষুর অন্তরালেও তার হেফাযত করে। আর যাদের মধ্যে অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ কর এবং প্রহার কর। যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায়, তবে আর তাদের জন্য অন্য কোন পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সবার উপর শ্রেষ্ঠ।(সূরা নিসা-৩৪)

প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী  ভাই/ বোন!
মহিলাদের জন্য রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব সহ যাবতীয় নেতৃত্ব পালন করা জায়েয হবে না।কেননা আল্লাহ কুরআনে বলেন,পুরুষরাই নারীদের নেতৃত্ব দিবে।

রাসূলুল্লাহ সাঃ
قَالَ : لَنْ يُفْلِحَ قَوْمٌ وَلَّوْا أَمْرَهُمْ امْرَأَةً
সে জাতী কখনো কামিয়াব হতে পারে না,যারা নারীকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করে নেয়।(সহীহ বুখারী-৪৪২৫)

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
আল্লাহ গঠনগত ভাবে নারীদেরকে এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যে, নারীরা নেতৃত্ব দেওয়ার উপযোক্ত নয়। তাই নারী নেতৃত্ব কে ইসলাম সমর্থন দেয় না।

আল্লাহু আলাম।

Related questions

...