আসসালামু আলাইকুম । এখানে রেজিস্ট্রেশন না করেই অংশগ্রহণ/ব্যবহার করতে পারবেন কিন্তু সর্বোচ্চ সুবিধার জন্য বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন !
+1 vote
1.9k views
in হাদিস,ফিকহ ও এর নানা শাস্ত্র by (89 points)
মাকরূহ কাকে বলে? কত প্রকার? মাকরূহ ও হারামের মধ্যে পার্থক্য কি? কোনো মাকরূহ কাজ করলে গুনাহ হয় কি?

1 Answer

0 votes
by (1.9k points)
মাকরূহ শব্দের আভিধানিক অর্থ: ঘৃণিত, নিন্দনীয়, অপছন্দনীয়। পরিভাষায়:

ما نهى عنه الشارع لا على وجه الإلزام بالترك

‘‘শরীয়ত প্রণেতা যা সাধারণভাবে কোন কিছু করতে নিষেধ করেন, আবশ্যিক ভাবে ছেড়ে দেয়ার জন্য নয়, তাকে মাকরূহ বলে।’’ যেমন: বাম হাত দ্বারা লেন-দেন করা।

আমাদের বক্তব্য: ما نهى عنه الشارع(শরীয়ত প্রণেতা যা নিষেধ করেন) এ কথা দ্বারা ওয়াজিব, মানদুব ও মোবাহ বিলুপ্ত হয়েছে।

আমাদের বক্তব্য: (আবশ্যিক ভাবে ছেড়ে দেয়ার জন্য নয়) এ কথা দ্বারা হারাম বের হয়ে গেছে। মাকরূহ কাজ আনুগত্যের ভিত্তিতে বর্জনকারী ছাওয়াব পাবে এবং তা পালনকারীকে শাস্তি দেয়া হবে না।

শরিয়তের পরিভাষায় ‘মাকরুহ’ দুই প্রকার। ১- মাকরুহ তাহরীমি ২-মাকরুহ তানযীহি।

মাকরুহ তাহরীমি এটি (إلى الحرام أقرب) হারামের কাছাকাছি। এজন্য পরিভাষায় মাকরুহ তাহরীমি বলা হয়, যা ত্যাগ করার জন্য শরিয়ত  শক্তভাবে বলেছে তবে তা (دليل ظني) তথা ধারণানির্ভর দলিল প্রমাণিত; (دليل قطعي) তথা অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত নয়। এটি সাধারণত ওয়াজিবের বিপরীতে ব্যবহার হয়। সুতরাং এধরণের মাকরুহ ত্যাগ না করলে গুনাহ আছে।

পক্ষান্তরে মাকরুহ তানযীহি এটি (إلى الحل أقرب) হালাল বা জায়েযের কাছাকাছি। এজন্য পরিভাষায় মাকরুহ তানযীহি বলা হয়, যা ছেড়ে দেয়ার জন্য শরিয়ত বলেছে, তবে শক্তভাবে বলে নি বিধায় ছেড়ে দিলে সাওয়াব আছে তবে করলে গুনাহ নেই। এটি সাধারণত সুন্নত কিংবা মুস্তাহাবের বিপরীতে ব্যবহার হয়। (আততাওযীহ ওয়াততালবীহ ২/১২৬)

হারাম ও মাকরূহের মধ্যে পার্থক্য হলোঃ হারাম কাজ সবসময়ই নিষিদ্ধ। কতিপয় হারাম কাজের জন্য শরিয়ত কর্তৃক শাস্তি নির্ধারিত রয়েছে। এছাড়া ইসলাম অনুযায়ী হারামে লিপ্ত ব্যক্তির জন্য মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে শাস্তির কথা বলা আছে। হারাম কাজের মধ্যে রয়েছে মানুষ হত্যা, চুরি-ডাকাতি, মদ্যপান, সুদের লেনদেন, ঘুষ আদানপ্রদান, ধর্ষণ, ব্যভিচার ইত্যাদি। আর, মাকরূহ বলতে বোঝায় শরীয়ত যেটাতে কোনো প্রকার বাধা প্রদান করে না, তবে যে কাজটা অপছন্দনীয়। তাছাড়া, মাকরুহ তানযীহি কাজের জন্য শাস্তি নির্ধারিত নয়।

এখন আসুন একটা উদাহরণ দিয়ে বিষয়টা আরো পরিষ্কার করা যাকঃ

যেমন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এশার ছালাতের পূর্বে ঘুমানো এবং এশার পরে কথা বলাকে অপসন্দ করতেন’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৫৮৭ ‘জলদী ছালাত আদায়’ অনুচ্ছেদ)। এখন আপনি যদি এই হাদিসটির বিপরীত কাজ করেন মানে এশার ছালাতের পূর্বে ঘুমান বা এশার সালাতের পরে অনেক বেশি কথা বলেন বা গল্প-গুজুব করেন তাহলে সেটা মাকরুহ হবে কিন্তু এটার জন্য আপনার কোন গুনাহ বা শাস্তি হবে না। তবে এটা পরিহার করাই উত্তম।

আল্লাহু আলাম।

Related questions

...