আসসালামু আলাইকুম । এখানে রেজিস্ট্রেশন না করেই অংশগ্রহণ/ব্যবহার করতে পারবেন কিন্তু সর্বোচ্চ সুবিধার জন্য বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন !
0 votes
130 views
in মাসআলা মাসায়েল by
মৃতু ব্যক্তির কেউ কান্নাকাটি করলে তার কবরের আযাব বেশি হয় -এমন কথার শারঈ কোনো ভিত্তি আছে কি?

1 Answer

0 votes
by (2.0k points)

না, এমন কথার শারঈ কোনো ভিত্তি নেই। কেননা, মহান আল্লাহ বলেন, ‘কেউ কারো পাপের বোঝা বহন করবে না (আল-আনআম, ৬/১৬৪)। তবে সমাজে যদি বিলাপ করে কান্নাকাটি করার প্রথা থাকে আর মৃত্যুর পূর্বে মৃত ব্যক্তি তা নিষেধ করে না যায়, কিংবা তার পক্ষ থেকে কান্নাকাটি করার ইশারা-ইঙ্গিত বা অনুমোদন থাকে তাহলে উপরে চিৎকার করে কান্নাকাটি করার কারণে তার কবরে শাস্তি হবে। আব্দুল্লাহ ইবনু উবাইদুল্লাহ ইবনু আবূ মুলাইকাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কায় উছমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর জনৈকা কন্যার মৃত্যু হলো। আমরা সেখানে (জানাযায়) অংশগ্রহণ করার জন্য গেলাম। ইবনু উমার এবং ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-ও সেখানে উপস্থিত হলেন। আমি তাঁদের দু’জনের মধ্যে উপবিষ্ট ছিলাম, অথবা তিনি বলেছেন, আমি তাঁদের একজনের পার্শ্বে গিয়ে উপবেশন করলাম, পরে অন্যজন আগমন করে আমার পার্শ্বে উপবেশন করলেন। (ক্রন্দনের শব্দ শুনে) ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) আমর ইবনু উছমানকে বললেন, তুমি কেন ক্রন্দন করতে নিষেধ করছ না? কেননা, আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘মৃত ব্যক্তিকে তার পরিজনদের কান্নার কারণে আযাব দেওয়া হয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/১২৮৬)। তবে নীরবে কানাকাটি করা যায়। যা দয়া ও রহমতের প্রমাণ। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলে, সা‘দ ইবনু  উবাদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রোগাক্রান্ত হলেন। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আব্দুর রাহমান ইবনু আওফ, সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস এবং আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে সঙ্গে নিয়ে তাঁকে দেখতে আসলেন। তিনি তাঁর ঘরে প্রবেশ করে তাঁকে পরিজনের মাঝে দেখতে পেলেন। জিজ্ঞাসা করলেন, তার কি মৃত্যু হয়েছে? তাঁরা বললেন, না। হে আল্লাহর রাসূল! তখন নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কেঁদে ফেললেন। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কান্না দেখে উপস্থিত লোকেরা কাঁদতে লাগলেন। তখন নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, শুনে রাখো! নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলা চোখের পানি ও অন্তরের শোক-ব্যথার কারণে আযাব দিবেন না। তিনি আযাব দিবেন এর কারণে (এ বলে) জিহ্বার দিকে ইঙ্গিত করলেন। অথবা এর কারণেই তিনি রহম করে থাকেন। আর নিশ্চয় মৃত ব্যক্তিকে তার পরিজনের বিলাপের কারণে আযাব দেওয়া হয়। উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এ (ধরনের কান্নার) কারণে লাঠি দ্বারা আঘাত করতেন, কঙ্কর নিক্ষেপ করতেন বা মুখে মাটি পুরে দিতেন (ছহীহ বুখারী, হা/১৩০৪; ছহীহ মুসলিম, হা/৯২৪)।

Related questions

...